জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মুহূর্তে মুহূর্তে আসছে হাড়হিম আপডেট। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে এবার সৌদি আরব কাঁপল ভয়াল বিস্ফোরণে। রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ বিমানবন্দরে পরপর মিসাইল হামলায় নিহত অন্তত ১২ এবং আহত ৩০০! নিহতদের মধ্যে ৪ জন সৌদির, ২জন বাংলাদেশি, ১ জন প্যালেস্টাইনের, ১জন আমেরিকার, ১ জন মিশরের, ১ জন জর্ডনের, ১ জন সিরিয়ার এবং ১ জন সুদানের নাগরিক ছিলেন। রিয়াধ বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনালে চলেছে এই হামলা। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদিতে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে হুথিরা এর আগে সৌদির তেলের পাইপলাইন উড়িয়েছিল। এবার হুথি হানায় রক্তস্নাত রিয়াধ। সৌদির ব্যস্ততম বিমানবন্দরই টার্গেট!
কী বলছে বিদেশ মন্ত্রক?
রবিবার ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'গত কয়েক দিন রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে গত ১০ অক্টোবর সেই কাপুরুষোচিত হামলাটিও হয়ছে। যার ফলে প্রাণহানি, আহতের ঘটনা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি। সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক পরিবকাঠামোর উপর এই ধারাবাহিক হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।' নয়াদিল্লি জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা দেশের জনগণ ও সরকারের পাশে রয়েছে। ভারত আশাবাদী যে, 'অচিরেই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে'। সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিবেশী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এটি ছিল তৃতীয় হামলা আর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। গত শনিবার রিয়াধগামী সব বিমান অন্য গন্তব্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়।
হুথি-সৌদি সংঘাত
ইয়েমেনে রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের সময়ের এক যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে ভেঙে পড়ার পর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে! তারা টার্গেট করেছে বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং ট্যাঙ্কার। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে চালানো ধারাবাহিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই হামলায় ৩ জন নিহত এবং একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পরেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়েছে। সৌদির এক আন্তর্জাতিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যারা ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
সৌদিকে কি সাহায্য় করবে আমেরিকা?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চালানো হামলায় তিনি 'হয়তো' যোগ দিতে পারেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় ওয়াশিংটন যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরা হয়তো যোগ দিতে পারি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। আমরা সবে এই হামলার খবর পেয়েছি, তাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।' আমেরিকার মিডিয়া জানিয়েছে যে, এর আগে সামরিক সহায়তার জন্য সৌদি আরবের করা অনুরোধগুলি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)