প্রদ্যুত্ দাস: ৫১৭ বছরের ঐতিহ্য মেনে জলপাইগুড়ি রাজবাড়িতে মহাসপ্তমীর পুজো। রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নবপত্রিকা প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু দেবী আরাধনা। উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে মহাসপ্তমীর সকাল থেকেই পুজোর ব্যস্ততা।
এই বছর ৫১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। শতাব্দীপ্রাচীন রীতি ও পরম্পরা মেনে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা। শনিবার সকালে রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীর বিশেষ পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী আরাধনা।
পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাদ্যি আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুজোর পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলায়নি রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর প্রাচীন রীতিনীতি। বংশপরম্পরায় চলে আসা নিয়ম মেনেই আজও দেবীর আরাধনা করে চলেছেন রাজপরিবারের সদস্যরা।
শুধু রাজপরিবারের পুজো নয়, জলপাইগুড়ির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই দুর্গাপুজো। তাই মহাসপ্তমীর সকাল থেকেই ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির পুজো ঘিরে রয়েছে আলাদা উন্মাদনা। ৫১৭ বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে মহাসপ্তমীতে দেবী আরাধনায় মেতে উঠেছে জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি।
রাজপরিবারের পুত্রবধূ লিন্ডা বোস জানান, চতুর্থীতে মায়ের শাড়ি পরানোর কাজ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার মহিলারা এই বস্ত্র পরানোর কাজে অংশ নেন। ষষ্ঠীতে বেলতলা, পাকুড়তলা ও বটতলায় পুজোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় হবে বোধন। সপ্তমীতে দেবীকে বরণ ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর রাতে রয়েছে অর্ধরাত্রির পুজো। অষ্টমীতে পুজো, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও সন্ধ্যারতি এবং নবমীতে নিয়ম মেনে পুজোপাঠ অনুষ্ঠিত হবে।এই রাজবাড়ির পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব দশমীর আমিষ ভোগ।
প্রাচীন প্রথা মেনে দেবীকে নিবেদন করা হয় ইংলিশ মাছ, পুঁটিমাছ, কচুশাক, পান্তাভাত ও শাপলা। পুজোর প্রতিটি পর্বেই বজায় থাকে দীর্ঘদিনের আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতির ধারাবাহিকতা।সময়ের পরিবর্তনে রাজত্ব নেই, নেই রাজাও। কিন্তু বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও অটুট রয়েছে ঐতিহ্য, নিষ্ঠা ও পরম্পরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)