SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

Explainer: ইটস ডান ব্রো: নীল সুনামির ধাক্কায় ট্রাম্প এখন খোঁড়া হাঁস, প্রেসিডেন্ট থাকলেও তিনি আসলে বন্দি-- কেন?

Donald Trump lost in mid term election: ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকলেও কি আইন পাস বা বাজেট বরাদ্দ করতে পারবেন? জানুন মার্কিন কংগ্রেসের 'চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স' নীতি এবং ট্রাম্পের 'লেম ডাক' হয়ে ওঠার নেপথ্য সমীকরণ।

Reported By Nabanita Sarkar Written By Nabanita Sarkar
Published: Nov 04, 2026, 01:32 PM IST | Updated: Nov 04, 2026, 02:28 PM IST
Image Credit: মিড টার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার মিড টার্ম নির্বাচনে ভরাডুবি ট্রাম্পের। সারা পৃথিবীর অর্থনীতি, সমাজনীতি, আইন অনেক কিছুই নির্ভর করে আমেরিকার উপর।

প্রশ্ন: ভোটে হেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকবেন, প্রেস ব্রিফিং করবেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন-- কিন্তু চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো দেশ চালাতে পারবেন কি?

উত্তর: না। 

আমেরিকার রাজনৈতিক কাঠামো এমন এক জটিল ফর্মুলায় তৈরি, যেখানে প্রেসিডেন্ট সর্বশক্তিমান নন। বিরোধী শিবির যদি আইনসভায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও একজন রাষ্ট্রপ্রধান 'দাঁত-নখহীন বাঘ' বা রাজনীতির ভাষায় যাকে বলে ‘লেম ডাক’ (Lame Duck President)। আমেরিকার রাজনৈতিক ছবিতে এখন ট্রাম্পের সামনে ঠিক কী কী সাংবিধানিক বাধা আসতে পারে? বুঝে নেওয়া যাক ধাপে ধাপে।

১. নতুন কোনও আইন পাস করানো প্রায় অসম্ভব

মার্কিন সংবিধানে পার্লামেন্ট বলে কিছু নেই, সেখানে আইন তৈরির দায়িত্ব 'ইউএস কংগ্রেস' (US Congress)-এর হাতে। কংগ্রেসের দুটি কক্ষ-- হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) এবং সেনেট (Senate)। ট্রাম্প যদি কোনও বিতর্কিত বিল পাস করাতে চান, তবে ডেমোক্র্যাট এবং বিরোধী শিবিরের আপত্তিতে তা আটকে যেতে বাধ্য। আইনসভায় সংখ্যাধিক্য না থাকলে প্রেসিডেন্টের কোনও স্বপ্নের প্রকল্পই আইনের রূপ নিতে পারে না।

আরও পড়ুন: 'আমাদের জীবনের শেষের সময় আগত': মে-ডে কলের পরেই মিসাইলের মতো ৩০ হাজার ফুট নীচে আছড়ে পড়ল বিমান, ভয়ংকর  

২. আটকে যাবে অর্থভাণ্ডার

'পাওয়ার অব দ্য পার্স' প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে বড় বাধা তহবিলের অভাব। মার্কিন সংবিধানে সরকারি কোষাগারের চাবিকাঠি বা 'পাওয়ার অব দ্য পার্স' (Power of the Purse) সম্পূর্ণভাবে কংগ্রেসের হাতেই রয়েছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলা হোক কিংবা ট্রাম্পের বহুল আলোচিত 'মাগা' (MAGA) এজেন্ডা-- কোনও পরিকল্পনাই এক পয়সা বাজেট বরাদ্দ ছাড়া কার্যকর হবে না।

সরকার পরিচালনার জন্য বার্ষিক ফেডারেল বাজেট (Federal Budget) অনুমোদন নিতেই হবে আইনসভা থেকে। বিরোধীরা অনড় থাকলে বারবার 'গভর্নমেন্ট শাটডাউন' (Government Shutdown)-এর ঝুঁকি তৈরি হবে।

৩. ইমপিচমেন্ট ও তদন্তের খড়্গ

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ যদি বিরোধীদের কবজায় থাকে, তবে তারা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারে। অর্থনৈতিক লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তারা প্রেসিডেন্টের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করতে সক্ষম। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে তারা আবারও ইমপিচমেন্ট (Impeachment) বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার রাজনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

৪. বিচারক বা গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক নিয়োগে জটিলতা

ফেডারেল জজ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কিংবা শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ কেবল প্রেসিডেন্টের সইয়ে হয় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় সেনেটের অনুমোদন বা 'কনফার্মেশন' (Senate Confirmation)। বিরোধী বা মধ্যপন্থী সেনেটরদের আপত্তি থাকলে ট্রাম্পের পছন্দের উগ্র-ডানপন্থী কোনও বিচারক বা আধিকারিকের আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।  

৫. আটকে যেতে পারে বড় মাপের আন্তর্জাতিক চুক্তি

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্পের অনেক ঘোষণাই তাৎক্ষণিক চমক তৈরি করতে পারে, কিন্তু বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা প্রতিরক্ষা বরাদ্দ সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি কংগ্রেসে আটকে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা বিরোধীদের রয়েছে। বড় অঙ্কের বৈদেশিক সাহায্য বা যুদ্ধ তহবিলের অনুমোদন প্রেসিডেন্টের একার এখতিয়ারে নেই।

তবে কি ট্রাম্প পুরোপুরি ক্ষমতাহীন?

