ফের রেলের বাঁশি শুনবেন বলে কান পেতে আছেন ওঁরা! কবে যাত্রীট্রেন আবার ছুটবে অন্ডাল-লছমনপুর রুটে?
Asansol Rail News in Palasthali-Andal Route: ১৯৫৩ সালে প্রথম চালু হয়েছিল অন্ডাল-পলাশথলি রেল যোগাযোগ। ২০০২-এর সেপ্টেম্বরে এই রুটে যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় দু’হাজার কোটি টাকার সিউড়ি-বক্রেশ্বর থেকে ঝাড়খণ্ডের নলা-জামতাড়া প্রকল্পের খবরে নতুন করে আশা দেখছেন অন্ডাল-পলাশথলি লাইনের আশপাশের অজস্র গ্রামের বাসিন্দারারা। রেল কি ফিরবে তাঁদের ঘরের কাছে?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৯৫৩ সালে প্রথম চালু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী অন্ডাল-পলাশথলি রেল যোগাযোগ। কিন্তু ২০০২-এর ২২ সেপ্টেম্বর হঠাৎই এই রুটে যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময়ে ইসিএল ও পূর্ব রেলের যৌথ পরিদর্শক দল তাদের রিপোর্টে দাবি করেছিল, এই অঞ্চলে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত কয়লা উত্তোলনের কারণে মাটির তলার খাঁজ ফাঁপা হয়ে গিয়ে রেললাইন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। তাই যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে পরিষেবা বন্ধ করাই শ্রেয়। কিন্তু তারপর থেকেই স্থানীয় মানুষ বারে বারে প্রত্যাশা করেছেন রেল ফিরে আসার। সম্প্রতি এক নতুন প্রকল্পের খবরে নতুন করে আশা দেখছেন অন্ডাল-পলাশথলি লাইনের আশপাশের অজস্র গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দারা। সম্প্রতি সিউড়ি-বক্রেশ্বর থেকে ঝাড়খণ্ডের নলা-জামতাড়া পর্যন্ত নতুন রেললাইন পাতার উদ্যোগ শুরু হতেই সেই প্রত্যাশার পারদ ক্রমশ চড়ছে।
কোল ট্রেন বনাম প্যাসেঞ্জার ট্রেন
ইসিএল ও পূর্ব রেলের যৌথ পরিদর্শকদল তাদের রিপোর্টে দাবি করেছিল, এ অঞ্চলে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত কয়লা উত্তোলনের জন্য মাটির তলার খাঁজ ফাঁপা হয়ে গিয়ে রেললাইন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। যাত্রীনিরাপত্তার স্বার্থেই রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া জরুরি। কিন্তু এলাকাবাসীদের প্রশ্ন, লাইন যদি সত্যিই বিপজ্জনক হয়, তবে আজও কী ভাবে এই ট্র্যাক দিয়ে দৈনিক অন্তত ২০টি কয়লাবাহী ট্রেন চলাচল করছে? বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহণের জন্য এই লাইনেরই রসা ও হজরতপুর হল্টের মাঝে বিশেষ কয়লা সাইডিংও তৈরি করা হয়েছে। বিপজ্জনক লাইনের কথা বলে যাত্রিবাহী ট্রেন বন্ধ রাখাটা কি যুক্তিযুক্ত? ক্ষুব্ধ আসানসোল থেকে রূপনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দারা।
অন্ডাল থেকে লছমনপুর
রেললাইনের ভবিষ্যৎ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা তথা চিত্তরঞ্জনের অবসরপ্রাপ্ত এক রেলকর্মী বলেন, অন্ডাল থেকে পলাশথলি রুটের শেষ স্টেশন পলাশথলি, আর তার আগের স্টেশনটি হল লছমনপুর। রেলের নিজস্ব রিপোর্ট অনুযায়ী, লছমনপুর থেকে পলাশথলি পর্যন্ত মাত্র আট কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ অন্ডাল থেকে লছমনপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথটি একদম সুগঠিত ও সুরক্ষিত, যেখানে প্রতিদিন ভারী পণ্যবাহী ট্রেন চলছে। তাই জনস্বার্থের কথা ভেবে অন্তত অন্ডাল থেকে লছমনপুর পর্যন্ত ট্রেনও যদি চালানো হয় অনেক উপকার হয়। তাঁর দাবি, এই রুটে অবিলম্বে যাত্রিবাহী ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করুক রেল!' তাঁর আরও বক্তব্য, 'বর্তমানে সিউড়ি-নলা নতুন রুটটি যদি এই পুরনো অন্ডাল-পলাশথলি লাইনের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া যায়, তবে আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব আসবে। আসানসোল, অন্ডাল থেকে সিউড়ি পৌঁছনো যাবে নিমেষেই।'
'কান পেতে...'
অন্ডাল-লছমনপুর রুটে ফের ট্রেনের বাঁশি শোনার জন্য় কান পেতে রয়েছেন এলাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। এদিকে যাত্রীদের দাবি পুনর্বিবেচনা করতে অতীতে ডিআরইউসিসি (ডিভিশনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটি)-র সদস্য ও বিভিন্ন সংঠনের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট কর্তার কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)