অনুপকুমার দাস: নদীয়ার ইতিহাসে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির সঙ্গে রায়বাড়ির সম্পর্ক আত্মীয়তার। রাজবাড়ির বেয়াই বাড়ি হিসেবেই পরিচিত কৃষ্ণনগরের এই প্রাচীন রায়বাড়ি। আর সেই আত্মীয়তার সূত্র ধরেই ১৭৫০ সাল থেকে শুরু হয়ে এখানে আজও চলে আসছে রায়বাড়ির দুর্গাপুজো। আগে কালিকাপুরাণ মতে এখানে আর্য-অনার্য সংস্কৃতির মেলবন্ধন হিসেবে কাদা খেলা হত, যা এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
উল্টোরথে পাটে ঘা
জানা যায়, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের দ্বিতীয় পুত্র ভৈরবচন্দ্র রায়ের তিন কন্যা-- মহাকালী, কালীকুমারী ও নিত্যকালীর বিয়ে হয়েছিল এই রায়বাড়িতেই। মেয়েদের বাড়িতে ১৭৫০ সালে মহারানি ভবানীর উদ্যোগে শুরু হয় এই দুর্গাপুজো। সেই থেকেই পুজোয় তিন নাতনির নামে সংকল্প করার যে প্রথা শুরু হয়েছিল, আজও তা মানা হচ্ছে। রায়বাড়ির গৃহবধূদের নামেই এখনও সংকল্প হয়। রায়বাড়ির পুজোর রয়েছে একাধিক বৈশিষ্ট্য। উল্টোরথের দিন পাটে ঘা দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। মহালয়ার দিন হয় খড়ি-র কাজ। এখানে দেবী যুদ্ধবেশে, গায়ে বর্ম পরিহিতা এবং দেবীর বাহন ঘোড়ামুখো সিংহ।
বলি 'না'
রাজবাড়ির মতোই রায়বাড়ির পুজোতেও পুজোর ক'দিন পরিবারের সমস্ত সদস্য দেশ-বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। একসঙ্গে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ায় মেতে ওঠে গোটা পরিবার। প্রাচীন রীতি মেনে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে দশভুজার আরাধনা হয় এই বেয়াই বাড়িতে। এবাড়ির পুজো শাক্ত মতের পুজো। তাই বলি এ-রীতিতে গ্রাহ্য। কিন্তু এ-পুজোয় বলিপ্রথা আগে ছিল, এখন তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে, রোজ আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। এবং পুজোয় রোজই করা হয় বিশেষ হোমযজ্ঞ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)