অয়ন ঘোষাল: আগামী সোমবার পর্যন্ত রাজ্যে হেমন্তের শুষ্ক আবহাওয়া। মঙ্গলবার থেকে ফের বৃষ্টি। অক্টোবর শেষে আবার বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘূর্ণাবর্তের চোখরাঙানি
বুধবার বিকেলে মৌসম ভবন জানিয়েছে, মায়ানমার লাগোয়া থাইল্যান্ড উপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। আজ ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ঘূর্ণাবর্ত চলে আসবে আন্দামান সাগরে। কাল ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর লাগোয়া দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে।
নিম্নচাপ গঠন সম্পূর্ণ করে উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অর্থাৎ ভারতের পূর্ব উপকূল অভিমুখে এগোবে। এই পথে আরও শক্তি বাড়বে নিম্নচাপের।
ঘূর্ণিঝড়ের ইঙ্গিত
একাধিক বেসরকারি মডেল ঘূর্ণিঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও মৌসম ভবন এখনও কোনও সুস্পষ্ট মন্তব্য করেনি। নিম্নচাপ কোন অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে ঢুকবে, তার উত্তরও আর কয়েকদিন পরই মিলবে।
নীচে নামল তাপমাত্রা
তার আগে শুষ্ক আবহাওয়ার হাত ধরে রাজ্যের জেলায় জেলায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে নামল। প্রথম সপ্তমী অর্থাৎ গত শনিবার শেষবার বৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যে। রবিবার দুপুর থেকে বৃষ্টি থামতেই উত্তর-পশ্চিমের শুকনো বাতাস ঢুকছে রাজ্যে। তার জেরে রাজ্যের প্রায় সর্বত্র দিনের সর্বোচ্চ এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের সামান্য নীচে নামল।
কোথায় কত নামল তাপমাত্রা
কলকাতার (আলিপুর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২৪.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শ্রীনিকেতনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আসানসোলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাঁকুড়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আলিপুরদুয়ারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ১৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কোচবিহারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ১৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হল ২০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হাওয়া বদলের ইঙ্গিত
পরশু শনিবার থেকে বিশেষত দক্ষিণবঙ্গে আরেক দফা হাওয়া বদলের ইঙ্গিত। ফলে বাড়বে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ। বাড়বে তাপমাত্রা। তৈরি হবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতি। তার আগে পর্যন্ত হেমন্তের আদর্শ আবহাওয়া উপভোগ করতে পারবেন দক্ষিণবঙ্গবাসী।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)