সব ওয়ার্ডই পাল্টাবে, কর্পোরেশন গড়বে বিজেপি! বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে হুংকার দিলীপ ঘোষের
Dilip Ghosh: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অচলাবস্থা কাটানোর বার্তাও দিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের আগামী রণকৌশল নিয়ে এক নজরে দিলীপ ঘোষের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার।
নান্টু হাজরা: রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক সৌজন্য থেকে শুরু করে পুরভোটের প্রস্তুতি—সব নিয়েই তিনি দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
আপনার যার লড়াই ছিল সুদীপের বিরুদ্ধে, সেই সুদীপের বাড়িতে লক্ষ্মী পুজোর নাড়ু খেলেন সিএম, এটা কি রাজনৈতিক সৌজন্য?
দেখুন লক্ষ্মী পুজো হয়েছে, আমরা দুর্গাপূজা বা পুজোর সময় কে কী পার্টিতে আছে, কোথায় আছে জানি না, কেউ যদি আন্তরিকতার সঙ্গে ডাকে, সেখানে আমরা পুজোতে যাই এবং বহু লোকের সঙ্গে দেখাও হয় আর এটাই তো পুজো। সমস্ত ভেদাভেদ মুছে দিয়ে কেউ যদি আমাকে ডাকতে পারে, আমার যেতে আপত্তি নেই। আর সেটাই হয়েছে এই স্তরে আজকে যারা পশ্চিম বাংলায় এত বছর রাজনীতি করেছেন, এক সময় একসঙ্গে করেছেন সবাই। কোনও মতামত মতান্তর হতেই পারে। আজ সময় এসছে বাংলায় একত্রিত হয়ে সবাই বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বাংলার বিকাশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আমার মনে হয় সেটাই শুরু হয়েছে, এটা একটা ভালো দিক।
এবং সেখান থেকে দাঁড়িয়েই সুদীপ বন্দোপাধ্যায় বলছেন যে আগামী পুরো ভোটে বিজেপিকে সমর্থন করবে এনসিপিআই, ১০০ শতাংশ সমর্থন করা হবে।
খুব ভালো কথা, ওই দিল্লিতেও মাননীয় মোদীজির উন্নয়নের কাজে বহু পার্টি একত্রিত হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গও আমরা সেই ধারাটা নিয়ে আসতে চাই, তাহলেই ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। এবং সারা দেশের যে উন্নয়ন তার লাভও বাংলায় পেতে চাই। তো আমরা চাই বাংলায় যারা যারা রাজনীতি করছেন তারাও নিজেদের অভিজ্ঞতায় দেখেছেন বাংলা কোথায় যাওয়া উচিত ছিল কোথায় এসেছে। আজ সামনে সময়ের ডাকে সবাই এক হয়ে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার আছে।
আরশোলা ছাড়পোকা, দিমাগি নকশালদের রুখতে ছোট থেকেই স্বরাষ্ট্রবাদের পাঠের প্রয়োজন, মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। স্কুলে প্রাথমিক থেকেই প্রাথমিক থেকেই বছরে তিন দিন বিতর্ক কুইজ তৎকালীন বক্তব্য চালুর পরামর্শ। সেই সঙ্গে পাস ফেল চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন।
দেশের মহাপুরুষদের ধর্ম সংস্কৃতি পরম্পরায় যারা সমাজের জন্য বলিদান দিয়েছেন বা ত্যাগ স্বীকার করেছেন বা আমাদের সত্যিকারের ইতিহাস যারা ত্যাগ-তপস্যা করেছেন বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেই দেশের জন্য করেছেন তাদের ইতিহাস পড়ানোর দরকার আছে। ব্রিটিশ আমল থেকে বিকৃত ইতিহাস পড়াতে পড়াতে আমাদের মানসিকতায় বিকৃতি এসে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ভারতবর্ষের একতার বিরুদ্ধে লড়াই করা, অখণ্ডতার বিরুদ্ধে লড়াই করা, বিশ্বনেতাবাদকে প্রচার করে সারা দেশে, এখান থেকে আর উৎপাদ করা, এই যে পরম্পরা এবার পরিবর্তনের দরকার আছে। আমার আর সরকার নতুন এসেছে nationalist সরকার। তো nationalismদের শিক্ষা, পরম্পরা, সংস্কৃতি, সনাতনী শিক্ষা, এটা স্কুল জীবন থেকে দেওয়া দরকার যাতে এই সংস্কারীটা বড় হয়ে আমাদের সন্তানরা রাষ্ট্রপ্রেমী হয় এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল আক্রমণ মল্লিকার্জুন খাড়গের
প্রধানমন্ত্রীকে বাবা তুলে আক্রমণ করা হয়েছে। মল্লিকার্জুন খাড়গের যত বয়স হচ্ছে, তত তিনি উল্টোপাল্টা বলছেন। তিনি তাকে রাখা হয়েছে সামনে শিখণ্ডী করে। আর যাকে পেছন থেকে যিনি চালাচ্ছেন, তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না কোথায় যায়। এটা একটা বিচিত্র পরিস্থিতি। হতাশা আর শেষ সীমায় কংগ্রেস, তারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে খাড়গজির মুখ দিয়ে।
দাদাগিরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন তাদের উপর যদি কোনওভাবে অত্যাচার করা হয়, তারা থানার দারস্থ হবে। কোনও আনোয়ার সানোয়ারের মদত দেখা হবে না...