তা কিন্তু নয়। কংগ্রেসের বাইরেও প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে 'এক্সেকিউটিভ অর্ডার' (Executive Orders) জারির ক্ষমতা। অভিবাসন নীতি কঠোর করা, পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র বাতিল বা ফেডারেল এজেন্সিগুলোর প্রশাসনিক নির্দেশনায় ট্রাম্প দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তবে তারও একটি বড় বাধা রয়েছে-- এই প্রশাসনিক নির্দেশগুলোকে যেকোনও মুহূর্তে আদালতে বা বিচারবিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়, এবং আদালতের নির্দেশে তা স্থগিত হয়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, আমেরিকার সংবিধানে থাকা ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ (Checks and Balances) নীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতার রাশ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিদায় কি আসন্ন? ভেঙে পড়ল সব হিসেব, পরের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে এই গাদি আইজেনকোট?

যদি ট্রাম্পকে ইমপিচ করা হয়, সরানো হয়, তাহলে তার পদ্ধতি কী? তখন মসনদে কে বসবে?

মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করার চূড়ান্ত আইনি ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হল ইমপিচমেন্ট (Impeachment) বা অভিশংসন। দেশটির সংবিধানের ধারা ২, অনুচ্ছেদ ৪ (Article II, Section 4) অনুযায়ী, দেশদ্রোহিতা (Treason), ঘুষ গ্রহণ (Bribery), অথবা গুরুতর কোনও অপরাধ ও অসদাচরণের (High Crimes and Misdemeanors) অভিযোগে রাষ্ট্রপ্রধানকে ইমপিচ করা যায়।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষ-- হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) এবং সিনেট (Senate)-এর মাধ্যমে দুটি পৃথক ধাপে সম্পন্ন হয়।

ধাপ ১: 

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অভিযোগ গঠন ও ভোট (The House)
হাউসের ভূমিকা অনেকটা একটি গ্র্যান্ড জুরির মতো-- তারা তদন্ত করে দেখে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার মতো প্রমাণ আছে কি না।

তদন্ত ও রেজোলিউশন: সাধারণত হাউসের জুডিশিয়ারি কমিটি (House Judiciary Committee) অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করে এবং শুনানির আয়োজন করে।

আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট (Articles of Impeachment): তদন্তের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তালিকা তৈরি করা হয়, যাকে আইনি ভাষায় ‘আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট’ বলে।

সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভোট (Simple Majority): কমিটির পর পুরো হাউসে এই ধারাগুলোর ওপর ভোটাভুটি হয়। হাউসের ৪৩৫ জন সদস্যের মধ্যে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা-- অর্থাৎ কমপক্ষে ২১bটি ভোট পেলেই প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইমপিচড’ (Impeached) হন।

মনে রাখা জরুরি: হাউস ইমপিচ করলেই প্রেসিডেন্ট পদ হারান না। এটি কেবল তাঁর বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা অভিযোগ গঠনের সমতুল্য।

ধাপ ২: 

সিনেটে বিচার ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (The Senate Trial)
হাউসে প্রস্তাব পাস হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য পাঠানো হয় ১০০ সদস্যের সিনেটে। সেখানে প্রক্রিয়াটি একটি প্রকাশ্য আদালতের রূপ নেয়।

বিচারকের ভূমিকা: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) এই বিশেষ ট্রায়ালে বিচারপতির আসন গ্রহণ করেন।

প্রসিকিউটর ও ডিফেন্স: হাউস থেকে কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে 'হাউস ম্যানেজার' হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বা প্রসিকিউটর হিসেবে অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্টের নিজস্ব আইনজীবীদের দল তাঁর পক্ষে সাফাই বক্তব্য দেন।

সিনেটররা জুরি: ১০০ জন সিনেটর এই বিচারে জুরির দায়িত্ব পালন করেন।

ইমপিচমেন্ট পাসের আইনি নিয়ম ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা
বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রতিটি ‘আর্টিকেল’-এর ওপর সিনেটররা ভোট দেন। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে আইনটি অত্যন্ত কঠোর:

কক্ষ-  হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস                                      
প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা-   সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Simple Majority: ৫০% + ১)                          

ফলাফল- প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হন (ইমপিচড)
        
কক্ষ- সিনেট    
প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা- দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Supermajority: ৬৭%)
ফলাফল- প্রেসিডেন্ট পদচ্যুত হন

দুই-তৃতীয়াংশের নিয়ম (Supermajority): সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৬৭ জন) যদি কোনো একটি অভিযোগেও প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করেন, তবেই প্রেসিডেন্ট পদচ্যুত হন।

ট্রাম্পের ভবিষ্যত কী? প্রেসিডেন্ট দোষী প্রমাণিত হলে সেনেট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে তাঁকে ভবিষ্যতে যেকোনও ফেডারেল বা সরকারি পদের জন্য চিরতরে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে।

মার্কিন ইতিহাস

আমেরিকার আড়াইশো বছরের ইতিহাসে তিনজন প্রেসিডেন্ট হাউসে ইমপিচড হয়েছেন--অ্যান্ড্রু জনসন (১৮৬৮), বিল ক্লিনটন (১৯৯৮), এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (২০১৯ ও ২০২১ সালে দু'বার)। কিন্তু এদের কাউকেই সিনেট দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি। ফলে মার্কিন ইতিহাসে কোনও প্রেসিডেন্টই শেষ পর্যন্ত ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হননি। রিচার্ড নিক্সন (১৯৭৪ সালে) সিনেটে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে ভোটাভুটির আগেই নিজে থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...  

ZEENEWS TRENDING STORIES