রেডিও থাক বা না থাক, মহালয়ার আবেগ সবার জন্য! মেমারিতে মাইকে সম্প্রচার মহিষাসুরমর্দিনীর
Mahalaya: মহালয়ার ভোরে বাঙালির চিরাচরিত আবেগকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বিধায়ক মানব গুহ। বাড়িতে রেডিও না থাকলেও যাতে কেউ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য চকদিঘি মোড় ও বামুনপাড়া মোড়-সহ শহর ও গ্রামীণ এলাকায় মাইকে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। বাসিন্দাদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে কম আওয়াজেই শোনানো হয় অনুষ্ঠানটি।
অরূপ লাহা: মহালয়ার ভোরে মেমারিতে অন্যরকম উদ্যোগ, শহরজুড়ে মাইকে শোনানো হল মহিষাসুরমর্দিনী। ভোরের আকাশে তখনও অন্ধকারের রেশ। শিউলির গন্ধ আর আগমনী সুরে দুর্গাপুজোর আবহে মেতে উঠেছে বাংলা। মহালয়ার সেই পুণ্যপ্রভাতে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে দেখা গেল এক অন্যরকম উদ্যোগ। বাড়িতে বাড়িতে রেডিও না থাকলেও যাতে কেউ মহিষাসুরমর্দিনী শোনা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য শহরজুড়ে মাইকের মাধ্যমে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করলেন মেমারির বিধায়ক মানব গুহ। শুধু শহরেই নয়, এই উদ্যোগ নেওয়া হয় গ্রামীণ এলাকাতেও।
মেমারির চকদিঘি মোড় ও বামুনপাড়া মোড়কে কেন্দ্র করে এই সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। রেডিওতে যে সময়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রপাঠ সম্প্রচারিত হয়, সেই সময়েই সাউণ্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তা শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতে অসুবিধা না হয়, সে কথা মাথায় রেখে কম আওয়াজে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।
কেন এই উদ্যোগ?
বিধায়ক মানব গুহ বলেন, নতুন সরকারের আমলে এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। কিন্তু অনেকের বাড়িতেই এখন আর রেডিও নেই। আবার অনেকের ইচ্ছে থাকলেও নানা কারণে ভোরে উঠে রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা হয়ে ওঠে না। সেই কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারাও যাতে এই চিরাচরিত অনুষ্ঠান শোনার সুযোগ পান, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন, 'এতদিন যারা হুংকার দিত তারা এখন কান্নাকাটি করছে', কাকে নিশানা কার্তিক মহারাজের?
বিধায়কের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবনযাত্রা। বদল এসেছে বিনোদনের মাধ্যমেও। এখন অনেকেই টেলিভিশনে মহালয়ার অনুষ্ঠান দেখেন। কিন্তু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রপাঠ শোনার যে দীর্ঘদিনের বাঙালি ঐতিহ্য, নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই তা ক্রমশ অপরিচিত হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত সামন্তের বক্তব্য, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়। মহালয়ার ভোরে একসঙ্গে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার পরিবেশও তৈরি হয় এলাকায়। মহালয়ার সকালে মেমারির এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং বাঙালির শারদোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক চিরপরিচিত আবেগ ও ঐতিহ্যকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন, পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা! মহালয়ায় তর্পণ করতে নবদ্বীপের ঘাটে
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)