জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: ইডেনে বর্ণময় অনুষ্ঠানের মধ্যে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়ে গেল। লেজার শো, গান, বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন নাচে মাতল স্টেডিয়াম। জেলায় জেলায় জায়ান্ট পর্দায় হল অনুষ্ঠানের সম্প্রচার। ইডেন ওই মেগা অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলেন কয়েক হাজার দর্শক। আলোর খেলায় ভরে উঠল গোটা ইডেন।
পুজোর সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উত্সব। মাণনীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ উদ্যোগে আমাদের দুর্গাপুজো বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছিল। ইউনেস্কোর কালচারাল হেরিটেজের স্বকৃতী আদায় করেছিল। এর জন্য মানণীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। মামণীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি ভিক্টোরিয়ায় এসে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য় সরকার ঠিক করেছিল যে পিতৃপক্ষে দুর্গা পুজোর সূচনা হতে পারে না। তাই মাতৃপক্ষে পুজোর সূচনা করলাম। ঠিক করেছিলাম দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতির ঐতিহ্য থাকবে। একইসঙ্গে পুজোর যে ধর্মীয় মাহাত্ম, পঞ্জিকা মতে সূচি সেটা মেনেই এবার দুর্গাপুজো হবে। দুর্গাপুজোর আয়োজনকারী ক্লাবগুলিকে ১ লাক্ষ টাকা করে সাহায্য়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলাম। যারা ইচ্ছুক তারা নেবেন। অনেকেই আবেদন করেছিলেন। তারা আগামিকাল থেকে পাবেন। বলেছিলাম, বড় বাজেটের পুজোগুলি ওই আর্থিক সুবিধে নাও গ্রহণ করতে পারেন। শুনলে খুশি হবেন কলকাতার দুশোর বেশি পুজো কমিটি বলেছেন ওই অর্থ গ্রামীণ পুজো কমিটিগুলিকে দিন, মহিলা পুজো কমিটিগুলিকে দিন। আমরা ওই অর্থ নেবে না। দুর্গা পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুত্ সম্পূর্ণ মকুব করেছি। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে আলোর ব্য়বহারে যে বিদ্যুত্ খরচ হয় হার জন্য শুল্ক বা অর্থ নিচ্ছি না। দমকলের ফি মকুব করেছি।
ইডেনে যে দর্শকধারন ক্ষমতা তার থেকে অনেক কম দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় নিরাপত্তা-সহ অন্যান্য কারণে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক দফতর ও পর্যটন দফতর মিলে এই অনুষ্ঠান চল্লিশ হাজার দর্শকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। গোটা রাজ্যে আগামী ৪ দিন এই উত্সবকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, বিষ্ণুপুর, কোচবিহার, মালদহ, বহরমপুর ও দীঘাতে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একটি ঘোষণা শুনলে খুশি হবে। বিগত দিনে দুর্গাপুজো করার জন্য, হাইকোর্টে যেতে হত। এবার পুজোর জন্য হাইকোর্টে যেতে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। ২০২৫ সালের তুলনায় এবারে ১২৪০০টি নতুন দুর্গাপুজোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে ৪৫০০০ দুর্গাপুজো অনুমোদিত ছিল। এবার ১২৪০০ অতিরিক্ত পুজোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অনুদানও দেওয়া হয়েছে। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার অনুষ্ঠান হচ্ছে। এবার ইডেনে চল্লিশ হাজার মানুষকে ডেকেছিলাম। কথা দিতে পারি দুর্গাপুজোর যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে রাজ্য সরকার। সব পুজো কমিটিকে অনুরোধ করেছি, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন দিতে। সেক্ষেত্রেও ঘাটগুলিতে পরম্পরা মেনে আয়োজন করা হয়েছে। এবার দুর্গাপুজো মধুময় হোক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)