বছরে ১ লক্ষ চাকরি, বাল্যবিবাহ রোধ, কাকদ্বীপকে জেলা! গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
Suvendu Adhikari: কাকদ্বীপে জনসভা থেকে কর্মসংস্থান, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যে এক লক্ষ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: এদিন কাকদ্বীপ প্রশাসনিক বৈঠক শেষে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের অধীনে ২০২৭ সালে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা। সেই মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে প্রশাসন। সেই প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে সরকারি সভায় যোগ দেবেন তিনি। গঙ্গাসাগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। বাল্যবিবাহ রুখতে ছাত্রীদের আর্থিক সহায়ত ও এক বছরে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ১৩ লক্ষ ৬ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে সাড়ে ১১ লাখ মহিলা অন্নপূর্ণা পেয়েছেন। এই জেলায় কোনও কাচাবাড়ি থাকবে না। বিগত সরকার লুঠ করেছে এই সরকার আবাসের বাড়ি দেবে। আমাকে অনেকবার আটকানো হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছি,কিন্তু আমি বারে বারে এসেছি। কাকদ্বীপ থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'মা কালীকে যিনি প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন সেই মুখ্যমন্ত্রীকে এবার মহালয়ার দিন দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে তুলেছি। বাংলাদেশ থেকে যারা ধর্ম আর প্রাণ বাঁচাতে এসেছিলেন তারা কিন্তু অনুপ্রবেশকারী নন তারা শরণার্থী। সবাই যেন সিএএ সার্টিফিকেট পায় তার নির্দেশ দিয়ে গেলাম ডিএমকে।'
কোনও মাও, কোনও জঙ্গি, কোনও জিহাদি, কোনও আরশোলা, কোনও ছাড়পোকা যেন দেশের ক্ষতি করতে না পারে তার দায়িত্ব আপনাদের। তিনটে জিনিস আমাকে দেবেন- নেশামুক্ত এলাকা, বাল্যবিবাহ বন্ধ। ফলতাতে পুষ্পা ভোটের আগেই আউট, নন্দীগ্রাম, রেজিনগরেও জিতেছি। যত চুরি করেছে ১৫ বছরে সব নতুন করে অভিযোগ করুন, সব কটাকে জেলে ঢোকাবো। যারা ২১এর ভোটের পর অত্যাচার করেছে কাউকেই ছাড়ব না। দুবছর পরে হলেও কাকদ্বীপকে জেলা করব। সুন্দরবন সাজিয়ে দেব।
কর্মসংস্থান নিয়েও বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই ১১ হাজার পুলিশকর্মীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এক লক্ষ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “মেধা অনুযায়ী চাকরি হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হবে।”
গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করতে ফের ১০ জানুয়ারি তিনি আসবেন বলে জানান। প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের চরম অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, 'গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই আমি আজ এখানে এসেছি। সুন্দরবনের উন্নয়ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিগত সরকার এই অঞ্চলের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও মাত্র ২০০ কোটির কাজ হয়েছিল,আর বাকি ৮০ শতাংশই চুরি করেছিল। নতুন সরকার সুন্দরবনের কল্যাণে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।'
কাকদ্বীপের প্রশাসনিক বৈঠকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হলেই কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন সমুদ্রতটে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রাজ্যের। কাকদ্বীপের প্রশাসনিক বৈঠকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সূত্রের খবর। চোরবাগানের বিপর্যয়ের ঘটনার পর গঙ্গাসাগর মেলার নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখার বার্তা প্রশাসনকে। মেলার প্রতিটি পরিকল্পনা সময়োপযোগী ও আপ টু ডেট রাখতে হবে। বিশেষ করে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখা যাবে না বলে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, সূত্রের খবর।
গঙ্গাসাগর মেলার নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিসকে এখন থেকেই বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ। সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব। গঙ্গাসাগর মেলা পরিচালনায় অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলাশাসকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান জেলা প্রশাসনকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ।
আরও পড়ুন, বন-ই দেখাবে নতুন দিশা! নিজের চেনা জঙ্গলকে 'পর্যটকদের চোখে' চিনেই স্বনির্ভরতার পথে
অতীতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক হিসেবে গঙ্গাসাগর মেলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের সচিব পদে কর্মরত এমন একাধিক আধিকারিককেও এদিনের বৈঠকে ডাকা হয়। অতীতে মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে, কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
জেলা প্রশাসন, পুলিস এবং রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর। মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিটি দফতরকে একযোগে কাজ করার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, সূত্রের খবর। গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ফের প্রশাসনিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত। প্রস্তুতির অগ্রগতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাজের পর্যালোচনা করা হবে পরবর্তী বৈঠকে। গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অতীত অভিজ্ঞতা, আগাম পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী বছরের মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)