পিয়ালী মিত্র: মহালয়ার সকালে বিগ্রেডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আজ ভোর থেকে তর্পনে অনেক মানুষ অংশ নিয়েছেন। কোনও দুর্ঘটনার খবর পাইনি । অনেক পুলিস- কোস্টাল পুলিস সহ মানুষকে পরিষেবা দিয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ। আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেটা গোটা ভারতে চালু ছিল। এখানে ছিল না। রাজ্য পুলিসের ডিজিপিকে আরও কাজ করা সুযোগ দেওয়াটা আমাদের সুপারিশে। তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচন এবং উপ নির্বাচনে একটাও রক্তপাত ঘটেনি। তার জন্য তাঁকে এবং টিমকে ধন্যবাদ। ১০০ ডায়াল চালু আছে । কিন্তু সেখানে কেউ ফোন করত না, কার্যত অকেজো ছিল। আমাদের রাজ্য এতদিন যারা চালিয়েছিলেন তারা সিভিক নির্ভর ছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'গোটা ভারতে লক্ষাধিক পুলিসের সংখ্যা একশো পঞ্চাশ। উত্তরপ্রদেশে দশ লক্ষ কম, এটি একটি বৃহৎ রাজ্য। দ্বিতীয় লক্ষের উপর পুলিস দিয়েছে সর্বোচ্চ। আমাদের রাজ্যে যারা এক বছর চালিয়েছে সিভিল নির্ভর পুলিস ব্যবস্থা। এইটাকে এক লক্ষে একশো পাঁচ। ম্যানপাওয়ার যা থাকলে, লজিস্টিক সাপোর্ট না দিলে, সাইবার সিকিউরিটি স্ট্রং না করলে, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ইকুইপমেন্ট না দিলে, আপনাকে লড়াই করতে পাঠাব। আপনি নিজেই তো আক্রমণ। ঢাল-তলোয়ারের বিধান সরটা।'
'আমার পুলিস বন্ধুদের এবং সিআরপিএফ ভাইদের পাথর ছোড়া হল বারাসতে। নামানোর সময় সৌজন্যে ভবানী ভবনের এসি রুমে ডেকে, তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দিয়ে পাঠাতাম। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি বাসস্ট্যান্ডে নিজে গিয়েছি। পাথরবাজদের প্রিন্সের সামনে দাঁড়িয়ে বলে দিয়েছি, আমি যতদিন পুলিসমন্ত্রী আছি, কোনও পুলিসের গায়ে যদি কেউ হাত তোলে, তার অবস্থা সবথেকে খারাপ হবে। আসানসোল ফাঁড়ি ভেঙে গিয়েছিল। টাকা আদায় করেছি যারা ভেঙেছিল তাদের কাছ থেকে।'
'দুটো আইন এনেছি আপনাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য। একটা আমাদের সরকারের প্রতিপালন, তার আয়োগের আইন। আর একটা প্রিভেনটিভ। একটা আইন কার্যকর হয়ে গেছে হোম ডিপার্টমেন্টে। আরেকটা আইন আন্ডার কনসিডারেশন আছে এই মুহূর্তে। বীরভূমের এসপিকে ধন্যবাদ দেব। একটা পাথর মাফিয়া টাকা সোনা ধরে ফেলেছে। এসটিএফ, সিআইডি লাগেনি। আগে আমি ইডি, সিবিআইয়র কথা বলতাম। কিন্তু এখানকার অফিসাররা হাইলি স্কিলড। অভয়া আরজিকর, বারুইপুর, দুর্গাপুর, কসবার মতো ঘটনা যাতে না হয় দেখতে হবে। আর একটাও যেন আরজিকর বা বারুইপুরে ঘটনা যেন না ঘটে আমি সেটা চাইব।'
এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'ষষ্ঠীর আগে DA সব অতিরিক্ত বেতন পেয়ে যাবেন। কেউ টাকা নিয়ে যে যত প্রভাবশালী হোক। কোনও রেয়াত করবেন না। এসিবি খুব ভালো কাজ করছে। ওড়িশা , রাজস্থানের থেকে আরও স্ট্রং এসিবি বানাব। ওদের নতুন অফিস দেওয়া হবে, আপনাদের তো বাহিনী রয়েছে। এখানে লোকজন বেশি। গাড়ি, মোটরসাইকেল সবই আছে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত রেসপন্স করেছে সবথেকে কনসিডারের মধ্যে। তা আমরা পশ্চিমবঙ্গেও করতে পারি। আজকে তো শুরু হল। পাঁচ থানাতে আগামী এক বছরের মধ্যে চারটে গাড়ি, চারটে মোটরসাইকেল পাঠানো হবে। আজকে একটা গাড়ি, একটা মোটরসাইকেল দিলাম। গাড়ি তো দেওয়া হবে না ছাড়া। থানাগুলোর যা অবস্থা, আমি নিজে ওয়াটগঞ্জ থানায় গিয়ে থানা দেখেছি। মনে হচ্ছে যেন একশো বছরের পুরোনো বাড়ি। না পরিষ্কার রয়েছে, না অবস্থা ভালো হয়েছে আজও। না মানুষের খাটনি আছে, কোনও সিসিটিভি নেই। এবং কী ভয়াবহ ব্যবস্থা!'
শুভেন্দু বলেন, 'আপনারা সব পারেন। নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ আপনাদের করতে হবে। আঠারো বছরের নীচে আমাদের গর্ভবতী হওয়ার রক্ষা করতে হবে। আর আর্থিক দুর্গাপুর পরিস্থিতি। এবং আমার প্রিয় বালুরঘাটের মতো ইনসিডেন্ট যাতে না হয়, তা দেখার দায়িত্ব আপনাদের। কারণ মা না থাকলে আমরা পৃথিবীর আলো দেখতে পেতাম না। আমরা কেউ ভারতপিতা বলি না, ভারতমাতা বলি। এই দেশে অষ্টমীর শক্তি শিশুকন্যাকে মা দুর্গার রূপে পুজো করা চালু করেছেন। আমি চাইব, আর একটাও যেন অথবা আরজিকর বা আমার সময়ে বারুইপুর মতো ইনসিডেন্ট না ঘটে।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)