দাদাই কোনও রকম ভাবে, ব্যবসায়ীই কেন, সাধারণ নাগরিক কারোর উপরে কেউ কোনো দাদাগিরি করবে না। পুলিস প্রশাসন সরকার সতর্ক আছে। কোনও ঘটনা হলে তারা জানান, সরকার তার ব্যবস্থা নেবে।
এসআরএফটিআইতে অশান্তি, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ। রিপোর্টের কাঠগড়ায় পড়ুয়াদের একাংশ।
যারা যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎপাত করার চেষ্টা করছে তাদেরকে বরদাস্ত করা হবে না, আমরা জানি এই ছাত্র আন্দোলনের নামে উৎপাত করতে করতে শিক্ষা ব্যবস্থাই উঠে গেছে। ছাত্ররা একধরনের আন্দোলন করবে, শিক্ষকরা একরকম আন্দোলন, শিক্ষা নিয়ে কারো আন্দোলন নেই। রাজনৈতিক স্বার্থে কাউকে না কাউকে দিয়ে এগুলো করানো হয়। এগুলো বন্ধ হওয়ার দরকার আছে। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা তুলে সাজাবার চেষ্টা করছি। ৫০ হাজার নতুন কর্মচারী নিয়োগ হবেন, টিচার বা শিক্ষাকর্মী। এবার পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থাও ভারতবর্ষের উদাহরণ হওয়া উচিত, তার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।
ডেডলাইন সোমবার বিকেল ৫ টা। সোমবার বিকেল ৫ টার পর বন্ধ হয়ে যাবে বিজেপির ড্রপবক্স কোন ধরনের প্রার্থী বাছাই হচ্ছে বলে মনে হয়?
হাজার হাজার কর্মী যারা প্রার্থী হতে চান পার্টির সিম্বল এছাড়া বহু মানুষ আছেন সমাজে যারা হয়তো ডাইরেক্ট রাজনীতিতে ছিলেন না। তারাও কলকাতা কর্পোরেশনের ইলেকশনে নামার চেষ্টা করছেন কেউ অনেকে দিয়েছেন চিঠি ওখানে। তো এ একটা সিস্টেম রেখেছে সরকার তারপরে এগুলো শুরু হয়ে যাবে বা বিচার করে তার থেকে যোগ্য প্রার্থী নিয়ে আসা।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন বিজেপির টাকার ভয় দেখিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। পুলিসের অত্যাচার বেড়ে গেছে বিডিও থানার ওসি পুলিস সুপারদের মাধ্যমে মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
না না, যদি সরকারি অফিসার পুলিস সক্রিয় হয় তারা সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছ কেন উনি চিন্তা করছেন? সবাইকে তো ইনভ্যালিড করে দিয়েছিলেন উনি। পুলিসকে মানুষ ভয় করত না মানত না। পুলিসও নেতাদের জুজুড়ি করে টাকা তুলে দেওয়া ছাড়া কোনো কাজ ছিল না। পুলিস তার কাজ করে পুলিশের প্রতি ভয় থাকা উচিত মানুষের, শুধু চোর-ডাকাত যারা যারা বদমাইশি করে তারা তো ভয় করবেই। ওঁর কেন চিন্তা হচ্ছে আজকে, সরকারি অফিসাররা যদি সক্রিয় হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেন, এটাই তো হওয়া উচিত। উনি করতে দেননি। একবারে অপঙ্গ করে দিয়েছিলেন বিকলঙ্গ করে দিয়েছেন সরকারকে সেটা তো চলতে পারে না।
কংগ্রেসে যোগ দিলে আমাদের কর্মী বিধায়ক সাংসদদের জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কী ধরনের আচরণ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ।
আমি জানি না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাতে স্বপ্ন দেখছেন। লোক নেই জন নাই বসে বসে স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন। কী যায় আসে এসব কথায়? উনি সত্য কথা কম বলেন সব সময়।
চোরবাগানে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল এবং তারপরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যারা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে চান, তারা সেখানে যেতে পারে সরকার সহযোগিতা করবে এবং তারপরে জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের পক্ষ থেকে এটা নিয়ে একটা ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে থেকে সৌমদীপ দে নামে যে জুনিয়র চিকিৎসক রয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তৃণমূলের আমলে। একাধিক সিনিয়র যারা স্টাফ রয়েছে তাদেরকে হেনস্থা করেছে সৌমদীপ দে। একাধিক কুকীর্তি সামনে আসছে। এই যে থ্রেট কালচার ছিল...
