বিধান সরকার: গাঙ্গুলি বাড়ির পুজো পরিচালনা করে ব্যানার্জি বাড়ি। বুড়ি মা-র পুজো নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনী। প্রায় তিনশ বছরের প্রাচীন ব্যানার্জি বাড়ির পুজো আসলে গাঙ্গুলি বাড়িতে হত। পুজোর সূচনার কাহিনীও বেশ চমকপ্রদ। জনশ্রুতি আছে, প্রায় তিনশ বছর আগে ঘোল ঘাট নামে পরিচিত চুঁচুড়া বারোদুয়ারীর কাছে গঙ্গার ঘাটে এক ঝড়জলের রাতে এক বুড়ি মা তাঁর চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে আসেন। দাশু প্রামানিক নামে এক ব্যাক্তির সঙ্গে দেখা হলে গাঙ্গুলি বাড়ি কোথায় জানতে চান। দাশু গাঙ্গুলি বাড়ি দেখিয়ে দেন।
এরপরই নাকি গাঙ্গুলি বাড়িতে পুজোর সূচনা হয় বুড়ি মা-র। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা টালমাটাল হলে সেই পুজো প্রতিবেশি ব্যানার্জি বাড়িতে চলে আসে। ব্যানার্জি বাড়ির দালানে ১৭৫ বছর ধরে হয়ে চলেছে বুড়ি মা-র পুজো। ঠাকুর দালানে এক চালার প্রতিমা মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পুজিতা হন। পরিবারের সদস্য রবীন্দ্র নাথ ব্যানার্জি জানান, বুড়ি মা ঘোল ঘাটে এসেছিলেন। ঝড় বৃষ্টির রাত ছিল সেদিন। ছেলেমেয়েদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন গাঙ্গুলি বাড়িতে। পরদিন আর তাদের দেখা যায়নি।

বুড়ি মা-কে নিয়ে আরও অনেক কাহিনী বিশ্বাস রয়েছে। ঝাঁটার শব্দ পাওয়া যেত, মনে করা হত বুড়ি মা ঝাঁট দিচ্ছেন। পুজোর জন্য ফুলের জোগাড় হয়ে যেত আপনাআপনি। ব্যানার্জি বাড়িতে পুজো হলেও গাঙ্গুলি বাড়ির নামেই হয় পুজো এখনও। বুড়ি মা-কে ভোগ দেওয়া হয়। তার জন্য রান্না হয়। পুজোর চারটে দিন দালানে উপচে পড়া ভিড় হয়। আগে হোগলা পাতার চালা ছিল। পরে এলাকার বাসিন্দাদের সবার সহযোগিতায় পাকা দালান তৈরি হয়।
বাড়ির পুজো হলেও স্থানীয়দের কাছে বুড়িমা সবার। তাই পুজো দেখা থেকে অঞ্জলি দেওয়া ভোগ খাওয়ার টান এখনও অটুট। আগে ঘোল ঘাটেই প্রতিমা বিসর্জন হত। এখন সেই ঘাটের অবস্থা খারাপ। তাই ময়ূরপঙ্খী ঘাটে কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে হয় প্রতিমা বিসর্জন। কাঠামো ফিরে আসে ঠাকুর দালানে। চলে কোলাকুলি মিষ্টি মুখ। আর প্রার্থনা থাকে আবার এসো মা।
আরও পড়ুন,
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)