দেবব্রত ঘোষ: শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো এবার ৩৪২ বছরে পদার্পণ করল। এখানে দুর্গারূপে পূজিতা হন পদ্মাবতী। শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোর ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এক আশ্চর্য স্বপ্নাদেশের কাহিনির সঙ্গে। আজও পুজোর তিন দিন রীতি মেনে হয় পাঁঠাবলি। দশমীতে দেবীর বিসর্জনের পর তাঁর মাথার মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের গৃহদেবী মা ব্যাতাইচণ্ডীকে। কয়েক শতক পেরিয়েও সেই রীতিতে পড়েনি বদলের ছাপ।
দেবীর পায়ের ছাপ
কথিত আছে শিবপুরের রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরীর কন্যা প্রতিদিন দুপুরে রাজবাড়ির কাছের বালি পুকুরে খেলতে যেতেন। সেখানে তাঁর নিত্যদিনের খেলার সঙ্গী ছিল পদ্মাবতী নামে এক ছোট্ট মেয়ে। দুই খুদে বন্ধুর খেলাধুলার পাশাপাশি পুকুরে নেমে স্নান করাও ছিল রোজকার অভ্যাস। কিন্তু সেই খবর রাজার কানে পৌঁছতেই ছন্দ কাটে। মেয়ের এমন কাণ্ডে রেগে গিয়ে রাজা জানতে চান, কে এই পদ্মাবতী? কোথায় তার বাড়ি? কেনই বা প্রতিদিন রাজকন্যার সঙ্গে দেখা করতে আসে সে? রাজকন্যার মাধ্যমেই তাকে রাজদরবারে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু রাজার নির্দেশকে কার্যত উপেক্ষা করে পদ্মাবতী জানিয়ে দেয়, প্রয়োজন মনে করলে সে নিজেই রাজার সঙ্গে দেখা করবে। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ে রাজার। পেয়াদাদের পাঠানো হয় বালি পুকুরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা কাউকেই খুঁজে পাননি। পুকুরের ধারে পড়েছিল শুধু একটি শিশুর পায়ের ছাপ। সেই রহস্যের উত্তর অবশ্য মিলেছিল ওই রাতেই। রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরীর স্বপ্নে দেখা দেন পদ্মাবতী। জানান, তিনি কোনও সাধারণ মেয়ে নন, স্বয়ং দেবী দুর্গা। রাজকন্যার বন্ধু রূপেই প্রতিদিন দুপুরে তিনি পুকুরপাড়ে আসেন।
১৬৮৫ সালে
এরপর দেবীর নির্দেশেই ১৬৮৫ সালে, ১০৯২ বঙ্গাব্দে রায়চৌধুরী বাড়িতে শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই থেকে বংশপরম্পরায় বৃহন্নন্দিকেশর মতে চলে আসছে দেবী পদ্মাবতীর আরাধনা। পরিবারের বর্তমান সদস্য অরুণ রায়চৌধুরী বলেন, শিবপুর রায়চৌধুরী পরিবারের দেবত্তোর সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তি থেকে যে রোজগার হয়, তাতেই পুজো করা হয়। জন্মাষ্টমীতে ঠাকুরদালানে কাঠামোপুজো হয়। সেখানেই তৈরি হয় প্রতিমা। ষষ্ঠীর অনেক আগেই হয় দেবীর বোধন। তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজো। দুর্গা দালান-সংলগ্ন একটি ঘরে রয়েছে বেলগাছ। সেই বেলঘরেই রাখা হয় দেবী দুর্গার ঘট। পুজোর চার দিন দেবীর মূর্তির পাশাপাশি পুজো করা হয় মূল ঘটকেও। সপ্তমী অষ্টমী ও নবমীতে রীতি মেনে হয় পাঁঠাবলি। অষ্টমীতে হয় কুমারী পুজো। দশমীর দিন ঘট ও প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে দেবীর মাথার মুকুট এনে পড়ানো হয় কুলদেবতা মা ব্যাতাই চন্ডীকে। পুজোর ক'টা দিন দেশ-বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ফিরে আসেন। চারটে দিন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই।
আরও পড়ুন: গড়জঙ্গলের গায়ে-কাঁটা-দেওয়া অলৌকিক পুজো!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)