প্রিজন ভ্যানে মা কালী! থানায় থানায় পুজো করে পুলিসকে 'প্রায়শ্চিত্ত' করার বার্তা মন্ত্রীর
Jagannath Chattopadhyay: আমি ঈশ্বরবিশ্বাসী ছেলে, আমি কি থানায় আজান দেওয়ার কথা বলব? ঙ্গত কারণেই থানায় কালীপুজো করার কথা বলেছি, বেশ করেছি'।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বদলের বাংলায় এবার থানায় থানায় কালীপুজো? 'আমি ঈশ্বরবিশ্বাসী ছেলে, আমি কি থানায় আজান দেওয়ার কথা বলব'? সোজাসাপ্টা রাজ্য়ের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বললেন, 'মা কালীকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিস প্রিজন ভ্য়ানে তুলেছে! এটা তার পরের বছরের কালীপুজো! সনাতন বাঙালি প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে সনাতনের সরকার। এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ পুলিসকে প্রায়শ্চিত্ত তো করতে হবে। যে মা কালীকে তারা গত বছর কালীপুজোর পরে প্রিজন ভ্য়ানে তুলেছিল। সেই কালী মাকে থানায় কালীপুজো করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে'।
আরও পড়ুন: ৮ থেকে ১১ নভেম্বর স্তব্ধ হতে পারে কলকাতার একাধিক রাস্তা! কালীপুজোয় শহরজুড়ে ট্রাফিকের কড়া কড়াকড়ি
জগন্নাথের 'কালীকথা'
উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, 'সঙ্গত কারণেই থানায় কালীপুজো করার কথা বলেছি, বেশ করেছি। সংবিধানে ফাইভ সিডিউলে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ কী নিয়েছিলাম? আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করিতেছি, বিধি দ্বারা স্থপিত ভারতের সংবিধানের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য প্রকাশ করিব। সংবিধানে আস্থা ও আনুগত্য় কার উপরে ভরসা করে দিলাম! ঈশ্বরের উপরে তো। আজন্মকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের থানায় থানায় কালিপুজো হয়ে আসছে'। তাঁর দাবি, 'থানায় এমনিতেই কালীপুজো হয়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন। সেই কালী মাকে থানায় কালীপুজো করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে'।
দিলীপের মত
থানায় কালীপুজোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, 'বহু থানায় কালীপুজো হয়। শক্তির প্রতীক মা কালী, তার আর্শীবাদও চাই। খালি থানাতেই নয়, বহু সেনা ব্যারাকেও মা কালীর মন্দির আছে, পুজোও হয়। শক্তি আরাধনা করা উচিত। পুলিস একটু নির্বল হয়ে গিয়েছে'।
কী প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে?
সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, 'পাড়ার মনসা পুজোর কমিটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা যাদের নেই, তাদের হাতে যদি রাজ্যের প্রশাসনিক শাসনভার যায়, তাহলে যা হওয়ার, তাই হচ্ছে'। বলেন, 'এই সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ তো আইনশৃঙ্খলা দেখা, সংবিধানের শাসন আছে কিনা, আইনের শাসন আছে কিনা, তা দেখে। তা না দেখে আইনের শাসনকে এনকাউন্টারের শাসনে পরিণত করতে চাইছেন। কোথায় কী পুজো হবে, ঠাকুরের মূর্তি বসিয়ে রাখা হবে। সেখানে চোরও নমস্কার করে ঢুকবে, পুলিসও নমস্কার করে ঢুকবে! চোর-ঘুষখোরটা যখন সরকার চালায়, এটাই হয়'।
মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় পাল বলেন, 'থানায় কী শুধু হিন্দু ধর্মে লোকেরা থাকে! আমি অন্য় ধর্মের কথা ছেড়ে দিলাম, মুসলিম, খ্রীষ্ঠান. শিখ, থানায় তো শুধু কালীসাধক নেই, বৈষ্ণবও থাকতে পারে। থানাটাকে থানার তো চালাবেন! থানায় কালীপুজো করবেন! করবেন, করবেন। কথা হল, ডাকাতদের মতো পুলিস রেইড করতে বেরোবার আগে কালীপুজোটা করে যাবে'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)