জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রসূতি মায়েদের জন্য আরও ভালো বন্দোবস্ত করা হল। রবিবার জেলা হাসপাতালের পুরনো ভবনে নতুন ৫০ শয্যার গাইনি ওয়ার্ড বা পিএনডব্লু (পোস্ট-ন্যাটাল ওয়ার্ড) চালু করা হয়। এদিন এক অনুষ্ঠানে ফিতে কেটে এই নতুন ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। ছিলেন হাসপাতালের সুপার ডা. তপনকুমার বিশ্বাস, অন্য চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফেরা।
১১০টি বেড + ৫০
নতুন ওয়ার্ডের উদ্বোধন করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এটি হাসপাতালের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। দীর্ঘদিন ধরে জায়গার অভাবে গাইনি ওয়ার্ডে রোগীদের সমস্যায় পড়তে হত। অনেক সময় একই বেডে দু’জন, এমনকি তিনজন রোগীকেও থাকতে হয়েছে। নতুন ওয়ার্ড চালু হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। তিনি আরও বলেন, এতদিন পুরনো গাইনি ওয়ার্ডে মোট ১১০টি বেড ছিল। সেখানে মূলত সিজারিয়ান অপারেশন ও সিজারিয়ান ডেলিভারির পর মায়েদের রাখা হয়। নতুন ওয়ার্ডে আরও ৫০টি বেড তৈরি করা হয়েছে। সেখানে নর্মাল ডেলিভারি বা স্বাভাবিক প্রসব করার পরে প্রসূতি মা এবং বিভিন্ন গাইনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের রাখা হবে।
উচ্ছ্বসিত অগ্নিমিত্রা
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, 'আমরা সব সময় সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের তুলনা করি। কিন্তু এখন আসানসোল জেলা হাসপাতালও বেসরকারি হাসপাতালকে টেক্কা দেওয়ার মতো পরিষেবা দিচ্ছে। এখানে চিকিৎসক ও চিকিৎসা পরিষেবা বিশ্বমানের করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের। অনেক পরিবারের বাড়িতেই পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে হাসপাতালের কমন টয়লেট কী ভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেই বিষয়েও রোগী ও পরিজনদের সচেতন করতে হচ্ছে।' অগ্নিমিত্রা আরও জানান, 'দীর্ঘদিনের দাবির পরে হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসার ইউনিট খোলা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা চলছে। ক্যানসার সেন্টারে বর্তমানে ৫টি বেড রয়েছে। রোগীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকের চেম্বারের কাছেই বেডগুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে চিকিৎসার জন্য রোগীদের দূরে যেতে না হয়।' অগ্নিমিত্রা যোগ করেন, 'খুব শীঘ্রই আসানসোল জেলা হাসপাতালে পৃথক বার্ন ওয়ার্ড চালু করা হবে।' তাঁর কথায়, 'গোটা এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত বার্ন বা আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার উপযুক্ত পরিষেবা-পরিকাঠামো নেই। ফলে এই ওয়ার্ড চালু হলে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় বড় সুবিধা হবে।'
রিপোর্ট পেশ
আসানসোল জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও তিনি সুপারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান অগ্নিমিত্রা পাল। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে এদিন জানান অগ্নিমিত্রা পাল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)