প্রার্থী করার নামে ৫-৬ লক্ষ টাকার প্রস্তাব? মোস্তাক আলমের বিরুদ্ধে এআইসিসিতে অভিযোগ ঈশার
মালদহ কংগ্রেসে গোষ্ঠীকোন্দল ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে। জেলা সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী মোস্তাক আলম ও মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে এআইসিসিকে চিঠি দিয়েছেন। অডিয়ো ক্লিপ-সহ অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার দাবি করেছেন ঈশা, যদিও দুই নেতাই বিষয়টি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।
রণজয় সিংহ: মালদহর কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে বর্ষীয়ান নেতা মোস্তাক আলম গোষ্ঠী ও বর্তমান জেলা সভাপতি তথা মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর গোষ্ঠীর কলহে সরগরম জেলার রাজনীতি। হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মোস্তাক আলম এবং জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য তথা বিধানসভা নির্বাচনে ইংরেজবাজার কেন্দ্রের হাত প্রার্থী মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে এআইসিসিকে চিঠি দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী ৷ যদিও এনিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি ঈশা ৷ মুখ খুলতে নারাজ মোস্তাক আর মাসুদও ৷
সম্প্রতি ঈশা খান চৌধুরী এআইসিসির নেতা কেসি বেণুগোপালকে চিঠি দিয়ে জানান, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের এক নেতাকে প্রার্থী করার জন্য মোস্তাক আলমকে পাঁচ থেকে ছ’লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় ৷ মোস্তাক সেই টাকা নিতে অস্বীকার করেননি ৷ এই টাকা শুধু মোস্তাক নয়, দলের একাধিক নেতার কাছে যাওয়ার কথা ছিল ৷ তাঁদের মধ্যে এআইসিসির একজন নেতার নামও পাওয়া যাচ্ছে ৷ ঈশার দাবি, এই ডিলের অডিয়ো ক্লিপ তাঁর কাছে রয়েছে ৷
ঈশার আরও অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোস্তাক মিম-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিলেন ৷ রতুয়া এবং মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মিম প্রার্থীকে দাঁড় করানো নিয়ে এক মিম নেতার সঙ্গে ফোনে আলোচনাও করেন ৷ এমনকী মালতিপুর কেন্দ্র নিজের ঘনিষ্ঠ একজনকে মিমের টিকিট দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি। ওই মিম নেতাকে তিনি পরামর্শও দেন, এই দুই কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে তাঁরা যেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে এলাকায় নিয়ে আসেন ৷ নির্বাচনে সব ধরনের সাহায্য করার জন্য মোস্তাক নাকি মিমের কাছেও টাকা দাবি করেন ৷ ঈশা দাবি করেন, এই অভিযোগের সমস্ত প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে ৷
ওই চিঠিতে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী, কেসি বেণুগোপালকে জানান, তিনি চিঠির সঙ্গে চারটি অডিয়ো ক্লিপ পাঠিয়ে দিচ্ছেন৷ প্রয়োজনে অডিয়ো ক্লিপগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষা করানো যেতে পারে ৷ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতাকে ঈশার আবেদন, সব কিছু খতিয়ে দেখে মোস্তাক এবং মাসুদের বিরুদ্ধে দল যেন কঠোর পদক্ষেপ করে ৷ তা না হলে মালদা জেলার দলীয় কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হবে ৷
এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে সংযমী ঈশার বক্তব্য, 'এটা পুরোপুরি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় ৷ দলের কোনও নেতা কিংবা নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে ৷ আমার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছিল, আমি নাকি বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বিক্রি করেছি ৷ কিন্তু অভিযোগ করলেই হবে না ৷ তার প্রমাণও দেখাতে হবে ৷ আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারেনি ৷ যেহেতু বিষয়টি পুরোপুরি দলীয়, তাই সংবাদমাধ্যমকে এনিয়ে কিছু বলতে চাই না ৷'
একই কথা মোস্তাকেরও ৷ তিনি বলেন, 'দলে কারও বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকতেই পারে ৷ কারও বিরুদ্ধে এআইসিসিতে অভিযোগ দায়েরও হতে পারে ৷ দলই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে ৷ আমরা কংগ্রেসের কর্মী ৷ দলকে শক্তিশালী রাখা আমাদের দায়িত্ব ৷ আমরা সেই কাজ করে যাব ৷ এই বিষয়ে আমি কিছু বলব না ৷'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)