প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ: ওবিসি সংরক্ষণ থাকবে নাকি সবাই জেনারেল ক্যাটাগরি? জেনে নিন আপডেট
Primary Teacher Recruitment 2025: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল না কলকাতা হাইকোর্ট। পর্ষদের সিদ্ধান্ত মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল, ওবিসি প্রার্থীদের হলফনামা তলব আদালতের।
অর্ণবাংশু নিয়োগী: রাজ্যে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (Primary Assistant Teacher Recruitment 2025) নিয়ে বড় আইনি পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। আপাতত এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Interim Stay Order) দিল না আদালত। তবে বিচারপতি অর্জুন রায় মুখার্জি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) নিয়োগ সংক্রান্ত যাই পদক্ষেপ করুক না কেন, তা মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করবে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
মামলার মূল নির্যাস লুকিয়ে রয়েছে সংরক্ষণ বিধি এবং ক্যাটাগরি বদলের জটিলতায়:
আবেদনের প্রেক্ষাপট
চাকরিপ্রার্থীরা যখন ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আবেদন করেন, তখন তাঁরা ওবিসি-এ (OBC-A) এবং ওবিসি-বি (OBC-B) ক্যাটাগরির আওতায় সংরক্ষিত হিসেবেই ফর্ম পূরণ করেছিলেন।
আইনি ও প্রশাসনিক পটবদল
পূর্বে ২০১১ সালের আগের ৬৬টি ওবিসি সম্প্রদায়ের তালিকা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এরপর হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট হয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংরক্ষণের পুরনো কাঠামোতেই ফিরে আসা হয়।
পর্ষদের নোটিস
গত ১৪ অক্টোবর পর্ষদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, সংশ্লিষ্ট ওবিসি আবেদনকারীদের এখন ‘সাধারণ’ বা জেনারেল ক্যাটাগরি (General Category) হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তি
আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত সওয়াল করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাঝপথে প্রার্থীদের সংরক্ষিত ক্যাটাগরি এভাবে একতরফা বদলে দেওয়া যায় না। যদি পরিবর্তন আনতেই হয়, তবে পুরনো বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে অথবা তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণি বা ইডব্লিউএস (Economically Weaker Section - EWS) তালিকায় সুযোগ দেওয়া উচিত।
পাল্টা যুক্তিতে পর্ষদের আইনজীবী সুবীর স্যানাল জানান, পর্ষদ নিজে থেকে কোনও ক্যাটাগরি বদলায়নি। সরকারের বর্তমান নীতি ও নির্দেশিকা অনুসরণ করেই ওই প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে জেনারেল ক্যাটাগরির মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের পরে তৈরি হওয়া সমস্ত ওবিসি তালিকা বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর ফলে বাতিল হয়ে গিয়েছিল প্রায় ৫ লাখ OBC সার্টিফিকেট। যদিও ২০১০ সালের আগের ঘোষিত ওবিসি শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিদের শংসাপত্র বৈধ এবং ২০১০ সালের পরে ওবিসি সংরক্ষণের কারণে যারা চাকরি পেয়েছেন বা নিয়োগপ্রক্রিয়া মধ্যে রয়েছেন তাদের চাকরি বহাল থাকবে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও ২০১০ সালের আগের ঘোষিত ওবিসি শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিদের শংসাপত্র বৈধ বলেই ঘোষণা করেছিল কোর্ট।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, চাকরিপ্রার্থীরা যখন সংরক্ষিত আসনের ভিত্তিতে আবেদন করেছিলেন, সেই অধিকারের গুরুত্ব রয়েছে। তবে এখনই একতরফা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া সমীচীন নয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে:
সমস্ত বিবাদী পক্ষকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা (Affidavit-in-opposition) পেশ করতে হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)