অয়ন ঘোষাল: দুটি বিধানসভায় বিধায়ক ছিলেন। শুক্রবার থেকে তা কমে হল একটি। সবেধন নীলমণি সেই বিধায়ক আগেই জানিয়েছেন যতদিন শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী, ততদিন তিনি আর বিধানসভা মুখো হবেন না। অথচ এখনও তিনি নওদা বিধানসভার বিধায়ক। সেখানকার মানুষ খাতায় কলমে তাদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিকে আর পাবেন না বিধানসভায়। এলাকার দুঃখ কষ্ট সমস্যা কোনোকিছুই আর বলার মতো প্রতিনিধিত্ব থাকছে না বিধানসভায়।
এমতাবস্থায় হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক কেরিয়ারে ছেদ এবং জ্যোতি চিহ্ন পড়ে গেল এদিন থেকে। মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ৬ অক্টোবর উপ নির্বাচনের দিন সকাল থেকে আস্ফালনের পর সাড়ে ১১ ঘণ্টা গারদ বাস। তাও টু শব্দ করেনি একদা তার খাসতালুক রেজিনগর। অভিজ্ঞ রাজনীতিক হুমায়ুন কবীর সেদিনই বুঝে গেছেন পায়ের তলায় মাটি সরছে। ফল প্রকাশের দিন তার ধরণী দ্বিধা হও দশা।
আগামীদিনের পরিস্থিতি আন্দাজ করে তাই দেশ ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের। ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা নিয়ে তিনি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের শেষে দুবাই চলে যাওয়ার কথা জানালেন জি ২৪ ঘণ্টাকে। তার আগে শেষ করবেন বাবরি মসজিদ নির্মাণ। এখনও ওই একটা ব্যাপারে স্বপ্ন দেখছেন হুমায়ুন।
যদিও জি ২৪ ঘণ্টা হালফিলের ছবি তুলে এনেছে বাবরি প্রাঙ্গণ থেকে। ১ বছরে ১ টা মাত্র দেওয়াল। সেখানে হুমায়ুন এখনও খেয়ালি পোলাও রান্না করছেন। আর মাত্র ২ বছরে নাকি বাবরি মসজিদ, হেলিপ্যাড, হাসপাতাল, ইসলামিক পর্যটন কেন্দ্র সব তিনি কমপ্লিট করে ফেলবেন। তাঁর নিজের হিসেব নিজের কাছেই গুলিয়ে গিয়েছে।
তিনি ২ টি আসনে জিতেছিলেন। নওদা জিতেছিলেন কষ্ট করে। নিজের পাড়া রেজিনগরে এসেছিল অনায়াস জয়। ক্যালকুলেশন ছিল, নওদা ধরে রাখবেন। আর নিজের খাসতালুকে অনায়াসে জিতিয়ে আনবেন ছেলেকে। ৭২ শতাংশ সংখ্যালঘু প্রভাবিত রেজিনগরে সনাতনী গেরুয়া প্রার্থীর বিপুল মার্জিনের জয় এবার তার ভিত নাড়িয়ে দিল কি? তাই কি ফ্রম রেজিনগর টু দুবাই? প্রশ্ন তুলছেন রাজনীতির বিশ্লেষকরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)