নান্টু হাজরা ও অয়ন শর্মা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৯। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৭ জন। পরে আরও ২ জন। আহত ২৫। মৃতেদর মধ্যে রয়েছে তানিয়া বিশ্বাস ও সোনালি হালদার নামে দুই বান্ধবী। ভিডিয়ো কলে ছবি দেখে যাদের শনাক্ত করে তাদের পরিবার। দুজনই একাদশ শ্রেণীতে পড়ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই বান্ধবী মিলে বিকেলে ঠাকুর দেখতে বেরয়। মোট তিনজন বান্ধবী মিলে বেরিয়েছিল ঠাকুর দেখতে। সন্ধ্যায় চোরবাগান বিপর্যয়ের সময় ঘটনাস্থলেই ছিল সবাই। পুলিস ফোন করে বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর জানায়। ভিডিয়ো কলে ছবি দেখিয়ে বডি আইডেন্টিফাই করা হয়। দুর্ঘটনায় তানিয়া বিশ্বাস ও সোনালি হালদারের মৃত্যু হলেও বাকি আরেকজন বান্ধবী সুস্থ আছে বলে খবর।
এদিকে পুলিসের ফোনে বাড়িতে দুঃসংবাদ পৌঁছানোর পরই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। গৌরাঙ্গনগর নতুন পল্লি সুবাস সরণির বাসিন্দা ছিল দুই বন্ধু। উৎসবের আনন্দ নিমেষে ম্লান। পুজোর সন্ধ্যায় কী ঘটে গেল, উত্তর হাতড়াচ্ছে পরিবার। মৃতদের মধ্যে রয়েছে অয়ন শ্রীবাস্তব বলে ৭ বছরের এক শিশুও। আর জি কর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পথেই ওই শিশুর মৃত্যু হয় বলে খবর। ১৭ জন মৃতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৯ জন মৃতের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। তিনজনের নাম-পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
একনজরে মৃতদের তালিকা
১) আরতি সরকার বিশ্বাস, চাকদহ
২) শুভম সোনকার, জোড়াবাগান
৩) শ্রীপর্ণা পোদ্দার, বৈদ্যবাটী
৪) প্রিয়া সমাদ্দার (২৫), নিউ ব্যারাকপুর
৫) মিঠু পাল (৪৫), কুমারটুলি
৬) অয়ন শ্রীবাস্তব (৭) , নিউ টাউন
৭) প্রাঞ্জল সরকার (১৩), আগরপাড়া
৮) সোনালী হালদার, নিউটাউন
৯) তানিয়া বিশ্বাস, নিউটাউন
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজনকে স্থানান্তর করা হবে অ্যাপোলো হাসপাতালে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, যে ৭ জন কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। আঘাত তেমন গুরুতর নয়। এসএসকেএম-এর ট্রমা কেয়ারে ২ জন ভর্তি রয়েছেন- রনজিৎ সিং (৫৫), হাওড়া এবং আমন প্রীত কৌর (৪০), কলকাতার বাসিন্দা। সব মিলিয়ে ৯ জন আহত এসএসকেএম এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি।