জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'গুন্ডামি ছাড়া, খিস্তি দেওয়া শব্দ ব্যবহার শব্দ ব্যবহার করা ছাড়া, ওরা যা করবে, তারজন্য আমি প্রস্তুত'। 'হিন্দুত্ববাদী' বিতর্কের নিজের অবস্থানে অনড় সিপিএম নেতা, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট কথা, 'যিনি গুন্ডা, তিনি হিন্দুত্ববাদের প্রচার করেছেন। সেজন্যই বলা হয়েছে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা। ইসলামিক সন্ত্রাসী হলে, তাঁকে আমরা ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ বলি। তার মানে এই নয় যে, ইসলামটাই সন্ত্রাসবাদী। এইসব যুক্তবোধ এদের নেই। ওরা গুন্ডার ভাষা বোঝে, গুন্ডা পাঠিয়েছিল'।
বিকাশরঞ্জন বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী সমাজ বলতে কী বোঝেন, আমি জানি না। হিন্দুত্বের সঙ্গে সমাজের সম্পর্ক আছে, তার কোন ঐতিহাসিক, সামাজিক, ভৌগোলিক ভিত্তি নেই। এই সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে যুক্ত করে, যদি মনে করে এটাই হচ্ছে হিন্দুদের সমাজ, তাহলে তো আরও একটু গবেষণা করতে হবে, এটুকু বলতে পারি'।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মতে, 'তিনি জানেন. হিন্দু বা হিন্দু ধর্ম নিয়ে কোনও কিছু বললে পরে, কেউ ওনার বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হয়ে গিয়ে ফেটে যাবে না। কেউ গিয়ে আমার মা দুর্গা সর্বশ্রেষ্ঠ বলে গলার ছুরি চালিয়ে দেবে না। সেজন্য় করতে এটা করতে পারেন'। তাঁর পালটা চ্যালেঞ্জ, অন্য ধর্ম নিয়ে একটু কথা বলে দেখান না। বলুন না, বহুবিবাহ নিয়ে কথা বলতে অন্য়ন্য ধর্মের, হালাল নিয়ে কথা বলতে। আরও অনেক কিছু নিয়ে, কথা বলতে। দম আছে! জানেন, পরের দিনে ওনার বাড়িতে কয়েকশো ধর্মীয় উদ্মাদ পৌঁছে যাবে'।
বিকাশরঞ্জনের জবাব, অন্য ধর্ম নিয়ে কথা বলব কেন! আমার ভারতবর্ষে গরিষ্ঠ মানুষে ধর্ম হিন্দুত্ববাদের মৌলবাদ অত্যন্ত বিপদজ্জনক। যে ধর্মে আমার জন্ম হয়েছে বলে ওরা দাবি করেছে, সেই ধর্মের ভুলত্রুটি নিয়েই আমি বলব। রামমোহন, বিদ্যাসাগর কী ইসলাম নিয়ে বলতে গিয়েছিলেন? রবীন্দ্রনাথ কী ইসলাম নিয়ে বলতে গিয়েছিলেন? এই সব বাজে যুক্তি যাঁরা দেন, তাঁরা নিজের ধর্মও জানেন না, নিজের ধর্ম সম্পর্কে মানবজাতির ভুল ধারনা উপস্থাপিত করছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ভোরে পূর্ব যাদবপুরে সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জনের বাড়ি হামলার অভিযোগে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। হামলার ছবি ধরা পড়েছে সিসিটিভিতে। ফেসবুকে পোস্টে সিপিএম নেতা লেখেন, 'আজ সকাল ৫ টা নাগাদ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা হামলা চালাল আমার বাড়িতে। মোটর বাইকে করে এসে মদের বোতল ছুঁড়ে জানলার কাঁচ ভেঙে পালিয়ে গেছে ॥ অল্পের জন্য আমার কাজের সহায়িকা বেঁচে গেছে'। এই 'হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা' শব্দটি নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা, 'যে ভারতবর্ষকে হিন্দুস্তান বলে ডাকা হয়, সেই হিন্দুকদের আক্রমণ করা..হিন্দুত্ববাদী বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন! হিন্দুত্ববাদী শব্দটার মধ্যে দিয়ে সমস্ত হিন্দু সমাজকে আক্রমণ করেছেন,দলমত নির্বিশেষে। সঙ্গে ডেডলাইন, '২৪ ঘণ্টার মধ্য়ে পোস্ট সংশোধন করুন। যদি না করেন আমরা কালকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কলকাতা পুলিস থেকে চিঠি দিয়ে ওনার পোস্টকে টেক ডাউন করার জন্য়। ওনার বিরুদ্ধে যে FIR হয়েছে, সেই FIR অনুযায়ী BNS-এ যে পদ্ধতিতে আছে, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং সেটা হবে'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)