মহালয়াতেই সমাপ্তি! এক দিনেই ষষ্ঠী থেকে দশমীর আচার, দুই সখী নিয়ে কেন পূজিতা হন দেবী?
Durga Puja 2026: আসানসোলের ধেনুয়া গ্রামের কালীকৃষ্ণ আশ্রমে মহালয়ার দিনেই সম্পন্ন হয় ব্যতিক্রমী 'আগমনী দুর্গাপুজো'। এখানে একদিনের মধ্যেই ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ও বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। এই প্রতিমায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ থাকেন না; বদলে দেবী দুর্গার পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া। সাধক তেজানন্দ ব্রহ্মচারীর শুরু করা এই বহু পুরোনো ঐতিহ্য দেখতে প্রতি বছর বহু ভক্ত দামোদরের তীরে ভিড় জমান।
বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়: দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, কোথাও আবার প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় শেষ। আর তারই মধ্যে মহালয়ার পুণ্যতিথিতেই দুর্গাপুজো সম্পন্ন হল আসানসোলের হীরাপুরের ধেনুয়া গ্রামে। দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত কালীকৃষ্ণ আশ্রমে রবিবার দিনভর সনাতন রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হল ব্যতিক্রমী ‘আগমনী দুর্গাপুজো’। এক দিনেই ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর পুজোর আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় এই পুজোকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ।
নেই লক্ষ্মী-সরস্বতী, নেই কার্তিক-গণেশ!
প্রচলিত দুর্গাপুজোর সঙ্গে এই পুজোর বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এখানে মা দুর্গার সঙ্গে দেখা যায় না লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক কিংবা গণেশকে। তার পরিবর্তে দেবীর দুই সখী জয়া ও বিজয়া থাকেন প্রতিমার সঙ্গে। মহালয়ার দিনেই পুজোর সূচনা থেকে সমাপ্তি- এই ব্যতিক্রমী রীতিই কালীকৃষ্ণ আশ্রমের দুর্গাপুজোকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। পুজো উপলক্ষে এদিন আশ্রমে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
দুর্গাপুজোর ইতিহাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৩৭ সালে সাধক তেজানন্দ ব্রহ্মচারী হীরাপুরের ধেনুয়া গ্রামে দামোদর নদীর তীরে কালীকৃষ্ণ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। পরে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এই বিশেষ দুর্গাপুজোর সূচনা করেন বলে প্রচলিত রয়েছে। পুজোর সূচনাবর্ষ নিয়ে স্থানীয় সূত্রে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯—দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে সেই সময় থেকেই মহালয়ার দিন এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আশ্রমে দেবী আরাধনা
পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে যখন চারদিকে শোনা যায় আগমনী সুর, তখনই এই আশ্রমে শুরু হয় দেবী আরাধনা। অন্যান্য মণ্ডপে যখন দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন কালীকৃষ্ণ আশ্রমে এক দিনের পুজো ঘিরে তৈরি হয় আলাদা আবহ। নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে পুজো, ভক্তদের সমাগম এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে মহালয়ার দিন ধেনুয়া গ্রামে যেন আগাম দুর্গোৎসবের আবহ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ভয়কে জয়ে হাতে লাঠি-বর্শা! আত্মরক্ষায় প্রাচীন ‘কলরিপায়াত্তু’র পাঠ নিচ্ছে বাংলার মেয়েরা
বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং ব্যতিক্রমী পুজোর রীতিকে ঘিরে কালীকৃষ্ণ আশ্রমের এই দুর্গাপুজো স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। মহালয়ার দিনেই পুজো থেকে বিসর্জন—এই অনন্য পরম্পরা প্রতি বছরই ভক্তদের টেনে আনে দামোদরের তীরে অবস্থিত এই আশ্রমে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)