অনুপকুমার দাস: দুর্গাপুজো মানে আলো, থিম আর জাঁকজমক। কিন্তু অনেক কিছুই সেই আলো আর জাঁকের আড়ালে থেকে যায়। যেমন এই শিল্পী। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি কুমোরপাড়ার এক চিলতে টালির ঘরে আজও নিঃশব্দে এক ইতিহাস বেঁচে আছে। তাঁর বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই, পেশায় তিনি চালচিত্র শিল্পী।
আরও পড়ুন: জেলেদের জালে উঠে এসেছিল অদ্ভুত দর্শন এক
জীবন-জীবিকার লড়াই
প্রায় ৫০ বছর আগে স্বামী ষষ্ঠী পালের হাত ধরে এই শিল্পে তাঁর হাতেখড়ি। প্রথমে স্বামীর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু তাঁর। ২২ বছর আগে স্বামীর মৃত্যু। তার পরে সংসারের হাল ধরতে নিজেই পুরোদমে হাতে তুলে নেন তুলি। একসময় নিজে কাঁধে করে চালচিত্র নিয়ে যেতেন কলকাতার কুমোরটুলি, বিধাননগরে। তাঁর হাতে আঁকা চালচিত্র শোভা পেয়েছে কালীঘাট শ্রী সংঘ-সহ এশিয়ান পেইন্টস পুরস্কারজয়ী একাধিক নামী পুজো মণ্ডপে। একটি বিদ্যালয়ের উদ্যোগে তাঁর শিল্পকর্ম মিউজিয়ামেও সংরক্ষিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: মহাকালী কালীকুমারী নিত্যকালীর নামে সংকল্পেই
সামান্য বরাত, সামান্য টাকা!
কিন্তু আজকের ছবিটা অন্যরকম। বার্ধক্যের কারণে আর দূরে যেতে পারেন না। ডিজিটাল প্রিন্টের চালচিত্রের দাপটে হাতে আঁকা শিল্পের চাহিদাও তো তলানিতে। স্থানীয় কিছু পুজো ও জয়নগর থেকে যে সামান্য বরাত আসে, তাতেই কোনও রকমে চলে তাঁর। একটি চালচিত্রের জন্য পারিশ্রমিক মেলে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কাগজ জোড়া লাগানো থেকে রঙের প্রলেপ, সূক্ষ্ম তুলির কাজ-- সবটাই একা হাতে করেন তিনি।
সাবেকি প্রতিমার আসল সাজ
রেবা পালের ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে! জীর্ণ ঘরে এখন একাই থাকেন রেবাদেবী। শিল্পী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি বা সাহায্য জোটেনি, বার্ধক্য ভাতাই একমাত্র ভরসা। তাই তাঁর উত্তরসূরিরাও আর এই পেশায় আসতে চান না। তবুও স্বামীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরেই তিনি আজও এগিয়ে চলেছেন। এই আশিতেও এখনও প্রতিদিন তুলি ধরেন রেবা পাল। পুজো এলেই তাঁর ভাঙা ঘরে ব্যস্ততা বাড়ে! কারণ তিনি জানেন, তাঁর তুলির টানেই বেঁচে থাকবে বাংলার সাবেকি দুর্গা প্রতিমার আসল সাজ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)