চিত্তরঞ্জন দাস: 'ভগবান সব সহ্য করতে পারেন, কিন্তু অহংকার কখনো সহ্য করেন না। অহংকারের কারণেই রেজিনগরের নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবিরকে কাঁদতে হয়েছে।' শনিবার মহালয়ায় পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসায় এসে ঠিক এ ভাষাতেই রাজ্যের বিরোধী দল ও হুমায়ুন কবিরকে আক্রমণ করলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ (কার্তিক মহারাজ)।
মহালয়ার সকালে প্রথমে কাঁকসা থানার ঐতিহাসিক কঙ্কেশ্বরী কালী মন্দিরে পুজো দেন কার্তিক মহারাজ। এরপর কাঁকসা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের (আইসি) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও থানায় পুজো সেরে তিনি পৌঁছান রথতলা কঙ্কেশ্বরী দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে। সেখানে মা দুর্গার কাছে প্রণাম নিবেদন করে চণ্ডীপাঠ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। পরবর্তীতে একটি মঞ্চানুষ্ঠান থেকে এলাকার দুস্থ মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। কার্তিক মহারাজকে স্বাগতম জানাতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহিলা ঢাকিদের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুর চড়ান কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন, "রাজ্যের মুসলিম সমাজও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তার প্রমাণ মিলেছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে, যেখানে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এবছর বাংলায় কোনো রক্তপাত ছাড়াই শান্তিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যা সত্যিই ধন্যবাদের যোগ্য। এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং তার পরবর্তী ভোটে ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবার কিন্তু ছবিটা আলাদা।"
ইভিএম বিতর্ক নিয়ে কার্তক মহারাজ বলেন, "ব্যালটে ভোট হলেই ভালো, আর ইভিএমে ভোট হলেই সমালোচনা শুরু হয়!যাদের সমালোচনা করার স্বভাব,তারা করবেই।" রাজ্যে সনাতনী শাসনের ইতিবাচক বার্তা দিয়ে তিনি জানান, সনাতনী রাজ আসার পরেই মানুষ প্রকৃত নিরাপত্তা পেয়েছে, সরকার জমি দিয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত হয়েছে।
বিরোধী নেতাদের হুঙ্কার ও কান্নাকাটিকে কটাক্ষ করে কার্তিক মহারাজ বলেন, "অনেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিল ৪ তারিখ বেলা বারোটার পর অনেক কিছুই নাকি বদলে যাবে!কিন্তু ৪ তারিখ বেলা বারোটা পার হয়ে গেলেও আজ আর কোনো চিন্তা নেই। এখন একটা ভোটের জন্য অনেকেই জেলখানায় গিয়ে কান্নাকাটি করছে। কেউ আবার বলছে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে চলে যাবে! এতদিন যারা হুঙ্কার দিচ্ছিল, এখন তাদের অবস্থা হয়েছে 'বিড়ালে বলে মাছ খাব না, কাশী যাব'' সেই রকম ব্যাপার। তাই দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ঘরে ঘরে সকলকে প্রস্তুত হতে হবে।" পোশাক নয়, মনের পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, "পোশাক পরিবর্তন করলেই ধর্ম পরিবর্তন হয় না, তার জন্য মনের পরিবর্তন প্রয়োজন।"