রহস্যময়ী যুবতী, নিজেকেই নিজে গুলি! রেললাইন থেকে উদ্ধার সেই ইনস্পেক্টর জয়ন্ত পালের ছিন্নভিন্ন দেহ, রহস্যমৃত্যু
Inspector Jayanta Paul: বাঁকুড়ায় রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার পুলিস অফিসার জয়ন্ত পালের ছিন্নভিন্ন দেহ। রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধছে বিরাট রহস্য।আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু? অতীতের চাঞ্চল্যকর 'গুলিকাণ্ড' ও রহস্যময়ী যুবতীর যোগের মধ্যেই মর্মান্তিক মৃত্যু পুলিস অফিসার জয়ন্ত পালের।
পিয়ালি মিত্র ও দেবব্রত ঘোষ: ইনস্পেক্টর জয়ন্ত পালের রহস্যমৃত্যুতে অতীতের একাধিক ঘটনা ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। ২০১০ ব্যাচের পুলিশ অফিসার জয়ন্ত পাল দক্ষ আধিকারিক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। হুগলির চণ্ডীতলা থানার IC-র দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে তাঁর নাম। হাওড়ার ঘোষপাড়া পেট্রল পাম্পের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি সেই সময় তিনি চণ্ডীতলা থানার IC পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছিল।
রহস্য়ময়ী যুবতীর উপস্থিতি
২০২৫ সালে হাওড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তৎকালীন চন্ডীতলা থানার ওসি জয়ন্ত পাল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে। হাওড়া ঘোষপাড়া পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি সাদা গাড়ির সামনে ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থলে থেকে গাড়িটি উদ্ধার হয়। গাড়িটি আটক করে পুলিশ। সেই সময় জয়ন্তের সঙ্গে এক যুবতীর উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছিল রহস্য। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সমাজমাধ্যমে ওই যুবতীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জয়ন্তের। যুবতী হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা।
নিজেকেই নিজে গুলি
জানা যায়, ঘটনার ওই মহিলা ঘোষ পাড়া পেট্রোল পাম্পের উল্টোদিকে বৈষ্ণব সম্মিলনী লেনে এক বান্ধবীর ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। জয়ন্ত পাল ওই এলাকায় এসে ওই মহিলাকে বার বার ফোন করছিলেন। দুজনের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। যে কারণে ওই মহিলা আসতে চাননি। এরপর ডিনার সেরে নীচে নামার পর কথা কাটাকাটি হয় দুজনের। মহিলাকে ভয় দেখানোর জন্য নিজেই নাকি নিজের হাতে গুলি চালিয়ে দেন জয়ন্ত পাল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে একটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালিয়েছিলেন জয়ন্ত পাল। তারপর সেটি ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে ফেলেও দেওয়া হয়েছিল।
সাসপেন্ড জয়ন্ত পাল
পরে পুলিস সেটি উদ্ধার করে। সেদিন ঘটনাস্থলে ওই মহিলা ছাড়াও আরও দুজন ছিলেন। সবাই মিলে জয়ন্ত পালকে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। কয়েকদিন পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে চাননি। এই ঘটনার পর জয়ন্ত পালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হয়। সাসপেন্ড হন তিনি। পরবর্তী সময়ে অবশ্য তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়। এরপর বর্ধমানের কাটোয়ায় পোস্টিং হয় জয়ন্ত পালের।
যুবতীর সঙ্গে সম্পর্ক
সেখানে কর্মরত থাকাকালীনও ওই তরুণীর সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে সূত্রের দাবি। পরবর্তী সময়ে তাঁর পোস্টিং হয় বাঁকুড়ার ডিআইবি (DIB)-তে। শুক্রবার রাতে বাঁকুড়ায় রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় জয়ন্ত পালের ছিন্নভিন্ন দেহ। এটি আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর মৃত্যু ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)