স্বপ্নাদেশে শুরু ৩০০ বছরেরও পুরনো পুজো; দেবীবিসর্জনে আজও মেনে চলা হয় এক বিশেষ রীতি
Hasnabad Durga Puja 2026: সেজে উঠছে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই জমিদারবাড়ির পুজো। এবাড়ির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে গান বেঁধেছিলেন কলকাতার শিল্পীরাও। রমরম করে সেই গান বাজে রামেশ্বরপুর জুড়ে।
বিমল বসু: হাসনাবাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ইছামতীর গা-ঘেঁষা রামেশ্বরপুর ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজো উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুজো, যা প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। জমিদার গদাধর ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। রথের দিন থেকে এই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় এবং রথের দিনই গঙ্গাজল মেশানো ধাতব পাত্রে বৃষ্টির জল দিয়ে মা দুর্গাকে স্নান করানোর এক বিশেষ রীতি আজও এই বাড়িতে প্রচলিত আছে।
আরও পড়ুন: '৮০-তে আসিও না' তাঁর মন্ত্র নয়; ভাঙা ঘরে একলাই
'নিমন্ত্রণ'
এক সময় ঘোষবাড়ির জমিদারি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। এই পুজো দেখতে তাই সেখান থেকেও বহু মানুষ আসতেন হাসনাবাদে। পরবর্তীকালে দু’টি দেশ আলাদা হওয়ায় কাঁটাতার আর কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে ওপারের মানুষ আর পুজো দেখতে এপারে আসতে পারেন না। রামেশ্বরপুরের এই জমিদার বাড়িতে তরুণ মজুমদারের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি 'নিমন্ত্রণ' সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল। এই ঠাকুরদালানে পরিচালক তরুণ মজুমদার থেকে শুরু করে অনুপ কুমার, সন্ধ্যা রায়-সহ বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী এসেছিলেন।
পুজো-গান-সমাজসেবা
দুর্গাপুজো এলে স্থানীয় মানুষের কৌতূহলের শেষ থাকে না। এই বাড়ির দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে গান বেঁধেছিলেন কলকাতার শিল্পীরা। রমরম করে সেই গান বাজে রামেশ্বরপুর জুড়ে। ঘোষবাড়ির সদস্য-কাম-পুজোর উদ্যোক্তা তুহিন ঘোষ জানান, এবাড়ির সদস্যরা শুধু পুজোর মধ্যেই নিজেদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখতে চান না, তাঁরা পুজোকে ঘিরে এলাকা-উন্নয়নের একাধিক পরিকল্পনা করেছেন। সারা বছর ধরে সমাজসেবামূলক কাজ করেন তাঁরা। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে পরিবারের যেসব সদস্য রয়েছেন, তাঁরা প্রতি বছর পুজোর সময়ে ঠিক ফিরে আসেন এবাড়িতে। পুজোর কদিন চলে নির্ভেজাল আনন্দ। একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া।
যাবারবেলায় স্নান নয়
এবং আজও ৩০০ বছরের রীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গেই পুজো হয় মা দুর্গার। যেমন, এবাড়ির দেবী বিসর্জনে আছে বিশেষ রীতি। প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, উমা বাপেরবাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময়ে নেয়ে-খেয়ে যাবেন না। তাই দশমীতে দেবী আর স্নান করেন না। পরিবারের সদস্যরা কাঁধে চড়িয়ে ইছামতীতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বিসর্জন দেন। আর দেবীর এই নিয়ম মেনে এবাড়ির মেয়েরাও শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় স্নান করেন না। আজও সেই নিয়মের কোনও ব্যতিক্রম নেই।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)