অয়ন ঘোষাল: ২০২৬ এর প্রথম ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের চরিত্র নানাদিক থেকেই বেশ বৈচিত্রপূর্ণ। পরশু বুধবার দুপুরে ল্যান্ড ফলের পর ঘূর্ণিঝড়ের চিরাচরিত রুট না ধরে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার শক্তিশালী ধাক্কায় অর্ণব ডানদিকে বাঁক নেবে।
মৌসম ভবনের আউটলুক ইমেজ
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল কাঁকিনাড়ায় ল্যান্ডফলের পর ডান-হাতি বাঁক নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মৌসম ভবনের আউটলুক ইমেজে। ডান দিকে বাঁক নেওয়ায় শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, মধ্য ও উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্য, এমনকী নেপালেও ঝেঁপে বৃষ্টি হবে।

স্থলভাগে কবে প্রবেশ অর্ণবের?
বুধবার দুপুরে অর্ণবের ভূমি ভাগে প্রবেশ। বৃহস্পতি শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বারাণসীতে। শুক্রবার ও শনিবার প্রবল থেকে অতি প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা নেপালে। নেপালের উঁচু অংশে তুষারপাত তো বটেই, তুষারধসও নামতে পারে।
বিপজ্জনক বাঁক
বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের এমন বাঁক নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় পিলিন ওড়িশা হয়ে স্থলভাগে ঢুকলেও, পরে উত্তরপ্রদেশের দিকে সরে যায়। ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি এবং ডিভিসির ছাড়া জলে ডুবে যায় দক্ষিণবঙ্গের একাংশ।
ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ
২০১৪ সালে বিশাখাপত্তনমে ল্যান্ডফল করে ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ। অন্ধ্র বা ওড়িশার চেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল নেপালের তুষারধসে। নেপথ্যে ঘূর্ণিঝড়ের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংঘাত এবং ডান দিকে বাঁক নেওয়া।
ঘূর্ণিঝড় তিতলি
২০১৮ সালে পুজোর সময় ওড়িশায় আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। পরে সেই ঘূর্ণিঝড়ের দুর্বলতর অংশ গভীর নিম্নচাপ হিসেবে বাঁক নিয়ে বাংলার উপকূল হয়ে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে ঢুকে পড়ে। সেবার দুর্গাপুজোয় নবমীর সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছিল প্রায় গোটা দক্ষিণবঙ্গে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
২০২৬ এর সেপ্টেম্বরে অর্ণব আসতে আসতেও শেষ পর্যন্ত দানা বাঁধেনি। অন্ধ্র উপকূলে অতি গভীর নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করেছিল। আবার সেই ডানহাতি বাঁক। পুজোর মুখে দক্ষিণবঙ্গে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি।
ডানহাতি বাঁক
আবার সেই কুখ্যাত ডানহাতি বাঁক। অর্ণবের ল্যান্ড ফলের সম্ভাব্য লোকেশন অন্ধ্রপ্রদেশের কাঁকিনাড়া। বাংলা তো বটেই, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা থেকেও বেশ কিছুটা দূরে। তাও ভরা হেমন্তে সমস্ত হিসেব উল্টে দিয়ে এর পরোক্ষ প্রভাবে ভাসতে পারে বাংলার কোনও কোনও অংশ। উপকূলের ৪ জেলা অর্থাৎ দুই মেদিনীপুর এবং দুই ২৪ পরগনা, পশ্চিমাঞ্চলের ৪ জেলা অর্থাৎ ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তরের ৩ জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্মুখীন হবে।
ঝড়ের গতিবেগ
বৃষ্টির সঙ্গে জেলা ভেদে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগের মধ্যে তারতম্য থাকবে। উপকূলে, বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরে ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ৬০ কিলোমিটার স্পর্শ করতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার। পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় ৪০ কিলোমিটার এবং গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)