দিব্যেন্দু সরকার: দুর্গাপুজোর মরশুমে বাড়তি রোজগারের আশায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজে কলকাতায় গিয়েছিল গোঘাটের মান্দারণ পঞ্চায়েতের ভগবানপুরের বাসিন্দা রাজেশ পাল। কলকাতার চোরবাগানের বিপর্যয়ের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। যদিও পরিবারের দাবি, তাঁদের ছেলে নির্দোষ।
খেতমজুরের ছেলে
প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর সময় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতে কলকাতায় যান রাজেশ। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি এভাবে বদলে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করেনি রাজেশের পরিবার। দিন আনা দিন খাওয়া খেতমজুরের ছেলে তিনি। সংসারের অভাব মেটাতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দুর্গাপুজোর সময় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতে কলকাতায় যান। কিন্তু চোরবাগানের দুর্ঘটনায় গ্রেফতার হন রাজেশ। এদিকে রাজেশের গ্রেফতার হওয়ার খবর গ্রামে পৌঁছতেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
কেন গ্রেফতার?
পরিবারের অভিযোগ, পুলিসি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি থাকা সত্ত্বেও একজন সিকিউরিটি গার্ডকে কেন গ্রেফতার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজেশের পরিবার। পরিবারের আর্জি ছেলেকে যেন দ্রুত বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, রাজেশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং আইন মেনেই গোটা বিষয়টির বিচার করা হোক।
চোরবাগানে বিশৃঙ্খলা
শনির রাতে আনন্দ লহমায় বদলে গেল বিষাদে! ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটল। শোকের ছায়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত বাখরাহাটে। বাখরাহাট ১১ গ্রাম দাসপাড়ার বাসিন্দা স্নেহা ভান্ডারী তার বোন নেহা ভান্ডারীকে নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ কলকাতার ঠাকুর দেখতে বের হন। তার পর ঘটে গিয়েছে বিপুল ঘটনা। কলকাতায় পুজোর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে নেমেছে মানুষের ঢল, সঙ্গে সাতটা-সাড়ে সাতটা নাগাদ নেমেছে বৃষ্টি! আর এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে চোরবাগানের সেই ভয়াবহ ঘটনা। রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ স্নেহা ভান্ডারীর বাড়িতে খবর আসে, স্নেহা শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানেই মারা গিয়েছেন! পুজো দেখতে বেরিয়ে এ কী মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! চোরবাগানের কালো ছায়া হাওড়াতেও। বা, বলা ভালো বিহারেও। চোরবাগান সার্বজনীন পূজা কমিটির পুজো দেখতে গিয়েছিল বালি আনন্দনগরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকৃতি কুমারী (১৭)। তার সঙ্গে ছিলেন তার মামা-মামী, দিদি এবং আরও একজন। তাঁরা বিহারের গয়া থেকে কলকাতার পুজো দেখতে এসেছিলেন। এই প্রথম কলকাতায় ঠাকুর দেখতে আসা তাঁদের। সঙ্গে ছিল ভিআইপি পাস। একমুখ হাসি আর একরাশ আনন্দ নিয়ে বিকেল পাঁচটা নাগাদ আকৃতি কুমারীর পরিবারের সদস্যরা ঠাকুর দেখতে বের হন। কিন্তু কিছু পরে খবর আসে-- আকৃতি আর নেই! পুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে ঠেলাঠেলি এবং পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়। আজ, রবিবার সকালে এই মৃত্যুর খবর চাউর হতেই প্রতিবেশীরা এবং আত্মীয়-স্বজনেরা ওই বাড়িতে ভিড় করেন। মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কান্না থামছে না। তাঁরা ঠিক মতো কথা বলার অবস্থায় নেই।
চোরবাগানে অব্যবস্থা
চোরবাগানের এত বড় পুজোর আয়োজন, এত ভিড়! কিন্তু কীরকম ছিল তাদের ব্যবস্থাপনা? জি ২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি গিয়ে যা দেখলেন তাতে চক্ষু চড়কগাছ। পুজোমণ্ডপে ঢোকার পথ অসম্ভব সরু। সব চেয়ে বড় বিপদের কথা-- সরু এগজিট। তার উপর ওই সরু রাস্তাতেই একের পর এক স্টল। চোরবাগানে গতরাতে সেই সময়ে বৃষ্টি হচ্ছিল। আচমকা সেই বৃষ্টিতে দর্শনার্থীদের অনেকেই হয়তো মণ্ডপ ছেড়ে বেরোতে চাইছিলেন না। এদিকে অসংখ্য লোক ঢুকছেন এবং আরও অসংখ্য ঢুকতে চাইছিলেন। সেই সময়ে পুজো কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, প্যান্ডেল ছেড়ে বেরিয়ে যান, মণ্ডপের অবস্থা ভালো নয়, মণ্ডপ ভেঙে পড়তে পারে! ব্যস! এই কথাতেই মহা কাণ্ড ঘটে যায়। প্যান্ডেলের ভিতরে থাকা মানুষজন হুড়োহুড়ি ফেলে দেন। সকলেই আগে বেরোতে চান। তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)