কাঠগড়ায় অস্থায়ী হোমগার্ড! ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমে পুলিস, পুরসভা, দমকলকে রাখা হয়নি’: মুখ্যমন্ত্রী
চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা ও পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।
অর্ণবাংশু নিয়োগী: চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পর থেকেই তত্পর প্রশাসন। ১৯টি মানুষের মৃত্যু। কলকাতায় পুজোর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে নেমেছে মানুষের ঢল, সঙ্গে সাতটা-সাড়ে সাতটা নাগাদ নেমেছে বৃষ্টি! আর এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে চোরবাগানের সেই ভয়াবহ ঘটনা। এরপর থেকে বারবার সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালে যান, চোরবাগানের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এদিন সকালেও কেন্দ্রীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বেশকিছু পরিবারের হাতে দাঁড়িয়ে থেকে দেহ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিহারেও পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই জন আইসিইউতে আছেন। রাজ্যপাল ও অমিত শাহ দেখা করেছেন। আমি নিজে হাসপাতালের এমডির সঙ্গে কথা বলেছি। আহতদের নিয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। আমরা জেলাতে এসপি, সিপিদের নিয়ে কথা বললাম। সচিবরা আমার সঙ্গে ছিলেন। জেলাশাসকরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। যারা মারা গিয়েছেন তাদের শেষকৃত্যে অফিসাররা থাকবেন। এনজিওদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মানবিক ও মানসিক শক্তি বাড়াতে পরিবারদের। ক্ষতিপূরণ অর্থ শীঘ্রই দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন, পুজোয় বাড়তি রোজগারের আশায় কলকাতায় এসেছিল খেতমজুরের ছেলে রাজেশ!
তিনি আরও বলেন, আমি সবকটা বাড়িতে ২০-২১ অক্টোবর যাব। যতগুলো বাড়িতে সম্ভব আমি যাব। গোটা জেলায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রাউড যেখানে হবে তার জন্যে গাইডলাইন হচ্ছে। কেউ হস্তক্ষেপ করবে না এতে রেক্টিফিশন হবে। দরকারে ক্রাউড থামানো হবে। কোনও ভিআইপি, এলআইপি নয় শাস্ত্রমতে পুজোয় যোগ দিন সবাই। সবাই সাবধানে থাকুন। আমি রবিবার লালবাজার ট্রাফিক কন্ট্রোলে থাকব। শহরের অবস্থা আমার নিজের চোখে দেখা দরকার। আমরা যত্নশীল ও দায়বদ্ধ।
শুভেন্দুর কথায়, আমি ১৩ মৃত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সাহায্যের কথা আমাকে বলেছেন। টেম্পোরারি হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। একজনের সঙ্গে আমার রাত দেড়টায় দেখা হল। বাংলায় কথা বলতে পারল না। অনেক আবর্জনা নিয়ে যাচ্ছি। পরিষ্কার করতে সময় লাগবে। এরা অনেকে এর আগে দুই বছর কাজ করেছেন। এদের তালিকা নেওয়া হচ্ছে। দড়ি দিয়ে গ্যাপ করা হয়েছিল। পিও ভিজিটের পরে আমার ধারণা বদলেছে। বৃষ্টিতে ভিজবে না তাই দড়ি ফেলে চলে গিয়েছিল। আয়োজক, থিম এই সব ত্রুটি আছে। পুলিসের ত্রুটি দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, কথা ছিল রবিবার বাড়ি ফেরার, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু বউমা, ননদ ও ননদের ছেলের
উদ্ধারকার্য ও সহায়তার ক্ষেত্রে পুলিসের গাফিলতির অভিযোগ উঠলেও জানানো হয়েছে যে, পুলিস ওলা বা ক্যাবের ব্যবস্থা করেই আহত ও নিহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডরা বৃষ্টি শুরু হলে ভিজে যাওয়ার ভয়ে হাতের ম্যানুয়াল দড়ি ছেড়ে দিয়ে সরে যায়, যার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিগত দু-তিন বছর ধরে ডিউটিতে থাকা এসব অস্থায়ী হোমগার্ডদের নাম ও তালিকার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার নিষ্পক্ষ তদন্ত সুনিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিস, পুরসভা এবং ফায়ার ব্রিগেডকে বাদ দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের একজন সিটিং জাজকে প্রধান করে গঠিত হতে যাওয়া এই কমিটিতে জয়েন্ট সচিব পদমর্যাদার স্বরাষ্ট্র কর্মকর্তা, এডিজি পদমর্যাদার ডিজিপি প্রতিনিধি, এনডিআরএফের প্রতিনিধি এবং বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সবশেষে, উৎসবের দিনগুলিতে যেকোনো প্রকার রাজনীতি থেকে দূরে থেকে মা দুর্গার দর্শনে সহানুভূতিশীল ও সতর্ক থাকার জন্য এবং প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)