মৌমিতা চক্রবর্তী, নান্টু হাজরা: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা। পূর্ব যাদবপুরে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বাড়িতে হামলার অভিযোগে জোর চাঞ্চল্য। ভোরে মুখ ঢেকে হামলা চালায় গুন্ডারা, বিস্ফোরক অভিযোগ বিকাশরঞ্জনের।
বিকাশবাবুর অভিযোগ, ভোরবেলায় ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা নাগাদ কেউ বা কারা বাইক নিয়ে আসে। তাদের মুখ বাঁধা অবস্থায় ছিল। বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের তরফে অভিযোগ। তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টও করেছেন যে, বাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, জানলার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বাড়িতে যিনি সহায়িকার কাজ করেন, তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনা নিয়ে পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী তথা সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
সোশ্য়াল মিডিয়ায় বিকাশবাবু লেখেন, 'আজ সকাল ৫ টা নাগাদ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা হামলা চালাল আমার বাড়িতে। মোটর বাইকে করে এসে মদের বোতল ছুঁড়ে জানলা র কাঁচ ভেঙে পালিয়ে গেছে। অল্পের জন্য আমার কাজের সহায়িকা বেঁচে গেছে।' অন্য একটি পোস্টে তিনি আরও লেখেন, 'গুন্ডারা এসেছিল মুখ ঢেকে, মোটর বাইকের নাম্বার প্লেট ঢেকে। খুব পরিকল্পিত আক্রমণ। এরা যদি সন্ত্রাসী না হয় তবে কারা? ঐসব সন্ত্রাসীরা জেনে রাখুন, আমাকে ভয় দেখানো যাবে না। এবার আমি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেব।'
হামলার সেই গোটা দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, উল্টোদিকের বাড়ির সামনে বাইক দাঁড় করিয়ে এক যুবক ব্যাগ থেকে পরপর মদের বোতল বের করছে। দোতলার জানলা লক্ষ্য করে সে সজোরে বোতলগুলো ছুড়ে মারে। হামলায় জানলার কাচ ভেঙে চৌচির হয়ে ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। এমনকী বাড়ির একটি সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলা হয়।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, 'ভোর ৫টা নাগাদই একটা খুব জোর আওয়াজ। দুটি মেয়ে আছে কাজ করে, তারা আতঙ্কিত হয়ে উঠে বলল, "কাকু শিগগির ওঠো, বাড়ির ওপর আক্রমণ হয়েছে।" ওইটা ভেঙেছে, ওটা ভেঙেছে। এখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল ভেঙেছে। আমি সিসিটিভিতে দেখলাম, একটি ছেলে মোটরবাইকে এসেছে। তার মোটরবাইকের নাম্বার প্লেটটা ঢাকা, তার মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা। এসেই যেমন হয়, যা করে হিন্দুত্ববাদীরা, অশ্রাব্য গালাগালি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাকে তো সোশ্যাল মিডিয়াতেও ওরা অনবরত গালমন্দ করে, ওগুলো আমি পাত্তা দিই না। এখন দেখছে গালমন্দ করে কিছু হচ্ছে না, এবারে একটু কী বোতলবাজি করে দেখি। বোম তো নয়, বোতলবাজি। এরপর হয়তো বোমবাজি করবে। ওদের হাতে যত অস্ত্র আছে ওরা ব্যবহার করবে। আমি আজকে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি কমিশনার অফ পুলিসের কাছে একটা রিভলবারের লাইসেন্স চাইব। আমি রিভলবার আমার সঙ্গে থাকবে, লাইসেন্সড রিভলবার। আশেপাশে যাদের দেখব, তারা যেন প্রস্তুত থাকে। গুন্ডাদের সঙ্গে মোকাবিলা করার পদ্ধতি কী আমার জানা আছে।'
এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তিনি বলেন, 'জিনিসটা খুবই নিন্দনীয়। কারোর বাড়িতে গিয়ে এই ধরনের হামলা যদি কোনো সভ্য সমাজে চলে, তাহলে সেটাকে সভ্য তা বলা যাবে না। বিকাশবাবু আমাদের মতান্তর থাকলেও তিনি একজন বরিষ্ঠ আইনজীবী। শুধু তাই নয়, তিনি একটি নির্দিষ্ট মতবাদের দলের নেতা, কমিউনিস্টদের তিনি নেতা। তাঁর কার্যকলাপ, তাঁর বিচারধারা নিয়ে অনেক মতান্তর হতে পারে, অনেক কথাই বলা যেতে পারে। কিন্তু কারোর বাড়িতে গিয়ে ইট মারা হবে, এটা ঠিক নয়। যারা করেছেন আমি আশা করব প্রশাসন নিশ্চয়ই তৎপর হবেন, সচেষ্ট হবেন।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)