রণজয় সিংহ: জেলা পরিষদের পর মালদা ইংরেজবাজার পুরসভাতেও দখল নিতে চলেছে বিজেপি। ২৯ আসন বিশিষ্ট এই পুসভাতে বিজেপির তিনজন সদস্য। পুরসভার চেয়ারম্যান হতে চলেছে বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা পুরসভার বিরোধী দলনেতা অম্লান ভাদুরী। ভাইস চেয়ারম্যান সম্ভবত তৃণমূলের সুমালা আগরওয়ালা।
বিজেপির দখলে ইংরেজবাজার পুরসভা
পুরসভা নির্বাচনের পর ইংরেজবাজার পুরসভার ২৯টি আসনের মধ্যে অবিভক্ত তৃণমূলের দখলে যায় ২৫টি আসন। একটি আসন নির্দল। তিনটি বিজেপির আসন। পুরসভার চেয়ারম্যান হন তৃণমূলর দাপুটে নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়ালা পুরসভা পরিচালনা করছেন। এই অবস্থায় পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা রয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে পুরসভার চেয়ারম্যান পদে বসতে চলেছেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা ইংরেজবাজার বিধানসভার বিধায়ক অম্লান ভাদুরী।
প্রথমবার সভাধিপতি বিজেপির
প্রসঙ্গত, গতকালই পঞ্চায়েতের ইতিহাসে প্রথমবার মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির সদস্য। ২০ জন তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যের সমর্থনে সভাধিপতি নির্বাচিত হন মালদার হবিবপুর থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করা সদস্য দিপালী বালা। তৃণমূল সদস্যদের একটা বড় অংশ বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি হন তৃণমূলের টিকিটে জয়লাভ করা সদস্য লিপিকা বর্মন ঘোষ। সহকারি সভাধিপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বিজেপি। জেলা পরিষদের এই নতুন সমীকরণ নিয়ে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূরও।
৪৩ আসন বিশিষ্ট মালদা জেলা পরিষদ। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন লিপিকা বর্মন ঘোষ। বিজেপি চারটি ও কংগ্রেস পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছিল সেই নির্বাচনে। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ১৯ জন সদস্য সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ডাকেন। পদত্যাগ করেন সভাধিপতি ও সহকারি সভাধিপতি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সোমবার মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কোন সমীকরণে সভাধিপতি বিজেপির দিপালী বালা?
সেই নির্বাচনে সভাধিপতি পদে বিজেপি সদস্য দিপালী বালার নাম প্রস্তাব করেন বিজেপির সদস্যরা। সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন মমতাপন্থী তৃণমূলের ২০ জন সদস্য। সহকারি সভাধিপতি নির্বাচনে অবশ্য প্রার্থী দেয়নি বিজেপি। সেখানে মমতাপন্থী তৃণমূলের পক্ষে লিপিকা বর্মন ঘোষের নাম প্রস্তাব করা হয়। এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের কুড়ি জন সদস্য। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হোন লিপিকা বর্মন ঘোষ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)