অয়ন ঘোষাল: ভূতনির ত্রাতা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় বসে নয়, পুজোর মুখে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ বিলি করলেন তিনি। আকাশ পথে ঘুরে দেখলেন প্লাবিত এলাকা। ঘোষণা করলেন ২৪২ কোটি টাকার প্যাকেজ।
প্রতিবছরই একই ছবি
প্রতিবছরই একই ছবি। বর্ষা এলেই ডুবে যায় মালদহে মানিকচকের ভূতনি। চারিদিকে শুধু জল আর জল। স্থানীয় বাসিন্দা দুর্দশা শেষ নেই। এদিন ত্রাণ বিলি কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের মানিচকের ভূতনি এলাকা, রতুয়ার আংশিক এবং ইংরেজবাজারের কয়েক গ্রাম আবার জলপ্লাবিত। এবং ভীষণ কষ্টের মধ্য়ে গত কয়েক সপ্তাহ আপনারা কাটাচ্ছেন। প্রত্যেক বছরই এমন পরিস্থিতি হয়। কারণ, বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে এই রাজ্যে যারা শাসন করেছেন, তারা আপনাদের সমস্যার সমাধান করেননি। আপনারা অনেক আশা করে যাঁদেরকে বিধায়ক করেছিলেন, মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁরা আপনাদের এই দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার কাজ করেননি'।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, আমি প্রথম দিন থেকে যোগাযোগে ছিলাম, প্রত্যেকের সঙ্গে। আপনারা ভাববেন না যে, মুখ্যমন্ত্রী শুকনো জায়গায় এসে ত্রাণ, উপহার ক্ষতিপূরণ, বিতরণ এবং ভাষণ দিয়ে তাঁর কাজ শেষ করবে। আমি পূর্ণিয়াতে নেমে হেলিকপ্টার যোগে সমগ্র ভুতনি এবং রতুয়ার ভাঙন এলাকা, প্লাবিত এলাকা, প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে আকাশ পথে প্রত্যেক গ্রাম, এলাকা, রাস্তা, বাঁধ, নিজের চোখে দেখে, মোবাইলে ক্যামেরায় ভিজিয়ো বন্দি, এই যন্ত্রণা থেকে স্থায়ীভাবে আপনাদের মুক্তি দেওয়া অঙ্গীকার নিয়ে কলকাতা ফিরে যাব'।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও বক্তব্য, 'এনডিআরএফ সহ সমস্ত জাতীয় এবং রাজ্যের এজেন্সি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। আলাদা করে জোয়েল মুর্মু এবং খগেন মুর্মুর কথা বলতেই হয়। তাদের আমি জোহার জানাই। ২৪২ কোটি টাকার মোট ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ দিলাম। আগে এখানে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন? দুর্গাপুজোর জন্য আমার বানভাসীদের জন্য ৫০০০ পরিবারকে পুজোর নতুন পোশাক দিয়ে গেলাম'। বলেন,' আগের সরকারের পোশাক নয়। ওগুলো পর্দা বানানোর কাপড় ছিল। আমি পুরো পরিবারের সবার জন্য ভালো জামাকাপড় দিয়ে গেলাম'।
কেন্দ্রকে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'একটাও ডায়রিয়া নেই একটাও সাপে কাটা কেস নেই। আমি জেলা প্রশাসনকে কুর্নিশ জানিয়ে গেলাম। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুদের বাঁচানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছি'। জানান, স্থায়ী সমাধানের জন্য মুখ্যসচিব কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলাম। কানপুর আইআইটি কে দায়িত্ব দিলাম। ৩৩০০ কোটি টাকার প্রপোজাল কেন্দ্রকে পাঠিয়েছি। আপাতত ৫০০ কোটি মঞ্জুর হয়েছে। আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যালামিটি রিলিফ ফান্ড নিত না, ব্যবহার করত না। আমার একাধিক দফতর একসঙ্গে কাজ করবে'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)