অর্ণবাংশু নিয়োগী: ৪৮ ঘন্টায় আত্মসমর্পণ নয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্য়ালেঞ্জ করে ফের সুপ্রিম কোর্টে বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এর আগে, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশও অমান্য করেছিলেন প্রশান্ত।
'৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে'
'৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে'। বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩ টের পর্যন্ত ছিল শেষ সুযোগ। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ ছিল, স্রেফ বেতন বন্ধই নয় তাঁর যাবতীয় সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে হবে। হাইকোর্টের মামলা পরবর্তী শুনানি ১৪ ডিসেম্বর। সেদিন তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে সিআইডি-কে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। বিধাননগরের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার অপহরণ এবং খুনে মূল নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এখনও পর্যন্ত তিনি ফেরার। এরপর জুলাই মাসে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিআইডি। কিন্তু অভিযুক্তে সন্ধান মেলেনি। অথচ মাসে মাসে বেতন পাচ্ছেন!
হাইকোর্টে শুনানি
এর আগে, এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর প্রশ্ন ছিল,'সরকারি কর্মচারী হিসেবে প্রতি মাসে বেতন নিচ্ছেন। হাইকোর্টে এসে সরকার বলছে, তিনি নিরুদ্দেশ। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কতটা বিশ্বাসযোগ্য'? বলেছিলেন,'বিডিওর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা রয়েছে, অথচ সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের হুঁশ নেই কেন'? রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেছিলেন,'আমাদের কোনও অবজেকশন নেই। সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। আমরা খুঁজছি'।
হলফনামা দিতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী। বিচারপতির মন্তব্য ছিল, 'আমরা কোনও অভিযুক্তকে শুনতে চাইনা। সুপ্রিম কোর্ট আপনার(মক্কেলের) বেল খারিজ করে দিয়েছিল তো? আপনি সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন? আপনি তো খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি'।
ঘটনা ঠিক কী?
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউন থানার যাত্রাগাছির খালের ধারে পাওয়া যায় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। ঘটনায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন তিনি। এরপর সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে যখন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিস, তখন জামিন খারিজকে অভিযুক্ত আত্মসমপর্ণের নির্দেশ আদালত। এমনকী, একই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টও। কিন্তু তারপরেও নাগালের বাইরেই ছিলেন প্রশান্ত।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউন থানার যাত্রাগাছির খালের ধারে পাওয়া যায় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। ঘটনায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন তিনি। এরপর সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে যখন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিস, তখন জামিন খারিজকে অভিযুক্ত আত্মসমপর্ণের নির্দেশ আদালত। এমনকী, একই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টও। কিন্তু তারপরেও নাগালের বাইরেই ছিলেন প্রশান্ত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)