কিরণ মান্না: দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর ও ১৫ অক্টোবরে দীঘা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘মা আসছেন’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনা। থাকছে ড্রোনের মাধ্যমে আতশবাজি প্রদর্শনী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণামতো রাজ্যের ন’টি জায়গায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে রয়েছে এই পূর্ব মেদিনীপুরের সৈকত শহর দিঘা। ইতিমধ্যেই দিঘার পাশাপাশি তাজপুর, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরকে রঙিন আলোয় সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা
জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, আগামী ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। প্রথম দিন বিশেষ আকর্ষণ শিল্পী শানের অনুষ্ঠান। ১৫ অক্টোবর মঞ্চ মাতাবেন শিল্পী অন্বেষা দত্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরা হবে। পুজোর সময় পর্যটকদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন জেলাশাসক।
উৎসব
এবারের দুর্গাপুজো অন্যান্য বছরের তুলনায় একেবারেই আলাদা! কারণ, চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর দিনসংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিনের যে উৎসব উদযাপিত হয়ে থাকে, এবার পঞ্জিকার বিশেষ তিথি পরিবর্তনের কারণে সেটা কার্যত ৬ দিনের উৎসবে পরিণত হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা হয়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার।
দুর্গার আগমন ও গমন
শাস্ত্রমতে, ২০২৬ সালে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটছে ‘ঘোটকে’ বা ঘোড়ায়। ঘোটকে আগমনের ফল হিসেবে জগতে অশান্তি কিংবা বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর দেবীর মর্ত্যলোক থেকে গমন ঘটবে ‘নৌকায়’। দেবী দুর্গার নৌকায় গমন অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। কেননা এটি জলবৃদ্ধি ও শস্যপূর্ণতার প্রতীক। অর্থাৎ, মর্ত্যবাসীর জন্য শস্য-শ্যামলা ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে ফিরবেন মা।
দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট
পঞ্চমী: ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার (মতান্তরে এই দিনেই ষষ্ঠীর বোধন অনুষ্ঠিত হবে)
ষষ্ঠী: ১৭ অক্টোবর, শনিবার (কোনো কোনো পঞ্জিকামতে এই দিনটি সপ্তমী তিথির অন্তর্ভুক্ত)
মহাসপ্তমী: ১৮ অক্টোবর, রবিবার (পঞ্জিকার ভিন্নতা অনুযায়ী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিন জুড়েই সপ্তমী তিথি অবস্থান করছে)
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর, সোমবার। এই দিনটিতেই মহাষ্টমীর মূল পুজো, অঞ্জলি ও বিশেষ সন্ধিপুজো সম্পন্ন হবে
মহানবমী: ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার
বিজয়া দশমী ও বিসর্জন: ২১ অক্টোবর, বুধবার
অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজো
দুর্গাপুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মহাষ্টমীর অঞ্জলি এবং সন্ধিপুজো। আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) মহাষ্টমীর দিনই অষ্টমীর অঞ্জলি। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর সকাল ৭টা ২৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে সন্ধিপুজোর শুরু। বলিদানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৭টা ৪৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ড। আর সকাল ৮টা ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সন্ধিপুজো সমাপ্ত। তবে, যাঁরা ‘বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা’ অনুসরণ করেন, তাঁদের হিসেবে সন্ধিপুজোর সময় একটু আলাদা। সকাল ১০টা ২৮ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ১৬ মিনিটের মধ্যে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে এই পুজো অনুষ্ঠিত হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)