প্রদ্যুত্ দাস: হারিয়ে যাওয়া রাজবংশী লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই। সারিঞ্জার সুরে চোরচুন্নি গান শুনিয়ে মন জয় করছেন ময়নাগুড়ির অশীতিপর মনসিং রায়। বয়স ৮০ ছুঁয়েছে। কিন্তু সুরের প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট। নিজের হাতে কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন সারিঞ্জা। আর সেই সারিঞ্জার সুরেই রাজবংশী সম্প্রদায়ের হারিয়ে যেতে বসা চোরচুন্নি গান শুনিয়ে চলেছেন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির রামসাই, পানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনসিং রায়।
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের অন্যতম অঙ্গ চোরচুন্নি গান। একসময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই লোকগানের আসর বসত। সারিঞ্জার সুরে মেতে উঠতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লোকসংস্কৃতি আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
তবে সেই ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন অশীতিপর লোকশিল্পী মনসিংহ রায়। নিজের হাতে কাঠ দিয়ে তৈরি সারিঞ্জা বাজিয়ে আজও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চোরচুন্নি গান পরিবেশন করেন তিনি। তাঁর বাদ্যযন্ত্রের সুর আর লোকগান শুনে মুগ্ধ হন শ্রোতারা।
বয়সের ভার থাকলেও সুরের টানে আজও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছুটে যান এই প্রবীণ শিল্পী। তাঁর একটাই লক্ষ্য, রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রাচীন লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এই গানকে পৌঁছে দেওয়া। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র আর নতুন প্রজন্মের সংগীতচর্চার ভিড়ে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার বহু প্রাচীন লোকগান ও বাদ্যযন্ত্র। সেই পরিস্থিতিতে মনসিং রায়ের মতো প্রবীণ শিল্পীদের প্রচেষ্টা যেন লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বয়স শুধুই সংখ্যা। মনের জোর আর সুরের প্রতি ভালোবাসা থাকলে যে ৮০ বছর বয়সেও মানুষ নিজের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন, তারই উদাহরণ ময়নাগুড়ির রামসাই পানবাড়ির মনসিং রায়। সারিঞ্জার প্রতিটি সুরে আজও বেঁচে রয়েছে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গল্প।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)