WATCH: নিকষ কালো দানব স্রোত গিলছে বাড়ির পর বাড়ি! পাড় ফাটিয়ে, ব্রিজ ভাসিয়ে ফের হড়পা বান নেপালে! আর্তনাদ-হাহাকার...
নেপালে ফের বিপর্যয়! সেই চেনা হড়পা বানেই আবার আর্তনাদ-হাহাকার... পাড় ফাটল, সেতু ভাসল! চলছে উদ্ধারকার্য
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পরের পর বিপর্যয়! মাসের পর মাস একই ছবি। অগস্টের আতঙ্ক কাটিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না নেপাল। রবি সকালের আলো ফোটার আগেই ফের আঁধারে ডুবল নেপাল। উত্তর গোর্খা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় পরের পর বাড়ি ভেসে গেল! দানবীয় জলের তোড়ে দোবান, ঘাট্টেখোলা, জগৎ, সল্লেরি এবং চুমানুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শত শত ঘরবাড়ি ধুয়ে গেল! পাড় ফাটানো বানে অন্তত ৩ থেকে ৬টি সেতু সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে সল্লেরিতে এক নির্মীয়মান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বেস ক্যাম্পও মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত! চুমানুবাড়ি গ্রামীণ পৌরসভায় গবাদি পশুর দেখভালের জন্য গোয়ালঘরে থাকা ৪ জন মানুষ নিখোঁজ! নেপাল সেনা ও পুলিস হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে,,,
কী জানা যাচ্ছে
নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গোর্খার চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি রাক্ষুসে বন্যার খবর পেয়েছিলেন। যদিও এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। চুম্নুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে এই ভয়াল বন্যার স্রোত নেমে এসেছিল। মিশ্র জানিয়েছেন সিউরিবাসের উপরের দিকে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। গ্রামীণ পৌরসভার চেয়ারম্যান নিমা লামা জানিয়েছেন যে, ভূমিধসের ফলে চুমকে খোলা জলধারাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং এরপরই বন্যা! জগত এলাকার নদীর অববাহিকায় অবস্থিত পাঁচ থেকে সাতটি বাড়ি ভেসে গিয়েছে এবং আরও কয়েকটি বাড়িও ভেসে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের বন্যা পূর্বাভাস শাখা থেকে এসএমএসে সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছিল। এতে ত্রিশূলি দোভান পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বন্যার জল নেমে না যাওয়া পর্যন্ত নদীর কাছে না যেতে এবং উঁচু স্থানে অবস্থান থাকতে বলা হয়। কাদা ও পলিমিশ্রিত জলের এই আকস্মিক বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান চলছে।
আরও পড়ুন: পলকে উধাও ২২০০০০০০০০০০০ লিটার জল! ভয়ংকর কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় দিন গুনছে বিশ্ব; কী হবে?
আর কী জানা যাচ্ছে
ভোর চারটের দিকে জলের স্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং এর তীব্র স্রোতের শব্দ দূর থেকেও শোনা যাচ্ছিল। চুম্নুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্তা নারায়ণ সাপকোটা এবং মিশ্র জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তিনি জানান আকাশপথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নেপাল সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীর ভাটির দিকে অবস্থিত স্যালারি ও জগত বাজার এলাকা ঝুঁকির মুখে এবং অনেকে ইতোমধ্যেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গিয়েছেন তাঁরা। জলের স্তর বেড়ে যাওয়ায় চুমলিং ও লোকপা-সহ নদীর তীরবর্তী বসতিগুলির বাসিন্দারাও এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আরুঘাট এলাকার পুলিশও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। লাউডস্পিকার বাজিয়ে নদীর তীরবর্তী মানুষদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ থেকেও মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে এসএমএস বার্তা পাঠানো হয়েছে। ধারণা চেকামপার এলাকায় নদীর প্রবাহ কোনও ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, সম্ভবত ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট কোনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জলের তীব্র স্রোত ধেয়ে এসেছে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)