SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

নেতানিয়াহুর বিদায় কি আসন্ন? ভেঙে পড়ল সব হিসেব, পরের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে এই গাদি আইজেনকোট? ইজরায়েলের ভোটের রেজাল্টে বিরাট ইঙ্গিত

Israel Election: ইজরায়েল নির্বাচনে কোনও পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা (Political Deadlock)। নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ ও সরকার গঠনের ৪টি মূল পথ...

Reported By Nabanita Sarkar Written By Nabanita Sarkar
Published: Oct 30, 2026, 02:34 PM IST | Updated: Oct 30, 2026, 03:04 PM IST
Image Credit: ইজরায়েল নির্বাচনে তুমুল অচলাবস্থা, নেতানিয়াহুর বিদায় আসন্ন?
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইজরায়েলের ভোট নিয়ে সারা পৃথিবীতে তুলকালাম। যুদ্ধমত্ত নেতানিয়াহু কি আবারও প্রধামনমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করতে পারবেন? না কি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পরলেও জোট সরকার গড়বে? পার্লামেন্টারি নির্বাচনে (Knesset Election) ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসতেই ইজরায়েলের গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা (Political Deadlock) তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬১টি আসন (Majority Threshold)। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দক্ষিণপন্থী জোট কিংবা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির-- কেউই একক শক্তিতে সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি।  বর্তমানে নেতানিয়াহুর লিকুদ (Likud) নেতৃত্বাধীন ব্লক প্রায় ৫৩টি আসনে এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৮টি আসন দূরে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট পেয়েছে প্রায় ৪৮টি আসন। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর (Arab-led parties) দখলে থাকা আসন সরকার গঠনে নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।

এই জটিল পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের সামনে মূলত ৪টি পথ খোলা রয়েছে:  

১. নেতানিয়াহুর দলবদলের খেলা

নেতানিয়াহুর সামনে সবচেয়ে পছন্দের রাস্তা হল তাঁর পুরনো কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় গোঁড়া শরিকদের নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা। তাঁর ব্লক বর্তমানে ৫৩টি আসনের কাছাকাছি থমকে আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ৮টি আসন জোগাড় করতে তিনি বিরোধী শিবিরের আইনপ্রণেতাদের ভাঙিয়ে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা (Political Poaching) করতে পারেন। নেতানিয়াহু অতীতেও বিরোধী শিবিরের ফাটলকে কাজে লাগিয়ে সরকার বাঁচিয়েছেন, তবে এবার ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ, খামেইনিকে মারা, কোটি কোটি নিরীহ ইডরায়েলে গণহত্যা, অন্যায় কাজে ট্রাম্পের সাপের্ট, আর এত খয়ক্ষতির পরেও নাছেড় মানসিকতা নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া-- এইসব কারণে এই মুহূর্তে ম্যাজিক ফিগারের সেই ব্যবধান পূরণ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন কারণ তাঁর নিজের দেশের লোকই তাঁকে 'গণহত্যায়' সাপোর্ট করেনি।

আরও পড়ুন: ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি গিয়েও সংকটে নেতানিয়াহু, সংখ্যালঘুরা একজোট হতেই কোণঠাসা 'বিবি'?

২. আরব দলগুলির সমর্থনে বিরোধীদের সরকার গঠন

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ও মধ্যপন্থী দলের হাতে রয়েছে ৪৮টি আসন। দুই আরব দল-- রাম (Ra'am) এবং জয়েন্ট লিস্টের (Joint List) ঝুলিতে থাকা ১৯টি আসনকে পাশে পেলে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭-তে, যা অনায়াসেই সরকার গঠনের পক্ষে যথেষ্ট। তবে ইজরায়েলের রাজনীতিতে আরব দলগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নেওয়া নিয়ে ইহুদি দলগুলোর মধ্যে তীব্র অনীহা রয়েছে।

নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে বিদেশি আর্থিক সাহায্যের (Foreign Interference Probe) অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছেন। তাই এদের সাপোর্ট চাওয়া গাদির রাজনৈতিক ইমেজে কালি লাগতে পারে।

৩. জাতীয় ঐক্য সরকার (National Unity Government)  

যদি দুই প্রধান শিবিরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে শেষ ভরসা হতে পারে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল এবং আইজেনকোটের মধ্যপন্থী দলের যৌথ সরকার। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার (প্রায় ৬৬ আসন) কোনও অভাব হবে না এবং কট্টরপন্থীদের ওপর নির্ভরতাও কমবে। এই মডেলে প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ভাগাভাগি (Rotating Premiership) হতে পারে। কিন্তু বিরোধী জোটের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই ছিল নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করা। ফলে এমন জোটে বা শর্তে হাত মেলালে বিবির বিরোধীদের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধাক্কা খাবে। নৈতিক জয় হবে নেতানিয়াহুর।

আরও পড়ুন: ছেঁড়া জামা, যৌনাঙ্গ দিয়ে দরদর করে রক্ত গড়াচ্ছে: হোটেলের ঘরে মিস সুইজারল্যান্ডকে নারকীয় ধর্ষণ ট্রাম্পের, আমেরিকার ভোটের আগে তোলপাড়

৪. ফের সাধারণ নির্বাচন (Fresh Snap Polls)

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ (Isaac Herzog) সর্বদল বৈঠকের পর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ম্যান্ডেট দেবেন। আগামী ১০০ দিনের আলোচনার সময়সীমায় যদি কোনও পক্ষই সরকার গড়তে না পারে, তবে ইজরায়েলকে ফের নতুন নির্বাচনের (Fresh Elections) মুখে পড়তে হবে।

কিন্তু এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতানিয়াহুকে এতটা চাপে ফেলে দেওয়া প্রার্থী গাদি আইজেনকোট আসলে কে?

ইজরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন বিরোধী নেতা ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট (Gadi Eisenkot)।<source-footnote ng-version="0.0.0-PLACEHOLDER" _nghost-ng-c2847931759=""></source-footnote> তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল 'ইয়াশার' (Yashar)-- হিব্রু ভাষায় যার অর্থ 'সৎ' বা 'সোজা'-- মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী ভোটারদের একাংশকে কাছে টেনে নিয়ে নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে।

১. সামরিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Background)
 

মরক্কো বংশোদ্ভূত: 

আইজেনকোটের পরিবার মরক্কো থেকে আসা ইহুদি (Mizrahi Jew)। খেটে খাওয়া সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস-এর (IDF) সর্বোচ্চ পদ 'চিফ অব জেনারেল স্টাফ' (২০১৫–২০১৯) পর্যন্ত পৌঁছনো তাঁর ভাবমূর্তিকে সাধারণ ইজরায়েলিদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।   

'দাহিয়ে ডকট্রিন' ও যুদ্ধনীতি: 

২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধসেনা হিসেবে 'দাহিয়ে ডকট্রিন' (Dahiyeh Doctrine) প্রয়োগ করেছিলেন, যা শত্রুপক্ষের সামরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামোর ওপর অপ্রতিরোধ্য শক্তিপ্রয়োগের নীতি বলেই মনে করা হয়।   

যুদ্ধ মন্ত্রিসভা ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিরোধ: 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর তিনি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিশেষ 'ওয়ার ক্যাবিনেট'-এ যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব এবং হামাসকে সামরিকভাবে পুরোপুরি শেষ করার বিভ্রান্তিকর দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে আট মাস পর পদত্যাগ করেন।   

ব্যক্তিগত ক্ষতি ও ত্যাগ: 

গাজা যুদ্ধে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র গাল আইজেনকোট এবং দুই ভাগ্নে নিহত হন। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাঁকে সাধারণ মানুষের চোখে সহানুভূতিশীল, দয়ালু এবং ইসরায়েলের স্বার্থে আত্মত্যাগী নেতার তকমা দিয়েছে।   

২. মূল রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতি (Policy Stance)

নিরাপত্তা ও প্যালেস্টাইন নীতি: গাদি নেতানিয়াহুর চরমপন্থী শরিকদের বিরোধী হলেও জাতীয় সুরক্ষায় কট্টরপন্থী অবস্থান (Security Hawk) রাখেন। স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র বা 'দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান' (Two-State Solution)-এর ঘোর বিরোধী। তবে পশ্চিম তীরে কট্টরপন্থীদের হিংসা ('ইহুদি সন্ত্রাস') কঠোর হাতে দমনের পক্ষপাতী।   

আল্ট্রা-অর্থোডক্স বাধ্যতামূলক সেনায় যোগ দিয়ে দেশসেবা: 

ইজরায়েলের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ ও সেনার সবচেয়ে বড় দাবি-- অর্থোডক্স ইহুদিদের (Haredi) বাধ্যতামূলক সামরিক বা সামাজিক সেবার আওতায় আনা। আইজেনকোট এই ছাড় পুরোপুরি তুলে নেওয়ার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিচারব্যবস্থা: 

গাদি নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত বিচারবিভাগীয় সংস্কার বাতিল করে আইনের শাসন ও আদালতের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সঙ্গেই ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা।   

৩. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকার গঠনের সমীকরণ (Future Plans & Scenarios)   

চরমপন্থীদের বাদ দিয়ে সরকার গঠন: 

আইজেনকোটের প্রাথমিক লক্ষ্য হল নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টরপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখা।   

সংখ্যালঘু সরকার (Minority Government): 

পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) না পেলে তিনি মনসুর আব্বাসের দল 'রাম' (Ra'am) বা আরব দলগুলোর বাইরে থেকে পাওয়া সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে সরকার চালানোর বিকল্প বিবেচনা করছেন। তবে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি জোট বাঁধতে তিনি অস্বস্তিবোধ করেন।   

ঐক্য সরকার ও নেতৃত্বের পালাবদল: 

দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে লিকুদের সঙ্গে একটি 'জাতীয় ঐক্য সরকার' (National Unity Government) গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী পদ পালাক্রমে (Rotating Premiership) ভাগ হতে পারে। তবে আইজেনকোটের স্পষ্ট শর্ত-- নেতানিয়াহুর মতো দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতার অধীনে কাজ করা সম্ভব নয়।

২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইজরায়েলে যেভাবে দফায় দফায় নির্বাচন হয়েছিল, সেই স্মৃতি আবারও ফিরে আসতে পারে। আর নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী (Caretaker PM) হিসেবে কুর্সিতে থেকে যাবেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...  

ZEENEWS TRENDING STORIES