হাসপাতালে লম্বা লাইন, দু'টাকার টিকিট বাইরে ১০ টাকায়! জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নাজেহাল রোগীরা
দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে দাবি। পাশাপাশি, দু'টাকার টিকিটের জন্য হাসপাতালের বাইরে সাইবার ক্যাফে ও জেরক্সের দোকানে ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন টিকিট পরিষেবা, পর্যাপ্ত কাউন্টার এবং বসার ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রদ্যুত্ দাস: সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার। সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। হাতে আধার কার্ড আর দু'টাকা নিয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আট থেকে আশি, মহিলা থেকে পুরুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না স্বস্তি। টিকিট কাটতেই দীর্ঘ সময়, তারপর চিকিৎসক দেখানোর জন্য ফের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে চরম হয়রানির অভিযোগ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের।
অভিযোগ, সকাল সকাল হাসপাতালে এসেও চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যাচ্ছে অনেকের। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে মাটিতে বসে পড়ছেন। তার উপর হাসপাতাল চত্বরে যেখানে-সেখানে মোটরবাইক ও সাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখায় চলাফেরা এবং লাইনে দাঁড়াতেও সমস্যায় পড়ছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা।
আরও পড়ুন, সাঁতরাগাছি থেকে সোজা জয়পুর! এবার কি রেল মানচিত্রে জুড়বে গঙ্গাসাগরও? বদলের বাংলায়
রোগীদের দাবি, প্রতিদিন এত মানুষের ভিড় সামাল দিতে টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হোক। পাশাপাশি বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা এবং অপেক্ষার জায়গায় বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে, হাসপাতালের টিকিট পরিষেবা ঘিরে উঠে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে কিউআর কোড স্ক্যান করে টিকিট বুকিং করলে হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে টিকিটের প্রিন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর জন্য কোনও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় না।
কিন্তু দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানি এড়াতে অনেক রোগী ও তাঁদের পরিজন হাসপাতালের বাইরে সাইবার ক্যাফে কিংবা জেরক্সের দোকানে ছুটছেন। আর সেখানেই দু'টাকার টিকিটের জন্য দশ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই ছবিও এক্সক্লুসিভলি ধরা পড়েছে জি ২৪ ঘণ্টার ক্যামেরায়। যদিও সংশ্লিষ্ট ক্যাফে ও জেরক্স ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, হাসপাতালের অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের সমস্ত পোর্টাল ঠিকমতো কাজ করছে না। তাঁদের দাবি, একটি মাত্র পোর্টাল ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে অনলাইন পরিষেবা নিয়েও সমস্যার অভিযোগ সামনে আসছে।
প্রশ্ন উঠছে, হাসপাতালে বিনামূল্যে অনলাইন টিকিট প্রিন্টের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন বাইরে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে? কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের? পর্যাপ্ত কাউন্টার এবং বসার ব্যবস্থা কেন নেই? একদিকে চিকিৎসার আশায় দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা অসহায় রোগীরা, অন্যদিকে টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইন ও পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ। সব মিলিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগী পরিষেবা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন, সন্ধে নামলেই নেমে আসবে তারা! ঘরে নয় চাষিদের রাত কাটছে মাঠে টং-ঘরে
রোগী ও তাঁদের পরিজনদের একাংশের আশা, আগামী দিনে নতুন সরকার এই সমস্যাগুলির সমাধানে উদ্যোগী হবে। তবে আপাতত তাঁদের দাবি, দ্রুত টিকিট কাউন্টার বাড়ানো, অনলাইন পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং রোগীদের হয়রানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ করুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)