থ্রেট কালচার তো এমনিই ছিল না একটা গ্যাং ছিল। তার মধ্যে এইসব লোকই ছিল যারা ধমকাত চমকাত। পরীক্ষায় কে কত নম্বর পাবে কিছু স্টুডেন্ট ঠিক করে দিত। যারা পরীক্ষক তাদের সেই অধিকার ছিল না। তো এই যে গ্যাং ছিল যারা ওই ঘটনার সঙ্গে অনেকে যুক্ত আছে পরবর্তীকালে আসবে সামনে। তারা এখনও সেই অভ্যাসটা রেখে দিয়েছে। এটা ঠিক নয়। মুখ্যমন্ত্রী যেটা বলেছেন সবার স্বার্থে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন।
আরও পড়ুন: পুজো মিটতেই অ্যাকশন মোডে ইসিএল, আসানসোলে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে বুলডোজার!
পুরভোটে প্রার্থী হবেন না ফিরহাদ?
কে চায়, আর না চায় সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। হয়তো তিনি ঠিকমতো কোন পার্টি থেকে লড়বেন ঠিক করতে পারছেন না তাই এরকম বলেছেন। তিনি এখন তিনি এখন বলছেন নিজের রক্তের চেয়ে ভক্তদের কথা ভাবলে তৃণমূল দল আরও অনেক বছর চলে যেত। যাইহোক সেসব কথা আর এখন বলে কি লাভ আছে।
আর ঋতব্রত তৃণমূলের কমিশনের নথি জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ তারিখ শুনানি
এই প্রশাসনিক বা নির্বাচন কমিশন যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতিতে তো নির্বাচন কমিশনের হাতে আছে, সেখানে গিয়ে কথা বলুন সবাই।
জ্ঞানেশ কাণ্ডে ফের আন্দোলনে ইন্ডি জোট, পোস্ট করে বার্তা রাহুলের
রাহুল গান্ধী হঠাৎ গায়েব হয়ে যান তারপরে। পুজো হয়ে গেল, দীপাবলিও চলে আসছে। মানুষ এখন এসব নিয়ে ব্যস্ত। ওঁর কথায় কেউ কান দিচ্ছে না। তাই এইসব উল্টোপাল্টা স্টেটমেন্টবাজি করে কিছুদিন মনে হয়, উনি ভারতে ফিরে এসেছেন। এইটুকুই, এর বেশি কিছু নয়।
কলকাতার কোন কোন ward TMC রূপ পরিবর্তন করে বিজেপি হতে পারে বলে মনে হয়?
সব ওয়ার্ড-ই পাল্টাবে। সব জায়গায় বিজেপি হবে, বিজেপি জিতবে কর্পোরেশন গঠন করে। আর কলকাতার পরিবর্তন করবে।
গাইঘাটার একাদশ শ্রেণি ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে
জানি না কি হয়েছে, সরকার সেটা পুলিস প্রশাসন তদন্ত করবে। এই ধরনের জঘন্য ঘটনা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।
আমডাঙ্গার ঘটনা
আছে কিছু জায়গা এগুলো অপরাধ প্রবণ জায়গা এখনো কিছু না কিছু ঘটছে। ধীরে ধীরে পুলিস সব ঠিক করবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)