সিংহবাহিনী নয়, দেবী এখানে ব্যাঘ্রবাহিনী! গহিন বনে আজও চলছে বৈকুন্ঠপুর রাজাদের বনদুর্গার আরাধনা
Durga Puja: একদিকে গভীর শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও রাজকীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
প্রদ্যুত্ দাস:দুর্গাপুজো মানেই সিংহবাহিনী দশভুজা। কিন্তু জলপাইগুড়িতে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী দুর্গার আরাধনা। যেখানে সিংহ নয়, বাঘের পিঠে আসীন দেবী দুর্গা! জলপাইগুড়ির বোদাগঞ্জের মেচপাড়ার গভীর শালবনের মধ্যে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন ‘অদরা ভ্রামরী দেবী শালেশ্বরী বনদুর্গা’ মন্দির। এখানেই যুগ যুগ ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী বনদুর্গা।
লোককথা অনুযায়ী, বৈকুণ্ঠপুরের রাজা প্রসন্নদেব রায়কত শিকারে যাওয়ার আগে এই গভীর জঙ্গলে এসে দেবী শালেশ্বরীর থানে পুজো দিতেন। একটি প্রাচীন শালগাছকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল দেবীর আরাধনা। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছে এই মন্দির।
মন্দিরে রয়েছে প্রাচীন পাথরের দুর্গামূর্তি। শুধু দুর্গা নন, একই সঙ্গে এখানে পূজিত হন শিব, নারায়ণ, গঙ্গা, যমুনা, বিশ্বকর্মা এবং পির বাবা। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে জঙ্গলের মধ্যে এই প্রাচীন ধর্মস্থান।
আরও পড়ুন-হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ ভবনের আদলে মাথা তুলছে মণ্ডপ, জলপাইগুড়ির তারাপাড়ায় অন্যরকম উত্সাহ
একদিকে গভীর শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও রাজকীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। সব মিলিয়ে এই বনদুর্গার পুজো ঘিরে রয়েছে এক আলাদা আকর্ষণ।
তবে এত প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও এখনও সরকারি হেরিটেজ স্বীকৃতি মেলেনি বলে দাবি মন্দির কমিটির। তাঁদের দাবি, বৈকুণ্ঠপুর রাজাদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাচীন ধর্মস্থানকে হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিক সরকার।
সিংহবাহিনী নয়, ব্যাঘ্রবাহিনী দুর্গা! জলপাইগুড়ির গভীর শালবনে আজও জীবন্ত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বৈকুণ্ঠপুর রাজাদের এই শতাব্দীপ্রাচীন বনদুর্গার আরাধনা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)