ঠাকুর দেখা ছিল নেশা, একাই বেরিয়ে চোরবাগানে মৃত্যু! বিকাশের দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভাই
Chorbagan stampede: শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারান উত্তর হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা বিকাশ ভট্টাচার্য। ঠাকুর দেখা ছিল তাঁর নেশা। প্রতি বছরের মতো এবারও একাই ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন অবিবাহিত বিকাশবাবু। কিন্তু বাড়ি ফেরা হল না।
দেবব্রত ঘোষ: ঠাকুর দেখা ছিল তাঁর নেশা। কিন্তু ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না বিকাশের। প্রতি বছর দুর্গাপুজোয় একাই বেরিয়ে পড়তেন উত্তর কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারালেন উত্তর হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা বিকাশ ভট্টাচার্য। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বিকাশবাবু। একাই ঠাকুর দেখতে উত্তর কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সন্ধ্যার পর তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছয় দুঃসংবাদ।
হাসপাতালেই দাদার দেহ শনাক্ত করলেন ভাই
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যার পর পুলিস বিকাশবাবুর ভাই তাপস ভট্টাচার্যকে তাঁর দাদার অসুস্থতার খবর জানায়। খবর পেয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছন তাপসবাবু। সেখানে গিয়ে সাদা চাদরে ঢাকা অবস্থায় দাদাকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। মুখের উপর থেকে কাপড় সরাতেই সামনে আসে দাদার নিথর দেহ। নিজের চোখের সামনে দাদার এই পরিণতি দেখে ভেঙে পড়েন তাপসবাবু। তিনিই দেহ শনাক্ত করেন।
আরও পড়ুন, চোরবাগানে কেন এবং কীভাবে ঘটে গেল এত বড় বিপর্যয়? মণ্ডপে ঢোকার পথ অসম্ভব সরু, আর
পুজো কমিটি ও প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ
এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য পুজো কমিটি এবং রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন তাপস ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হবে। তাপসবাবুর কথায়, এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
বৃষ্টি, অতিরিক্ত ভিড়, সরু রাস্তা কী অভিযোগ পরিবারের?
তাপসবাবুর অভিযোগ, বৃষ্টির সময় পুজো মণ্ডপে প্রচুর মানুষের ভিড় জমেছিল। তার উপর মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা ছিল সরু। মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোও ছিল না বলে দাবি পরিবারের। এই পরিস্থিতিই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন।
আরও পড়ুন, বাবা টোটোচালক, কাজ আর পড়া নিয়ে স্নেহার ছিল কঠিন লড়াই: সব শেষ করে দিল চোরবাগান
বিকাশের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সালকিয়া
বিকাশবাবুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কামিনী স্কুল পল্লিবাসীবৃন্দের দুর্গাপুজোয় সমস্ত অনুষ্ঠান, গান-বাজনা বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু নিয়ম মেনে পুজো চলছে। এলাকার আরও কয়েকটি পুজোতেও অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উৎসবের মরসুমে যে পাড়ায় আনন্দের আবহ থাকার কথা, সেখানে এখন শোকের পরিবেশ। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বিকাশবাবুর এই মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিচিত ও প্রতিবেশীরা। পরিবারের একটাই দাবি—এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)