SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

বিদায়লগ্নেই আবাহন! বড় গোস্বামী বাড়ির কাত্যায়নীর বিসর্জনের সঙ্গেই সূচনা শান্তিপুরের রাস উৎসবের

Santipur Raas Utsav: দশমীর দিনেই দেবী দুর্গার বিসর্জন। চিরাচরিত প্রথা মেনে দশমীর সকালে পুজো সেরে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির গৃহবধূরা। আর এই বাড়ির দেবী কাত্যায়নীর বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই সূচনা হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের। যা নদীয়ার ধর্মীয় সংস্কৃতির অন্যতম বড় ব্যাপার।

Written By Soumitra Sen
Published: Oct 21, 2026, 05:09 PM IST | Updated: Oct 21, 2026, 05:25 PM IST
Join

বিশ্বজিৎ মিত্র: দুর্গাপুজো অবশেষে সমাপ্ত! আজ, বুধবার দশমী। এই দশমীতেই দেবী দুর্গার বিসর্জন। চিরাচরিত প্রথা মেনে দশমীর সকালে পুজো সেরে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির গৃহবধূরা। আর এই বাড়ির দেবী কাত্যায়নীর বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই সূচনা হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের। এ এক আশ্চর্য বিষয়। এ যেন বিদায়লগ্নেই আবাহনের মধুর সুর!

আরও পড়ুন: পুজোয় বাড়তি রোজগারের আশায় কলকাতায় এসেছিল খেতমজুরের ছেলে রাজেশ! কে

আরও পড়ুন: বাবা টোটোচালক, কাজ আর পড়া নিয়ে স্নেহার ছিল কঠিন লড়াই: সব শেষ করে দিল 

৩৫০ বছর আগে

জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বাবা রঘুরাম রায়ের রাজত্বকালে রাঢ় বাংলার এই অঞ্চলে অধুনা বাংলাদেশের যশোহরের মথুরের গোস্বামীর পুত্র রাঘবেন্দ্র গোস্বামীর হাত ধরে বড় গোস্বামী বাড়ির সূচনা হয়েছিল। প্রায় ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বাড়িতে দেবী দুর্গা কাত্যায়নী রূপে পূজিত হয়ে আসছেন।

উধাও বিগ্রহ রাধারমণ

কথিত আছে, প্রায় ৩৫০ বছর আগে মন্দির থেকে উধাও হয়ে যান বাড়ির প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ রাধারমণ। তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশায় বড় গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা দেবী কাত্যায়নীর পুজো শুরু করেন। এরপর ফিরে পাওয়া যায় রাধারমণকে। সেই থেকেই এই বাড়িতে দেবী কাত্যায়নীর আরাধনা হয়ে আসছে। বড় গোস্বামী বাড়ির নিজস্ব পুঁথি ও রীতি মেনেই সম্পন্ন হয় এই পুজো।

জ্বলে না উনুন

বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত এই পরিবারের মহিলারাই পুজোর যাবতীয় আয়োজন করেন। দশমীর দিন নিয়ম মেনে দেবীকে নিরঞ্জন করা হয়। দশমীতেই দেবীর প্রাণ বিসর্জনের পর তাঁকে আর গৃহে রাখা যায় না। এই বিসর্জনকে ঘিরে রয়েছে আরও একটি বিশেষ রীতি। যতক্ষণ না দেবী কাত্যায়নীকে নিরঞ্জন করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাড়ির প্রতিষ্ঠিত দেবতা রাধারমণ জিউর ভোগ রান্না হয় না। অর্থাৎ, দেবীর বিসর্জনের আগে বাড়ির উনুনও জ্বলে না। আর এই প্রাচীন রীতি মেনেই দশমীর দিন দেবী কাত্যায়নীর বিসর্জন সম্পন্ন হয়।

সমাপ্তি থেকে উৎসবের দিকে

আর এই বড় গোস্বামী বাড়ির বিসর্জনের মধ্য দিয়েই সূচনা হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবের। দুর্গাপুজোর সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এভাবেই শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিকে বুকে নিয়ে নতুন উৎসবের পথে এগিয়ে যায় শান্তিপুর।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

পেশায় দীর্ঘদিন। প্রিন্ট মিডিয়ায় শুরু। ওপিনিয়ন পেজ এবং ফিচারই সবচেয়ে পছন্দের। পাশাপাশি ভ্রমণসাহিত্য, সংগীত ও ছবির মতো চারুকলার জগৎও। অধুনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ্যাস্ট্রো, লাইফস্টাইল, পপুলার সায়েন্স ও ইতিহাস-অ্যানথ্রোপলজিক্যাল বিষয়পত্তরও। আদ্যন্ত কবিতামুগ্ধ. তবু বিভিন্ন ও বিচিত্র বিষয়ের লেখালেখিতে আগ্রহী। সংবাদের অসীম দুনিয়ায় উঁকি দিতে-দিতে যিনি তাই কখনও-সখনও বিশ্বাস করে ফেলেন-- 'সংবাদ মূলত কাব্য'!

ZEENEWS TRENDING STORIES