আপেল ৩০০, প্রতিমা ১৫০০! লক্ষ্মীপুজোয় মা লক্ষ্মী ঘরে আসার আগেই পকেট ফাঁকা মধ্যবিত্তের
Lakshmi Puja Market Price: লক্ষ্মীপুজোর মুখে ফলমূল, প্রতিমা ও অন্যান্য উপকরণের অতিরিক্ত দামে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। সামান্য পুজো সম্পন্ন করতেই কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে কম পরিমাণে জিনিস কিনছেন। অন্যদিকে জোগানের অভাব এবং চড়া দামের কারণে বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও।
পার্থ চৌধুরী: লক্ষ্মীপুজোর মুখে বাজারে গিয়ে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মধ্যবিত্তের। উৎসবের দিনে পুজোর উপকরণ থেকে শুরু করে ফলমূল ও প্রতিমার চড়া দামে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্রেতারা। উল্টোদিকে বিক্রি কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত জোগানের অভাবে ক্ষতির আশঙ্কায় দিন গুনছেন বিক্রেতারাও।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা সুব্রত ঘোষ রায় ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, ফলের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। আপেল কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা এবং পানিফল ১৫০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। এছাড়া প্রতিমার দামও ছুঁয়েছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তিনি বলেন, সামান্য লক্ষ্মীপুজো করতেই ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের পক্ষে পুজো করাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন: ছোট লক্ষ্মী প্রতিমা ২০০ টাকা, মাঝারি ১৫০০! দাম শুনেই মাথায় হাত ক্রেতাদের
ফলের চড়া দাম
অন্য এক ক্রেতা পরেশনাথ বণিক জানান, বাজারে প্রতিটি ফলেরই চড়া দাম। আপেল ও নাশপাতি ১৫০ টাকা এবং পানিফল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, দোকানে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলছেন তাঁরা যে দামে কিনছেন, সেভাবেই বিক্রি করছেন। পুজোয় অন্তত পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি দিতেই হয়, তাই বাধ্য হয়ে যে যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প পরিমাণে ফল কিনছেন। ক্রেতা তারকনাথ কুণ্ডুর কথায়, আপেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাকি সমস্ত ফল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেশি।
চড়া বাজারদরের কারণে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে এবং বাজারে আগের মতো কেনাকাটার ভিড় দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ফল বিক্রেতা ভবেশ দাস জানান, ফলের আমদানি কম থাকায় বাজার বেশ চড়া। তাঁর দোকানে এক নম্বর আপেল ১৫০ টাকা, নাশপাতি ২০০ টাকা, শাঁকালু ২০০ টাকা এবং পানিফল ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: লাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রবিবার বাতিল কয়েক ডজন ট্রেন, সময়সূচি বদলও বহু ট্রেনের
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখন মানুষ শহরের বাজারে আসা কমিয়ে দিয়েছেন এবং পাড়ার দোকান থেকেই বেশিরভাগ জিনিস কিনে নিচ্ছেন। জিনিসের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলে বেচাকেনা ভালো হতো বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। সার্বিকভাবে লক্ষ্মীপুজোর বাজারে আগুন মূল্যের কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষই সমস্যার মুখে পড়েছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)