পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে! সোনারপুর উত্তর-দক্ষিণে ৬১৭টি পুজো কমিটির হাতে অনুদানের চেক
Sonarpur Durga Puja Grant 2026: ৬১৭টি পুজো কমিটিকে অনুদান, নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা। প্রথমবার সরকারি অনুদান লাঙলবেড়িয়ার মহিলা কল্যাণ সমিতির।
তথাগত চক্রবর্তী: দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। আর তার মধ্যেই পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হল আর্থিক অনুদানের চেক। সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের পুজো কমিটিগুলির জন্য পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুরে। দুই বিধানসভা এলাকা মিলিয়ে মোট ৬১৭টি পুজো কমিটি আর্থিক অনুদান পাচ্ছে।
সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকায় মোট ৩২৯টি অনুমোদিত দুর্গাপুজো রয়েছে। তার মধ্যে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছিল ২৮৭টি পুজো কমিটি। আবেদনকারী প্রতিটি কমিটির হাতেই এদিন তুলে দেওয়া হয় অনুদানের চেক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দেবাশীষ ধর, অতিরিক্ত পুলিস সুপার সৌমজিত বড়ুয়া এবং ডিএসপি ক্রাইম ফয়সেল বিন আহমেদ-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উপভোগ করার আবেদন জানান বিধায়ক দেবাশীষ ধর।
তিনি জানান, বিধানসভা এলাকার প্রতিটি পুজোমণ্ডপে যাওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। অন্যদিকে, সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় মোট ৩৬০টি দুর্গাপুজোর মধ্যে ৩৩০টি পুজো কমিটি অনুদান পাচ্ছে। সোনারপুর বিডিও অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুজো কমিটিগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয় আর্থিক অনুদানের চেক। অনুদান পেয়ে খুশি পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এই আর্থিক সাহায্য পুজোর আয়োজনকে আরও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলির মধ্যেও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সোনারপুর উত্তরের উমাঙ্গন দুর্গাপুজো অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও অনুদান পেয়েছেন। অন্যদিকে সোনারপুর দক্ষিণের লাঙলবেড়িয়ার মহিলা কল্যাণ সমিতি এবার প্রথমবার পুজোর অনুদান পেল। শুধু দুর্গাপুজো নয়, সারা বছর ধরে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত থাকেন এই সংগঠনের সদস্যরা। প্রথমবার সরকারি আর্থিক সাহায্য পেয়ে খুশি তাঁরা। এদিকে পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় বাড়বে। রাস্তায় নামবেন হাজার হাজার মানুষ। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিস সুপার সৌমজিত বড়ুয়া।
আরও পড়ুন, ষষ্ঠীতেই বৃষ্টির বিদায় ঘণ্টা! অষ্টমী-নবমীতে হালকা হিমেল হাওয়াতেই জমবে পুজো
পুজোর সময় যে কোনও ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে ঠাকুর দেখতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর থাকবে পুলিশের। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুজোর সময় ছিনতাই রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাস্তায় বাইক বাহিনীর দাপট নিয়ন্ত্রণেও নজরদারি থাকবে। উৎসবের আনন্দ যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু নিরাপত্তা নয়, পুজোর দিনগুলিতে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।
সোনারপুরের বিডিও পুজো উদ্যোক্তা, দর্শনার্থী এবং ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, উৎসবের আনন্দের মধ্যেও পরিবেশের কথা ভুলে গেলে চলবে না। যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। বিশেষ করে জলাশয়ে কোনও ধরনের নোংরা বা বর্জ্য ফেলা যাবে না। জলদূষণ রুখতে সকলকেই সচেতন হতে হবে। পুজোর কয়েকটা দিন যাতে এলাকার পরিবেশ সুস্থ, স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন থাকে, সেই দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ মানুষেরও। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন বিডিও।
সব মিলিয়ে সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় মোট ৬৮৯টি পুজোর মধ্যে ৬১৭টি পুজো কমিটি আর্থিক অনুদান পাচ্ছে। একদিকে পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে আর্থিক সাহায্য, অন্যদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের একাধিক পদক্ষেপ। উৎসবের আনন্দে যাতে কোনও খামতি না থাকে, আবার শান্তিশৃঙ্খলা ও পরিবেশও যাতে বজায় থাকে—সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুরজুড়ে। এখন দেখার, পুজোর দিনগুলিতে প্রশাসনের এই সমস্ত পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়।
আরও পড়ুন, মধুবনীর ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে গঙ্গারামপুরের ব্লক পাড়া! ৮ লক্ষের পরিবেশবান্ধব মণ্ডপে বড় চমক
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)