বাবা টোটোচালক, কাজ আর পড়া নিয়ে স্নেহার ছিল কঠিন লড়াই: সব শেষ করে দিল চোরবাগান
Chorbagan Stampede: ঠিক কী ঘটেছিল চোরবাগানের প্যান্ডেলে? চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্যান্ডেলের মধ্যে স্নেহার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেওয়া হয়। অ্যাম্বুল্যান্স আসে। স্নেহাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
অশোক মান্না: আনন্দ যে লহমায় বদলে যাবে বিষাদে, কে জানত! ১৯টি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু। শোকের ছায়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত বাখরাহাটেও। বাখরাহাট ১১ গ্রাম দাসপাড়ার বাসিন্দা স্নেহা ভান্ডারী তার বোন নেহা ভান্ডারীকে নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুর ১ টা নাগাদ কলকাতার ঠাকুর দেখতে বের হন। তার পর ঘটে গিয়েছে বিপুল ঘটনা। কলকাতায় পুজোর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে নেমেছে মানুষের ঢল, সঙ্গে সাতটা-সাড়ে সাতটা নাগাদ নেমেছে বৃষ্টি! আর এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে চোরবাগানের সেই ভয়াবহ ঘটনা। রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ স্নেহা ভান্ডারীর বাড়িতে খবর আসে, স্নেহা শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানেই মারা গিয়েছেন! পুজো দেখতে বেরিয়ে এ কী মর্মান্তিক দুর্ঘটনা!
আরও পড়ুন: চোরবাগান বিপর্যয়ের পর জারি ১৬৩ ধারা! ৩ দিন কোন কোন রাস্তা বন্ধ?
তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী স্নেহা
স্নেহা ভান্ডারীর বাবা পেশায় টোটো চালক। নাম শান্তি ভান্ডারী। মেয়ের খবর আসার পরে শান্তির বাড়িতে শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলে। ঠিক কী ঘটেছিল চোরবাগানের প্যান্ডেলে? চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্যান্ডেলের মধ্যে স্নেহার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেওয়া হয়। অ্যাম্বুল্যান্স আসে। স্নেহাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। স্নেহা ভান্ডারী বিদ্যানগর কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। পাশাপাশি বিদ্যানগরে একটি কম্পিউটার সেন্টারে কাজও করতেন তিনি।
চোরবাগানে মহা বিপর্যয়
চোরবাগানের এত বড় পুজোর আয়োজন, এত ভিড়! কিন্তু কীরকম ছিল তাদের ব্যবস্থাপনা? জি ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি গিয়ে যা দেখলেন তাতে তো চক্ষু চড়কগাছ। পুজোমণ্ডপে ঢোকার পথ অসম্ভব সরু। তাছাড়া, সব চেয়ে বড় বিপদের কথা হল-- সরু এগজিট। তার উপর ওই সরু স্পেসেই একের পর এক স্টল। তাই কি পুজো উদ্যোক্তাদের ভিড়-লোভের বলি হলেন অসহায় ১৯? চোরবাগানে গতরাতের অভিশপ্ত সেই সময়ে বৃষ্টি হচ্ছিল। আচমকা সেই বৃষ্টিতে দর্শনার্থীদের অনেকেই হয়তো মণ্ডপ ছেড়ে বেরোতে চাইছিলেন না। এদিকে অসংখ্য লোক ঢুকছেন এবং আরও অসংখ্য ঢুকতে চাইছিলেন। সেই সময়ে পুজো কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, প্যান্ডেল ছেড়ে বেরিয়ে যান, মণ্ডপের অবস্থা ভালো নয়, মণ্ডপ ভেঙে পড়তে পারে! ব্যস! এই কথাতেই মহা কাণ্ড ঘটে যায়। প্যান্ডেলের ভিতরে থাকা মানুষজন হুড়োহুড়ি ফেলে দেন। আগে বেরোতে চান। চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি
গতকালের চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনার পর কলকাতায় জমায়েত ও মিছিল ঘিরে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা পুলিস। গতকালের স্ট্যাম্পিডের ঘটনার পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কলকাতা পুলিসের কমিশনার অজয় নন্দের নির্দেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারি। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ১৬৩ নম্বর ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ১৮ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ, তিন দিনের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
কী করবেন, কী করবেন না?
কলকাতার বউবাজার থানার অধীন ওই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ। লাঠি, ধারালো অস্ত্র বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ। শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে, এমন কোনও কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি। মিছিল, সভা, শোভাযাত্রা, ধর্না ও বিক্ষোভের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোন কোন এলাকা
পূর্ব: কলেজ স্ট্রিট, কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত
পশ্চিম: সি.আর.অ্যাভিনিউ, কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত
উত্তর: কলুটোলা স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট থেকে সি. আর. অ্যাভিনিউ পর্যন্ত
দক্ষিণ: ইডেন হাসপাতাল রোড, সি. আর. অ্যাভিনিউ পর্যন্ত।
জনস্বার্থে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)