অবিশ্বাস্যরকম অস্বাভাবিক! পুরুষ শরীরে জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব, হার্নিয়া অস্ত্রোপচারে বিরল ঘটনা
Uterus Falopian tube in male patient: অস্বাভাবিক বিষয়। নিষ্ক্রিয় অঙ্গ হিসেবে উপস্থিত ছিল দেহে। একে পার্সিস্টেন্ট মূলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোম (PMDS) বলে। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের সময় সার্জনরা প্রত্যাশিত অ্যানাটমির পরিবর্তে অত্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু গঠন দেখতে পান।
অয়ন শর্মা: পুরুষ দেহে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউবের অস্বাভাবিক উপস্থিতি! হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারে পুরুষ রোগীর শরীরে মিলল জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব! বিরল এই ঘটনায় চমকে উঠেছেন চিকিৎসকেরাও। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার সাহারাহাট JIS হাসপাতালে। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক পুরুষ রোগীর শরীরে মিলল জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অঙ্গ। অস্ত্রোপচারের সময় হার্নিয়া স্যাকের মধ্যে অস্বাভাবিক এই শারীরিক গঠন দেখতে পান চিকিৎসকরা।
পুরুষ শরীরে জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব!
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের বাসিন্দা ওই পুরুষ রোগী হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের সময় সার্জনরা প্রত্যাশিত অ্যানাটমির পরিবর্তে অত্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু গঠন দেখতে পান। যে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নিষ্ক্রিয় অঙ্গ হিসেবে দেহে উপস্থিত ছিল জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব। একে পার্সিস্টেন্ট মূলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোম (PMDS) বলে।
পার্সিস্টেন্ট মূলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোম (PMDS) কী?
Persistent Müllerian Duct Syndrome (PMDS) হল একধরনের জন্মগত ত্রুটি। যেখানে জন্ম থেকেই জেনেটিক্যালি পুরুষ ব্যক্তির শরীরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো Müllerian structures থেকে যেতে পারে। নিষ্ক্রিয় অঙ্গ হিসেবে সেগুলি দেহে উপস্থিত থাকে। তবে বিষয়টি অস্বাভাবিক। এক্ষেত্রে এই রোগীর ক্ষেত্রে প্রকৃত ডায়াগনসিস নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। দরকার হিস্টোপ্যাথোলজিক্যাল এগজামিনেশনও।
কেন এমন হয়?
সাধারণত পুরুষ ভ্রূণের বিকাশের সময় Müllerian duct-এর গঠন বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু বিরল কিছু কনজেনিটাল কনডিশন বা জন্মগত অবস্থায়র ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে পুরুষ শরীরেই জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অঙ্গ থেকে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলি আনডিসেন্ডেড টেস্টিস (অণ্ডকোষ যখন পেটের ভিতর থেকে স্ক্রোটামে নেমে আসে না)-এর সঙ্গে কুঁচকিতে ইনগুইনাল ক্যানেল (Inguinal Canal) বা হার্নিয়া স্যাকের মধ্যে অবস্থান করতে পারে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, শুধু অস্ত্রোপচারের সময় অস্বাভাবিক অঙ্গ দেখতে পাওয়া গেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না বা চূড়ান্ত ডায়াগনসিস করা যায় না। প্রয়োজনে হিস্টোপ্যাথোলজি, হরমোনাল প্রোফাইল, কারিওটাইপিং বা জেনেটিক টেস্টিং এবং ইমেজিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ডা. এইচ জামান ও ডা. এম রহমান ও তাঁর টিম পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।
আরও পড়ুন, ক্যান্সারের সঙ্গে একা লড়ে ৫০০-র বেশি মহিলাকে স্বনির্ভর! হার না মানা দশভুজা 'অন্য দুর্গা' পলি
আরও পড়ুন, টিকিটে তুলকালাম! হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন ক্ষুব্ধ ৩ NCPI সাংসদ... বড় খবর
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)