ষষ্ঠীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! লরির তলায় আটকে ২০ মিটার টেনেহিঁচড়ে গেল বাইক, আশঙ্কাজনক চার যুবক
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে সার্ভিস রাস্তায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। লরির নীচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত চার বাইক আরোহী। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্ডারপাস এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয় না।
চিত্তরঞ্জন দাস: ষষ্ঠীর রাতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। গুরুতর আহত চার বাইক আরোহী। দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে সার্ভিস রোডে। সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে আসছিল বাইকটি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক নিয়ে লরির নীচে ঢুকে যায় চার যুবক। গুরুতর জখম হয় চার জনই। আহতদের সকলের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার মোল্লাপাড়া এলাকর বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনাটি?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুর্গাপুরের দিক থেকে একটি লরি কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। কাঁকসার মাস্টারপাড়া সংলগ্ন আন্ডারপাসের কাছে রেড সিগন্যাল থাকার পরেও লরিটি তা অমান্য করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই কাঁকসার ডাকবাংলোর দিক থেকে মোল্লাপাড়ার দিকে যাওয়া একটি বাইকে চারজন যুবক আন্ডারপাস পার হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: পুজোয় রাত জাগবে কলকাতা, ঘুমোবে না রেলও! শিয়ালদহ ও হাওড়ায় অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন
২০ মিটার পর্যন্ত ঘষতে ঘষতে এগিয়ে যায়
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা মারে এবং বাইকসহ চার যুবককে প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত ঘষতে ঘষতে এগিয়ে যায়। লরির তলায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই যুবকদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকসা থানার পুলিস এবং কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় । যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর চার যুবককে উদ্ধার করা হয়।
দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি
প্রাথমিকভাবে তাদের উদ্ধার করে পলাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাদের দ্রুত দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকসার এসিপি, আইসি এবং ট্রাফিক এসিপি সহ পুলিসের একাধিক পদস্থ আধিকারিক। তবে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিস আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তাঁরা।
আরও পড়ুন: পুজোয় নো-টেনশন! প্রথম সপ্তমীতে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি, রবি থেকেই হাসবে পুজোর আকাশ
স্থানীয়দের বিক্ষোভ
স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্ডারপাস এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয় না। পুলিসের নজরদারির অভাবে বহু লরি সিগন্যাল না মেনে মাঝেমধ্যেই বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এর ফলে ওই এলাকায় প্রায় নিত্যদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)