জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন করতে চায়। নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ ব্যবস্থা চালু করতে রাজ্য পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থায় এক শিক্ষক এক শ্রেণির সব বিষয় পড়াবেন। শুধু পাঠদান নয়, সেই শ্রেণির পড়ুয়াদের শিখন, পিছিয়ে পড়া, সমস্যাগুলির দায়িত্বও শিক্ষকের উপর পড়বে।
বৃহস্পতিবার বিদ্যাসাগর ভবনে ২১ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের নতুন চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এই পরিকল্পনা জানান। মন্ত্রী বলছেন, এক শিক্ষক যদি নির্দিষ্ট শ্রেণির দায়িত্ব পান, তাহলে পড়ুয়াদের ভালোভাবে চেনা যাবে। পড়ুয়াদের দুর্বলতা ও আগ্রহ বুঝে পড়ানো সহজ হবে। ফলে শিক্ষক-পড়ুয়া সম্পর্ক শক্তিশালী হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত হবে, বলে সরকার মনে করছে।
কীভাবে চলবে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ ব্যবস্থা?
নতুন প্রস্তাবে প্রাথমিক স্তরে এক শ্রেণির সব বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব এক শিক্ষকের হাতে দেওয়া হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষকরা সব বিষয় পড়াতে সক্ষম। তাই আলাদা বিষয়ের শিক্ষক না রেখে এক শ্রেণির দায়িত্ব এক শিক্ষকের হাতে দেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সোমবার একজন শিক্ষক, মঙ্গলবার আর একজন শিক্ষক না থেকে এক শিক্ষকই এক ক্লাস পড়াবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট শ্রেণির পড়ুয়াদের অগ্রগতির দায়িত্ব কীভাবে ভাগ হবে, তা বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পড়ুয়াদের শিখন কতটা হয়েছে, তা শিক্ষককে জানাতে হবে?
নতুন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শিক্ষকের দায়িত্ব বাড়ানো। মন্ত্রীর মতে, এক শিক্ষক যদি ২০ জন পড়ুয়ার দায়িত্ব নেন, তাহলে শিক্ষাবর্ষ শেষে ওই পড়ুয়ারা কত শিখেছে তা শিক্ষককে জানানোর দায়িত্ব থাকবে। পড়ুয়াদের শিখন কেন কম, সেই কারণও শিক্ষককে ব্যাখ্যা করতে হতে পারে। পড়ুয়াদের ফলাফল ও শেখার মানের উপর ভিত্তি করে শিক্ষক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন হবে। পড়ুয়াদের শিখন অগ্রগতির সঙ্গে শিক্ষক বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ও পদোন্নতি পেতে পারেন, এ বিষয়ে সরকার ভাবছে।
১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাত কমবে?
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, প্রাথমিক স্তরে প্রতি ২৬ জন পড়ুয়ার জন্য এক শিক্ষক আছে। মাধ্যমিক স্তরে এই অনুপাত প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জন পড়ুয়ার জন্য এক শিক্ষক। প্রাথমিক স্তরে প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করলে শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাত ১:২০ হবে, মন্ত্রী জানিয়েছেন। মাধ্যমিক স্তরে এই অনুপাত কমানোর পরিকল্পনাও আছে।
শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
শিক্ষক মহলে এই প্রস্তাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে, এক শিক্ষক যদি নির্দিষ্ট শ্রেণির দায়িত্ব নেন, তাহলে পড়ুয়াদের অগ্রগতি সহজে বোঝা যাবে বলে কিছু শিক্ষক মনে করছেন। অন্যদিকে, এক শিক্ষক যদি একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব নেন, তাহলে পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নতি দেখা কঠিন হতে পারে বলে কিছু শিক্ষক উদ্বিগ্ন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)