বিগ ব্রেকিং: কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, নিয়ে যাওয়া হল লালবাজারে
Indranil Sen Arrest: সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোতেই গাড়িতে তুলল কলকাতা পুলিস। নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লালবাজারে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এই মুহূর্তের সবথেকে বড় খবর। কলকাতা পুলিসের হাতে গ্রেফতার মমতার প্রাক্তন মন্ত্রী, রাজ্য়ের প্রাক্তন পর্যটন ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ‘মাস আর্ট’ সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। আর্থিক তছরুপের দিকটি খতিয়ে দেখতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টে (PMLA) মামলা রুজু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘মাস আর্ট’ (massArt) নামের একটি সংস্থা। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে ‘প্রিভিউ শো’ এবং ভিআইপি পাসের নামে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অর্থ বেআইনিভাবে অন্যত্র ঘুরিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে তছরুপ করা হয় বলে অভিযোগ।
এই মর্মে কলকাতার বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে আর্থিক নয়ছয় প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA) ধারায় তদন্ত শুরু করে ইডি। এর আগে একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পর এদিন ফের তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়।
সেই সূত্রেই বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন বাইরে বিধাননগর কমিশনারেট ও লালবাজারের গোয়েন্দা আধিকারিকদের উপস্থিতি জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সকাল থেকেই সবাই তাকিয়ে ছিল এই ঘটনাতে। কোনও আইনি রক্ষাকবচ না থাকায় তিনি আটক বা গ্রেফতার হতে পারেন, সেকথা ধরা হচ্ছিল। অবশেষে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কলকাতা পুলিসের হাতে গ্রেফতার হলেন তিনি।
এই বিষয়ে সংগীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ করেছিলেন। তাঁকে ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কী বলেন?
ইন্দ্রনীল সেন সম্পর্কে এবং তারপর আজকেই তার গ্রেফতারি কী ভাবে দেখছ?
'আমি একটা কথাই বলতে পারি যে অন্যায় করবে তার শাস্তি পাওয়া উচিত, সে ইন্দ্রনীল সেন হোক আর যাই হোক, গত বছর ১৫ বছর অনেকের প্রতি অনেক অন্যায় করেছেন উনি সুতরাং শাস্তি হলে তো খুশি হবে এবং বিনা কারণে অনেকে উনি ডিপ্রাইভ করেছেন বা অত্যাচার উনি এবং অন্যরা করেছেন সুতরাং আমি ভগবান বিশ্বাসী মানুষ, কর্মফলে বিশ্বাসী, আমার মনে হয় যে যেটা করবে সেটা তার প্রতিফল সে পাবেই, এই জীবনেই সে পেয়ে যাবে। নিশ্চয় আমার মতো অনেকেই খুশি যারা ওনার দ্বারা মানে ডিপরাইভড হয়েছিলেন, অত্যাচারিত হয়েছিলেন, নিশ্চয় খুশি হবেন'।
তিনি আরও জানান, 'আমি শিল্পী, আমার কাজ করাটা, আমার মানে আমি আমার কলেজের চাকরি ছেড়ে শিল্প জগতে কাজ করেছি। আমাকে একদিক দিয়ে ওরা আটকেছে, আমি অন্যদিক দিয়ে কাজ করেছি। সুতরাং আমার মনে হয় যে কাজ চলে গেছে, সবই ঠিক আছে, কিন্তু আজকে সেগুলো নিয়ে ভাবি না। কারণ আমি তো আমার জায়গাটা বা আমি আমার যে রেসপেক্ট সারা পৃথিবীর বাঙালির কাছে তা থাকবে। নিজে কাজ করতে করতে তো অনেক বড় কাজ করে ফেলেছি। সুতরাং বড় কাজটা যদি বন্ধ করে দিতাম সেটাই হত খারাপ। বরং একদিকে ভালো যে এই অত্যাচার গুলো হয়েছে বলেই কিন্তু আমি আরও এভিনিউ খুঁজেছি এবং নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। রবীন্দ্রনাথের কথায়, বাঁধা দিলে বাঁধবে লড়াই। বাঁধাগুলো দিয়েছেন তিনি'।
শেষে তিনি বলেন, 'সর্বোপরি তার কর্মফল পাওয়া উচিত এবং তাঁর সাথে যারা জড়িত প্রত্যেকেরই শাস্তি হওয়া উচিত। এটা শুধু ইন্দ্রনীল সেনের জন্য নয় যেই করবে তারই এই জিনিসটা হওয়া উচিত'।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এদিন সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ (DD) এবং বিধাননগর কমিশনারেটের বিশেষ তদন্তকারী অফিসারদের। তাই এই মামলায় ইডি তাঁকে তলব করলেও, গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিস।
আরও পড়ুন: 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ভাবতে হবে কেন এমন হল'? মদনের রাজনীতির 'ভূত ভবিষ্যত্'!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)