স্ত্রী-শ্যালিকাকে নিয়ে চোরবাগানে এসেছিলেন, অর্ধাঙ্গিনীকে নিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না!
মৃত্যু কী ভীষণ অনিশ্চিত! আবারও প্রমাণিত। মহাসপ্তমীর রাতে চোরবাগানের ভয়াবহ বিপর্যয় বুঝিয়ে দিল সেই কথাই। স্ত্রী-শ্যালিকাকে নিয়ে চোরবাগানে এসেছিলেন, অর্ধাঙ্গিনীকে নিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না!
বিশ্বজিত্ মিত্র: মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের মহাবিপর্যয়ে ১৭ জন মৃতের পরিচয় জানা যাচ্ছে ধীরে ধীরে। নদীয়া জেলার চাকদহ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া এলাকা থেকে এদিন কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন রাম সরকার, তাঁর স্ত্রী আরতি সরকার ও শ্যালিকা প্রতিমা প্রামাণিক। চোরবাগানের ঠাকুর দেখবেন বলে বাকিদের মতো তাঁরাও বিরাট লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আর তারপরেই ঘটে যায় ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়িতে ভিড়ের মাঝে পড়ে কোনও মতে বেঁচে যান চাকদহ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার বাসিন্দা রাম সরকার ও তাঁর শ্যালিকা। তবে স্ত্রী আরতিকে বাঁচাতে পারেননি রাম। পদপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
ঠিক কী হয়েছিল চোরবাগানে?
শনিবার রাতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সময় প্রবেশ ও বেরোনোর পথে রীতিমতো চাপ তৈরি হয়। ভিতরের দর্শকরা যেমন বৃষ্টির জন্য প্যান্ডেল থেকে বাইরে বের হচ্ছিলেন না, তেমনই বাইরে থাকা মানুষের ঢলও বৃষ্টির জন্য ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এর ফলে ঠেলাঠেলি শুরু হলে অনেকেই ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, প্যান্ডেলে একটা সিঁড়ি রয়েছে, এই সিঁড়িতে প্রথমে কয়েকজন পড়ে যান, তাঁদের উপর দিয়েই লোকজন পাড়িয়ে ভিতরে যেতে চায়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সন্ধ্যা ৮ টা ১৫ থেকে ৮ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিক খবর। আরো অভিযোগ, স্টল করার ফলে বেরনোর রাস্তাটি, প্রায় ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা কিন্তু সেটা ১৫ ফুটে রূপান্তরিত হয় । আহতদের মধ্যে নারী ও পুরুষ, উভয়েই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধারকাজে নামেন।
আরও পড়ুন: চোরবাগান বিপর্যয়! ভিডিয়ো কলে দুই বান্ধবীর দেহ শনাক্ত করল পরিবার, মৃতদের নাম-পরিচয় তালিকা প্রকাশ
শেষ কী আপডেট রয়েছে
এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য় সরকার। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে। নিহতের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। আ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন করা হবে তদন্তের জন্য়। পুজো কমিটির কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেই পুলিস সূত্রের খবর।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)