SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

ট্রাম্পের পর এবার বিবি বিসর্জন: ১৯ বছরের রাজপাঠ ছেড়ে নির্বাসনে নেতানিয়াহু? জরুরি সরকার আইজেনকোটের, দাম বাড়ছে তেলের?

Israel Election: বড় ধাক্কা খেলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। জোটসঙ্গী ধর্মীয় দল সমর্থন প্রত্যাহার করতেই ইজরায়েলে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট।

Reported By Nabanita Sarkar Written By Nabanita Sarkar
Published: Nov 05, 2026, 07:48 PM IST | Updated: Nov 05, 2026, 08:14 PM IST
Image Credit: নেতানিয়াহুর বিদায় আসন্ন
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইজরায়েলের জাতীয় সংসদ অর্থাৎ ক্নেসেট (Knesset) ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই সমীকরণে এল এক বিরাট মোড়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য জোটসঙ্গী কট্টর ইহুদি ধর্মীয় দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ (United Torah Judaism - UTJ) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে।

একদিকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় শরিকদের সমর্থন হারানো, অন্যদিকে আরব দলগুলির সমর্থন লাভ-- সব মিলিয়ে সরকার গঠনের লড়াইয়ে নেতানিয়াহুকে টপকে বিরোধী জোটের মুখ তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের (Gadi Eisenkot) প্রথম সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রবল।

আরও পড়ুন: Explainer: ইটস ডান ব্রো: নীল সুনামির ধাক্কায় ট্রাম্প এখন খোঁড়া হাঁস, প্রেসিডেন্ট থাকলেও তিনি আসলে বন্দি-- কেন?

কেন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়াল না ধর্মীয় দল?
 

ইজরায়েলের রাজনীতিতে কট্টর অর্থোডক্স (Ultra-Orthodox) বা হারেদি সম্প্রদায়ের দলগুলো নেতানিয়াহুর প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক টানাপোড়েন এই জোটে চিড় ধরিয়েছে:

বাধ্যতামূলক সেনায় নিয়োগ বিতর্ক (Military Conscription Crisis): হামাস এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে হারেদি যুবকদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান নিয়ে দীর্ঘদিনের ছাড়পত্র বাতিল করতে কড়া অবস্থান নিয়েছিল শীর্ষ আদালত। নেতানিয়াহু সরকার এই বিষয়ে কোনো স্থায়ী আইনি সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল ধর্মীয় দলগুলি।

ত্রিশঙ্কু ক্নেসেট ও আসন হ্রাস: নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী বলয় মাত্র ৫৩টি আসনে আটকে যাওয়ায় এবং স্বয়ং এই ধর্মীয় দলগুলির আসন কমে যাওয়ায় তারা আর ডুবন্ত নৌকায় সওয়ার হতে চাইছে না।

নিরপেক্ষ অবস্থান: প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সময় ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা নেতানিয়াহু বা অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম সুপারিশ করছে না। ফলে নেতানিয়াহুর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আইজেনকোটের উত্থান ও আরব দলগুলির সমর্থন
 

যেখানে নেতানিয়াহু শিবির ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, সেখানে প্রাক্তন চিফ অফ স্টাফ গাদি আইজেনকোটের হাত শক্ত হচ্ছে:

আরও পড়ুন: ট্রাম্প মুখ থুবড়ে পড়তেই কাঁপছে মার্কিন দৈত্য: দিওয়ালির মুখেই ১ মাসের স্যালারি হাতে ধরিয়ে নিঃশব্দে চাকরি খেল গুগল

মনসুর আব্বাসের সমর্থন: নির্বাচনে ১৯টি আসন জিতে ইতিহাস গড়া আরব দলগুলির অন্যতম ‘রাম’ (Ra'am) ইতিমধ্যে গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

সংখ্যার খেলা: আইজেনকোটের নিজস্ব বিরোধী বলয়ে থাকা ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব দলগুলির আসন যুক্ত হলে তাঁরা অনায়াসে সরকার গড়ার জাদুকরী সংখ্যা ৬১ পার করে যেতে পারেন।

অভ্যন্তরীণ দ্বিধাদ্বন্দ্ব: তবে আইজেনকোটের জোটের মধ্যে থাকা কিছু কট্টর সেকুলার ও ডানপন্থী নেতা আরব দলগুলির সরাসরি সরকারে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। ফলে বাইরের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করাই হতে পারে আইজেনকোটের কৌশল।

ইজরায়েলের পার্লামেন্ট বা ক্নেসেটে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যমাত্রা হল ৬১টি আসন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও একক পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এক তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ ও ডানপন্থী সহযোগী শিবির সর্বমোট ৫৩টি আসন পেলেও, কট্টর ধর্মীয় দলগুলো সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তারা সংখ্যাধিক্য দাবি করার সুযোগ পুরোপুরি হারিয়েছে। 

অন্য দিকে, ৪৮টি আসন পাওয়া প্রধান বিরোধী শক্তি গাদি আইজেনকোটের জোট (ইয়াশার ও সহযোগীরা) এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের প্রথম ও প্রধান দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে। এই সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন মূলত আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর (রাম ও জয়েন্ট লিস্ট) হাতে; মোট ১৯টি আসন নিয়ে তারা আইজেনকোটের শিবিরকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ায় ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ভূমিকায় এবার কী পদক্ষেপ?
ইজরায়েলের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ (Isaac Herzog) সব দলের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে এমন একজনকে সরকার গঠনের নির্দেশ দেবেন, যাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার রাতে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয়ের সঙ্গেই পৃথক বৈঠক করেছেন। ধর্মীয় দলগুলি নেতানিয়াহুকে সমর্থন না করায় এবং আরব দলগুলি আইজেনকোটের পক্ষে দাঁড়ানোয়, সাংবিধানিক রীতি মেনে আইজেনকোটকেই প্রথম সরকার গড়ার জন্য ডাকতে পারেন প্রেসিডেন্ট।

মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
নেতানিয়াহুর বিদায়ের সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে:

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা: গাদি আইজেনকোট যুদ্ধের বিষয়ে কঠোর হলেও তিনি কূটনৈতিক সমাধান এবং বন্দিমুক্তি চুক্তিকে (Hostage Deal) নেতানিয়াহুর চেয়ে অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক: ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আভিভের টানাপোড়েন কমাতে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন তুলনামূলক মধ্যপন্থী জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

পুনর্নির্বাচনের ঝুঁকি: কোনও কারণে যদি আইজেনকোটও জোটসঙ্গীদের সামলে স্থায়ী সরকার গড়তে ব্যর্থ হন, তবে ইজরায়েলকে ফের এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচনের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে আপাতত বল সম্পূর্ণভাবেই নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোর্টে।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...  

ZEENEWS TRENDING STORIES