শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়: তৈরি করা মিথ ভেঙেছে রেজিনগর। সেখানকার সংখ্যালঘুরা বিজেপি প্রার্থীকে জিতিয়েছে। এর থেকে প্রমাণ হয় গত ৬ মাসে এই সরকার সবার আস্থা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় এমনটাই বললেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের দুই বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ওই দুজন আজ বিধানসভা শপথ নেন।
শপথগ্রহনের পরে মুখ্য়মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে একটি কেন্দ্রে পুননির্বাচন হয়েছে। ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জিতেছেন শাসকদলের প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা। এরাজ্যে গত ১৫ বছর শাসন ক্ষমতায় থাকা দলের প্রার্থী নির্বাচনের আগেই একদম শুয়ে পড়েছিল। জামানতও জব্দ হয়েছে। যারা ১৫ বছর শাসন ক্ষমতায় ছিলেন তাদের নন্দীগ্রামের প্রার্থী নিজেই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে মাঠ থেকে আউট হয়ে গেলেন। আর একটা যদিওবা নমিনেশন ফাইল করতে গিয়ে মা পথে ফিরে এলেন তিনিও তাঁর সিকিউরিটি মানিটাও রাখতে পারেননি। মাত্র ৬ হাজার ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে থেকে গিয়েছেন।
তৃণমূলকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এখন তিন ভাগে ভাগ হয়েছে। একটা ডিটিএমসি রয়েছে যার থেকে এসেছেন অপজিশন লিডার। তাঁর সঙ্গে বেশিরভাগ বিধায়ক রয়েছেন। আর একটা হয়েছে মমতা এআইটিসি। যে সংখ্যালঘুদের, বিজেপি সাম্প্রদায়িক বলে দূরে সরিয়ে রাখা হত সেই সংখ্যালঘুরা রেজিনগরে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। সেখানে জসমিনা নামে একটি মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল চকলেট তুলতে গিয়ে। তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভোটের পর তাঁর বাবার হাতে ১০ লাখ টাকা তুলে দিয়ে এসেছি। অনেকেই এতদিন ধরে রাজনীতির মাধ্যমে করে খেয়েছেন বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে। রেজিনগরের নির্বাচনে সেই মিথ ভেঙে দিয়েছে। রেজিনগরে ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় উপকৃত। তার মধ্যে ৩৫ হাজার মহিলা সংখ্যালঘু পরিবারের। এটা জেনে রাখা দরকার। অনেকে বলেন আমরা হিন্দুদের পার্টি। হ্যাঁ, আমরা হিন্দু। আমরা সনাতনে বিশ্বাস করি। মাথায় টীকা রাখি। কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে যার প্রয়োজন তাকেই গুরুত্ব দিই। সেই কারণে ৫৭ হাজার মার্জিনে জয়ী হয়েছেন শাখারভ সরকার। এতে প্রমাণিত হয় গত ৬ মাসে এই সরকার সবার আস্থা অর্জন করার দিকে অগ্রসর হয়েছে। এত সকালবেলার ব্রেকফাস্ট হচ্ছে সরকারে। এখনও ৪ বছর আমরা যাব। গত ৬ মাসে যা দেখছেন তা সকালবেলার চা বিস্কুটের মতো। এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি। লাঞ্চ বাকী আছে। দেখতে থাকুন কীভাবে আমরা এগোই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাসিরানি রথকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব। তাঁর ব্যথা আছে। আমার সহযোগী ছিল বলে তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্ত ৭ জনকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে। শ্যুটার ও যারা সুপারি কিলার ছিল তারা অ্যারেস্ট হয়েছে। এখন শুধু বাকী আছে ২ কোটি টাকা সুপারি কে দিয়েছিল তা সামনে আসা। আমার বিশ্বাস সিবিআই সেটা বের করবে। আশাকরি হাসিরানি রথ বিচার পাবেন। তাঁর ছেলে তরতাজা যুবক ছিলেন। এয়ারফোর্সে কাজ করতেন। দেশ সেবা করতেন। এখন দেখতে হবে ২ কোটি টাকা কোথা থেকে এসেছিল। ক্যামাক স্ট্রিট থেকে এসেছিল নাকি কালীঘাট থেকে এসেছিল, নাকি ডায়মন্ড হারবার থেকে এসেছিল। এটা বের হলে তদন্তের বৃত্তটা সম্পূর্ণ হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)